অমূল্য রঞ্জন বিশ্বাস এর এক গুচ্ছ কবিতা

একটা সংক্ষিপ্ত জীবনী
——————————–
অমূল্য রঞ্জন বিশ্বাস
অমিয়

তিন কন্যা এক পূত্র
স্বামী-স্ত্রী পাঁচজনের অভাবের সংসার।
দুটি কন্যার বিবাহ দিল কোনমতে
তবুও ঘোচেনা যেন তাদের অর্ধাহার।।
পুত্র কনিষ্ঠ দ্বিতীয় শ্রেণীতে পঠন-পাঠন
শুরু করলো যখন।
চির নিদ্রায় নিদ্রিত হয়ে গেল কর্তা
সংসার ছেড়ে আজীবন।।
মাথায় নেমে এলো
ঘোর অন্ধকার।
অর্ধাহারে-অনাহার করিছে গ্রাস
তাহাদের সংসার।।
তৃতীয় শ্রেণীর পড়াশোনা
তাহার বন্ধ হয়ে গেল।
পরের বছর চতুর্থ শ্রেণীতে ভর্তি হয়ে
পঠন-পাঠন পুনঃরায় সে শুরু করিল।।
বার্ষিক পরীক্ষায় প্রথম স্থান দখল করে
পঞ্চম শ্রেণীতে ভর্তি যখন হলো
তারপর আর্থিক অভাবে
পড়াশোনার ছাড়তে বাধ্য হল।।
রাস্তায় রাস্তায় হকারি করে
ফেরিওয়ালা সেজে।
ছোলা ভাজা,নারকেলের ফালি,
নানান জিনিস আর বাদাম ভেজে।।
এইভাবে কেটে গেল
প্রায় পাচ-ছয় বছর।
বাড়ি থেকে বেরিয়ে যখন দেখে
বাচ্চারা পড়াশোনা করছে ফেটে যায় বুক তাহার।
ঈশ্বরে সে মনে মনে বলে
হে ঠাকুর আর আমার পড়াশোনা হল না!
একদিন শুনিতে পাইল বয়স্ক শিক্ষা কেন্দ্রে
চারটি ক্লাস হয় রাত্রে।
পঞ্চম,সপ্তম,নবম, দশম সেখানে ভর্তি হল সে সপ্তমে,
সারাদিন হকারি করে সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে।
খাওয়া-দাওয়া সেরে আবার স্কুলে যায়
রাত 11 টা পর্যন্ত ক্লাস করে।।
নবম দশম প্রতি ক্লাসে
প্রথম স্থান অধিকার করে সে।
দুর্ভাগ্যবশত মাধ্যমিক পরীক্ষা
হয়না ওখানে
থেমে গেল পড়াশোনার গতি তার।
জীবনে খুব বড় হওয়ার ইচ্ছা ছিল
অর্থাভাবে যেন সব মুহূর্তে গুলিয়ে গেল।
থেমে গেল জীবন চলার গতি পথ
আলো নিভে আঁধার তার জীবনে নেমে এলো।।
ঈশ্বরের এটাই প্রার্থনা করি গরীবের ঘরে
উচ্চাকাঙ্ক্ষীত সন্তান জন্ম দিও না।
অর্থাভাবে সুন্দর তাহাদের জীবনটাই
বৃথা চলে যাবে রইবে বুক ভরা বেদনা।।
বহু গরিবের সন্তান বড় হবার লাগি
করিতেছে হাহাকার।
কে বুঝিবে তাহাদের বেদনা
এটাই কি ভাগ্য? না পরিহাস বিধাতার!!

 

 

  1. কন্যা জন্ম অপরাধ নয়
  2. ———————————–
  3. অমূল্য রঞ্জন বিশ্বাস
  4.        অমিয়

কন্যা সন্তান কে কেন

করো অবহেলা?

কন্যা ছাড়া বংশ বৃদ্ধি

সম্ভব হবে না।।

মা, বাবা, দিয়ে যেমন

জন্ম হয় সবার।

জন্ম ক্ষেত্রে দুজনার

সমান অধিকার।।

রজঃ, বীর্যে, বংশ বৃদ্ধি

একটি ও কম নয়।

তবে কেন কন্যা সন্তান

নিতে এত ভয়?

পিতা,মাতার, ভয়ের বোধহয়

একটাই কারণ।

মেয়ে হলে দিতে হবে

লক্ষ টাকা পন।।

সরকারি নিয়মে যদিও

পন্ অপরাধ।

প্রশাসনের করা উচিত

পনের প্রতিবাদ।।

সবাইতো ছেলের বাবা

টাকারই তো লোভ।

রক্ষকই ভক্ষক সেজে

মেয়ের বাবা কে মারে কোপ

একটা থেকে দুটো কন্যা

জন্ম নিলে ঘরে।

সাধারণতঃ মা, বাবা রা

দিশেহারা হয়ে পড়ে।।

কন্যা জন্ম বন্ধ হলে

পুরুষ ই সকল।

মানব হবে নিশ্চিহ্ন সেদিন

রইবে পশু, পাখির দল।।

সকল পিতা মাতা র কাছে

আবেদন জানাই।

পুত্র ও কন্যা সবার কাছে

যেন সমান অধিকার পায়।।

2.দানবের দাপট

——————-

অমূল্য রঞ্জন বিশ্বাস

অমিয়

 

অতি সূক্ষ্ম দানব আমি

পারিলে কর সংহার।

ধনি, গরীব, ডাঃ, বিজ্ঞানি

কেউ পাবে না ছাড়।।

মুখে ,নাকে,মাস পরিলে

চোখের পাতা মেলা।

চশমা পরিলে চোখে

কানের দরজা খোলা।।

পাঁচ, ইন্দ্রিয় পাঁচটি ফুটো

সব করিলে বন্ধ।

সহস্র লোমকূপে পথ

আমি তো নই অন্ধ।।

ছেলে খেলা খেলছো তোমরা

রাস্তাতে আমার।

জেনে রেখো আমাহতে

রক্ষা নাহি আর।।

ইতিপূর্বে আমার মত

বীর জন্মায়নি ভবে।

সারা বিশ্বে জীবকূল সব

ছাড় খাড় হয়ে যাবে।।

দেহে প্রবেশ করে করি

ফুসফুসে আঘাত।

সর্বাঙ্গে ছড়িয়ে ঘটাই

তোমাদের পরমাদ।।

মাছ,মাংস,খাইনা আমি

নিরামিষ ভোজী।

বসবাস করার জন্য

ফুসফুস টাই খুঁজি।।

সেটাও যদি বন্ধ করো

কোথায় থাকি বলো?

আমায় নিয়ে এবার তোমরা

শ্মাশান ঘাটে চলো।।

3.একলাই চলার পথ

—————————–

অমিয় বিশ্বাস

——————————-

 

একলা চলো যদি কেউ

ডাকে না দেয় সাড়া।

চীরন্তরের পথ খুঁজিতে

একলা রুখে দাঁড়া।।

অচেনা অজানা পথে

পদে,পদে বাধা।

একাগ্র চিত্তে চলেরে তুই

মন করে দে সাদা।।

গিরি,ভুতল, পারাবার হবি

কঠিন পথে পার।

চতুর্দিকে দেখবিরে তুই

আঁধারে আঁধার।।

বালু চিস্থানে মরিচিকা

দেখবি অনেক বার।

তেষ্ঠা নিবারণে পিছে

যাসনা খবর দার।।

সে দিন রে তুই হবি মানব

যে দিন বিশ্ব করবি জয়।

দেখবি সে দিন দূর হবে তোর

লজ্জা, ঘৃণা, ভয়।।

কোটি,কোটি, অবোধ সন্তান

করছে হা-হা কার।

বট, বৃক্ষের মতো ছায়া

জোগাবি তাহার।।

সাগর যেমন ধরে তাহার

উদরে জীবকূল।

গিরি, বৃক্ষ, সাগর হবি

সবকিছুর তুই মূল।।

বিশ্ব সেবায় যে দিন রে তুই

আহুতি হবি নিজে।

অগনিত মানব সে দিন

রইবে রে তোর পিছে।।

সত্য ব্রত,সৎ চিন্তা

সত্য মুখের বাণী।

শোক,দু্ঃখ সরে যাবে

ঘুচবে মনের গ্লানি।।

সবার উপর বিরাজ হবি

ত্যাগ করে আমার।

ঞ্জানের আলোয় দেখবি সত্য

মিথ্যা নাহি আর।।

সৎ সাহসী হবে সমাজ

সবার-উচ্চ হবে মন।

গরীব, দুঃখি, রয়েছে পিরিত

সবাই তোর আপন।।

সকল হবি তুই রে সেদিন

বিশ্ব পিতা, মাতা।

সন্তান রক্ষীতে হবি

সবার উপর ছাতা।।

দীঘিতে জলজ উদ্ভিদ

সৈবাল স্থির।

স্পর্শ করিতে নারে

পদ্ম পত্রে নীড়।।

সেই রুপ হবে যেদিন

সু-দৃষ্টি নয়ন।

ধরনি হবে উচ্ছ্বাসিত

তোমায় পাইয়া তখন।।

4ভারত স্বাধীনের প্রধান সেনাপতি

—————————————-

যার লক্ষ্যে ভারত আজ

হয়েছে স্বাধীন।

বৃটিশ যাহার হুংকারে

হয় পরাধীন।।

তিনি কে জানো?

যাহার লাগিয়া আজ

সুখী মোড়া সবে।

নতুবা কেউ জানিত না

ভারত স্বাধীন কবে হবে।।

তিনি একজন ই;

মহাপুরুষ, দেবদূত

বলিলেও হইবে না ভুল ।

নিজ গৃহ ত্যাগীয়া ছিলেন

রক্ষিতে ভারত মায়ের

জাতী কূল।।

তিনি আর কেউ নয়!

কাতারে, কাতারে যখন

হয় বলীদান।

ভারত রক্ষিতে পারিদিলেন

সে জার্মান।।

বেতার আসিল ভেসে!

ভয় নেই ভারত বাসী

বলছি আমি সুভাষ।

এক ফোঁটা রক্ত দাও

আমি দেবো স্বাধিনতা

দিবস।।

চির জীবি হও তুমি

অলক্ষ্যে রয়েছে দাঁড়িয়ে

মোদের শিয়রে।

জয় হিন্দ বলো সবে

ভারত মাতারে।।

5.চারিদিকে শুধুই আর্তনাদ

অমূল্য রঞ্জন বিশ্বাস *

* ( অমিয়)

 

সারাবিশ্বে মানবজাতি

ত্রাহি ত্রাহি রবে।

লোকালয়ে কাঁদিছে যেন

একত্রীত সবে।।

ভূমিকম্প, ঘুর্নিঝড়

সুনামির বাহার।

বিশ্বযুদ্ধ করিতে নারিবে

এত বড় সঙ্হার।।

পিতা,মাথা, স্ত্রী,পূত্র

প্রিজন হারিয়ে।

সর্বশান্ত হয়ে যেন

রয়েছে দারিয়ে।।

বাক্,রুদ্ধ,কর্নে, শ্রবণ

স্মৃতি শক্তি শেষ।

চক্ষু দুটি রয়েছে যেন

দৃষ্টি নিরুদ্দেশ।।

দুর্ঘটনায় যদি কারুর

সন্তান হারায় প্রান।

পরিবার তার অঙ্গ, প্রত্যঙ্গ

অন্যে করে দান।।

মনে ভাবে অন্যের মধ্যে

রয়েছে জিবীত।

ফিরিয়া আসিবে না সেই

হয়েছে যার মৃত্যু।।

সেই রূপে স্বজন যাহা

হারায়েছি সবে।

বর্তমানে পরিস্থিতির চাপে

ভুলে যেতে হবে।।

জিবীত রহিয়াছে যত

বিশ্বে জনগণ।

ঈশ্বরে কামনা তাদের

বাচাও জীবন।।

জীবন আর না বধীতে পারে

মারন ভাইরাস।

নতুন করিয়া কারুর

না হয় শর্বনাস।।

সতর্ক থাকুক সবাই

এই কামনাই শেষ।

বিশ্বে আসুক শান্তি ফিরে

সুখে থাকুক দেশ।।

6.বিষাক্তের ছোবল হইতে রক্ষা নাহি আর।

————————————–

অমূল্য রঞ্জন বিশ্বাস

অমিয়

 

রাসায়নিক সংমিশ্রণে

শাক সব্জি সবার সনে

বিষাক্ত যেন হচ্ছে সকল।

গাছের ফুল ফল

নদী পুকুরের জল,

আশা কেবল উচ্চমানের

ফসল।।

 

 

 

বিজ্ঞান জানায় বারে বারে

রাসায়নিক ব্যবহার না করে

জৈব সার করো ব্যবহার।

জমি উরবর শক্তি ফিরে পাবে

বিষাক্ততা দূরে যাবে,

ফসল কমার ভয় নাই তো তোমার।।

 

 

শাক,সব্জি,মৎস্য খেয়ে

দুর্বলতা আসছে ধেয়ে,

চল্লিশোর্ধ হলে পরে হেন,

হার্ড,ক্যান্সার, স্ট্রোক

প্যারালাইসিস,হৃদরোগ

বড় বড় অসুখে আক্রান্ত হয় যেন।।

 

ওষুধ খাই যত গিলে

স্বস্তি তখন নাহি মিলে,

মৃত্যু পর্যন্ত নিয়ে যায় ঠেলে।

বিষ ব্যবহার করছেন যারা

রক্ষা কিন্তু পায় না তারা,

পড়তে হয় বিষাক্তের ছোবলে।।

 

সাপুড়ে যেমন ফনী ধরে

খেলা দেখায় মজা করে,

সুযোগ পেলে রক্ষা নাই আর।

এক ছোবলে করে পার

সুযোগ দেয়না সহিবার,

করে দেয় ভবনদী পার।।

 

করিলে ব্যবহার রাসায়নিক যত

অকালমৃত্যু বাড়বে দ্রুত,

রক্ষা পাবে না বৃদ্ধ বনিতা কেউ।

হবে নতুন ভাইরাসের উত্থান

নিরীহ গণের যাবে প্রাণ

উত্তাল হবে সমুদ্রের ঢেউ।।

 

 

এটি বিশ্বযুদ্ধের থেকেও

ভয়ঙ্কর

রক্ষা কেউ পাবেনা তো আর,

আপনা আপনি হয়ে যাবে শেষ।

স্বচ্ছ নির্মল দেশটি গড়া

আমাদের এই বসুন্ধরা,

ধ্বংস হবে সুন্দর পরিবেশ।।

7.যুবকরাই দেশের ভবিষ্যত।।

—————————————-

অমূল্য রঞ্জন বিশ্বাস

অমিয়

 

জেগে উঠ যুবকের দল

তোমরা ধরো দেশের হাল।

ভবিষ্যত কে করিতে নির্মল।

 

ধ্বনি, গরীব, ভেদাভেদ ভুলে

সবাইকে টেনে নিবে কোলে

আজযে সমাজ বড়ই দুর্বল।।

 

 

চলিছে গরীব শোষণ তন্ত্র

ভারত বর্ষ গনতন্ত্র

সাধারনের অধিকার কোথায়।

 

 

দিবা,রাত্র মরিছে খেটে

অন্ন নাহি দুবেলা জুটে

ছিন্ন বস্ত্র খানি যে যোগায়।।

 

ধনিরা সুখে যে ঘরে

ঘরটি তৈরী শ্রমিকরাই করে

তৈরীর পরে অধিকার নাহি আর।।

 

রাত্রে মাথায় নাইরে বালিশ

কোথায় তাহারা করবে নালিশ

মনের মধ্যে শুধুই হাঁ,হাঁ,কার।।

 

জাগো যুবক, যুবতী

তোমরাই দুর্গতদের গতি

হাত ধরে তাদের কর পার।

 

অন্ধকারে রয়েছে ওরা

আজ এঁরা সর্ব সারা

নিজের বলতে নাহি কিছু আর।।

 

কি পাপ করেছে ভবে

তারাই শুধু দুঃখ সইবে

সুখ বিলাসে রবে কিছু লোক।

 

অন্যায়ের করিলে প্রতিকার

কপালে জোটে শুধুই মার

২-৪ কে মারা গেলেও নাহি

দুঃখ,শোক।।

8.কোনো ভাইরাসই নতুন নয়

—————————————-

অমূল্য রঞ্জন বিশ্বাস

অমিয়

 

শ্রোষ্ঠা যখন সৃষ্টি করে

ধরনী আমার।

অগ্নি পিন্ড ছিল নাকি

শরীর তাহার।।

সূর্যের বিচ্চুত্য অংশ

গ্রহের রুপ ধরে।

তিলে, তিলে শিতল হয়

বহু বৎসর পরে।।

জল,গুল্ম, প্রানি সকল

পরে হলো সৃষ্টি।

ধরনী শিতলে হয়

অবিরত বৃস্টি।।

জলে, স্থলে, না না প্রজাতির

প্রানী সকল।

বিশ্ব মাঝে শ্রেষ্ঠ প্রানী

মানুষই কেবল।।

সৃষ্টি, সংহার একিসাথে

পূর্বের ইতিহাস

সংহারে জন্মেছে তখনই

এই কঠিন ভাইরাস।।

সহস্রাধিক রুপে করে

আক্রমণ সবারে।

আঘাত হানতে প্রবেশ করে

জীবের ভিতরে।।

স্থুল, চক্ষে করিতে নারিত

তাহাকে দর্শন।

কাতারে, কাতারে তাই

হইত মড়ন।।

বর্তমানে আধুনিক যন্ত্রে

সে পরিল ধরা।

কঠিন ভাইরাস এখন

হয় যে দিশেহারা।।

একের পর এক ভাইরাস কে

দেয় বিসর্জন।

লড়াইয়ে সফল আজ

বিশ্বের বিঞ্জান।।

9.মনে যা ভাবি তাহাই শুনতে পাই।

————————————

অমূল্য রঞ্জন বিশ্বাস

( অমিয়)

 

জ্যৈষ্ঠমাসে প্রখর রৌদ্র

দিগন্ত জোড়া মঠ।

দুইটি ভাড়ে বেচিতে যায়

অতি দুরন্তের পথ।।

অসহ্য তাপের জ্বালা

সহিতে না পেরে।

ক্ষণিক আশ্রয়ের আশায়

গেল বট বৃক্ষের ধারে।।

শীতল বাতাসে যেন

জুড়াইলো প্রাণ।

ডালে বসে কোকিল

নিজের মনে করে গান।।

খুব সুন্দর কোকিল তুমি

এসো মোর ধারে।

আদা, রসুন, পেঁয়াজ যেন

বলছো বারে বারে।।

ইতিমধ্যে আর এক ভাড়ী

আসিল ধাইয়া।

প্রখর রৌদ্রে গাছের ছায়ায়

পরিল বসিয়া।।

কুহু কুহু ডাকছে কোকিল

মন করে সে সাদা।

ভাড়ী ভাবছে বলছে যেন

হাঁড়ি কড়াই খাদা।।

এক ভাড়ী বলছে কোকিল

রসুন পেঁয়াজ আদা।

অন্যে বলে কোকিলের ডাক

হাঁড়ি কড়াই খাদা।।

এই বচসা দুই জনার

বাঁধিলো যখন।

ইতিমধ্যে হাজির সেথা

সাধু মহাজন’।।

সাধু বলে একি তোমরা

বচসা কেনো করো।

আমি শুনছি কোকিলের ডাক

একটু ধৈর্য ধরো।।

কিছুক্ষণ সাধু বাবা

কান পাতিয়া রয়।

পেঁয়াজ, আদা, করাই,খাদা

কিছু নাহি কয়।।

ঈশ্বরের সৃষ্টি কেবল

সবই তাহার দান।

হরে কৃষ্ণ রাধা কোকিল

করছে গুনো গান।।

রসুন,পেঁয়াজ,আদা,কেউ

হাঁড়ি,কড়াই, খাদা।।

সাধু শুনে কোকিল কন্ঠে

হরে কৃষ্ণ রাধা।।

ইতিমধ্যে আর এক পথিক

দূর হইতে দেখে।

বচসা হইতে হাতা-হাতি

তিনে এক সাথে।।

পথিক শুনিল ডাক

দিয়ে এক ধ্যান।

কোকিল সে নিজের মনে

গাহিতেছে গান।।

ডাকিয়া কহে সবে

শুনো মোর কথা।

ব্যাপ্ত করিছে সে

তাহার মনের ব্যথা।।

বসন্তের ডিম পাড়ার লাগি

কাকের বাসা খুঁজে।

বচসা কেন করো সবে

কিছু নাহি বুঝে।।

যার দিকে যার মন থাকে

সেটাই সে শুনে।

তাকিয়ে থেকেও অনেক কিছু

দেখিনা নয়নে।।

10.নিঃস্বার্থে ভালোবাসো

——————————

অমূল্য রঞ্জন বিশ্বাস

অমিয়

 

জেলখানাতে বন্দি করে

যদি কাউকে ভালো খাওয়া-দাওয়া দেয়।

সম্পূর্ণ সুখ-স্বাচ্ছন্দ ছেড়ে

বাইরে বেরোতে খুবই কিন্তু মন চায়।।

ঘুরে বেড়াবো মনের সুখে সবার সাথে

মিলেমিশে যখন যেথায় যাব।

পেটপুরে দুবেলা খেতে না পেলেও

নিজের স্বাধীনতা আমি পাব।।

বন্দী থাকা জিয়ন্তে মরা

সবার বন্ধ হয়ে গেছে শ্বাস।

বাহিরে বেরোবার লাগি

মন ছটফট করে হয় যে ঊর্ধ্বশ্বাস।।

এইরূপে যখন আমরা

খাঁচায় পাখি বন্দি করি।

উহারা ও কিন্তু জীব, স্বাধীনতা চায়

মনে ভাবে খোলা আকাশে উড়ি।।

কিন্তু আমরা ওদের মনের ব্যথা না ভেবে

সৌন্দর্যের লাগি করি বন্দি।

উহাদের জীবনটা ছটফট করতে দেখে

আমাদের লাগে আনন্দ।।

এইগুলি পাপ, মহাপাপ

তাহাদের জীবনটা করে দিচ্ছি ছারখার।

বিবেকানন্দের বাণী,

জীবে প্রেম করে যেইজন সেইজন সেবিছে ঈশ্বর।।

বন্দি রেখে প্রেম করাটা মোটেই ভাল কথা নয়।

সমন্য সৌন্দর্যের লাগি

উহাদের জীবনটা বিলুপ্ত হয় প্রায়।।

বন্দী না করে যদি কোন প্রাণীকে

ভালোবাসো দিয়ে মন প্রাণ।

সেটাই হবে যে সেবা

পাবে ঈশ্বর দর্শন।।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *