ছেলের মৃত্যু

সফিউল ইসলাম —

আজ অনেক দিন পর বাড়িতে ফিরছে খোকা ।মা বেশ আনন্দিত, তার সাথে ফ্রি চিন্তা ।কখন আসবে খোকা বাড়ির পথ চেয়ে আছে জনম দুঃখী মা।ঐদিকে নানান রকম খাবার রান্নায় ও ব্যস্ত, এরই মাঝে কিছু কখন পর পর বাড়ির পথের দিকে ফিরে তাকায়।আবার ফোনে  টুক–টাক কথাও হচ্ছে জিঙ্গাস ও করলো কত দূর এলি খোকা ।রাত প্রায় বারোটা বাজে এর ঠিক ঘন্টা খানিক আগে কথা হলো খোকার সাথে । অপেক্ষার প্রহর গুনছে মা। শেষই হচ্ছে না যেন অপেক্ষার পথ । রাত ঠিক একটা বাজে হঠাৎ মায়ের ফোনে বেজে উঠল “খোকা তুমি ছোট্ট শিশু,আদর নিও মায়ের। এরই মাঝে মা রিসিভ করো মায়ের কথা বলার আগেই মায়ের মন জানতে পারলো। এরই মধ্যে ছেলে বলে উঠলো মা খুব কষ্ট করে অনেক দূর এগিয়েছি ,তবে সাধ্য নেই মা তোমার মাখামাখা মুখ খানি একটি বার চাইবার। বিধাতার হয়তো চায়না  তবে খুব ভালোবেসে একটি নীল শাড়ি কিনেছিলাম তোমার জন্য বাবার জন্য ও খুব সুন্দর একটি লুঙ্গি ও পাঞ্জাবি কিনলাম তবে হয় তা পরিয়ে দেখা হবে না। চোখ গুলো অনেক ঘুম কিনে নিয়েছে । খুব ঘুম পাচ্ছে ঘুমিয়ে যাবো ক্ষমা করে দিও  মোরে যদি কোন ভুল ক………….রি, চিরবিদায় নিলো আসিফ আকবর । মায়ের কোলে শুয়ে আর শুনা হবেনা দুষ্টু ছেলেদের গল্প, হবে না শুনা বীর মুক্তিযোদ্ধের  উপন্যাস,শুনা হবেনা আরিফ আজাদের আরিফ আলির জীবন গাঁথা গল্প, অগ্রপথিক বেশে পাড়ি জমালো আসিফ আকবর। জমিদার না তার বাবা তবুও কিছু জায়গায় পূর্ণ করেছে ভিন্ন ধরনের মাটি দিয়ে, নতুন করে তৈরি হলো আসিফ আকবর এর ঘর, আনা হলো শূন্য পথিকের লাশের কফিন,শুনছে মানুষ পরিবারের হাজারো আর্তনাদ । কিন্তু তা দেখে ও আসিফের নেই কোন সাধ্য উঠিবার ।বলিতে মাকে কেঁদোনা মা আবারো তোমার খোকা ফিরবে তোমার বাড়ি শুনবে  লেখক অংকনের নতুন নতুন কাহিনী। আর শুনবে না লেখক –+++——- এর রম্য চোরের কাহিনী। পড়া হবে না __&&&&__ তবু মনে রেখো। এরই মধ্যে জানাজা সম্পন্ন করা হলো  ব্যস্ত সবাই কে কার আগে মাটিতে পুঁতে রাখবে আসিফের শূন্য দেহ। অবশেষে শুয়ে দেয়া হলো তাহার নতুন ঘরে। সম্পূর্ণ হলো মাটি চাপা দেয়ার কাজ। কিছু খনের মধ্যে হারিয়ে ফেললো তাহার আপন জন।

মনে পড়ে খুব করে ঐ কথা খানি ,

আজ তোর সবি আপন, ছলনাময়ী পৃথিবী ঘর।

কাল তোর সবি পর , আঁখি দ্বয় ও শূন্য চর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *