তিথির স্বপ্নে ‘২১শে ফেব্রুয়ারি ‘

লিটন রায়।

 

তিথি সবেমাত্র শিশু -শ্রেণিতে পড়ে অ, আ,’ক,খ ঠিকঠাক বলতে পারে না। ফেব্রুয়ারি ০১ কোথা থেকে যেন কয়েকটি ফুলের গাছ নিয়ে আসলো। সে খুবেই আনন্দিত। গাছ গুলো রোপণ করা নিয়ে যেন তার ভীষণ ব্যস্ততা। গাছ গুলো এখণ খুবই ছোটো।গাছ গুলোর যত্ন নেওয়া, দেখাশোনা প্রতিদিন পানি দেওয়া নিয়ে সে অনেক কর্মঠ। সে গাছ গুলোর সাথে প্রতিদিন কথা বলে বিড়বিড় করে ঠিক বোঝা যায়না কী বলে। ধীরেধীরে গাছ গুলো তার যত্নে বড় হতে শুরু করল। এভাবেই তার দশ দিন হয়ে গেল গাছ গুলো অনেক সুন্দর হয়েছে।সে গাছ গুলোর পাশে বসে কী যেন বলছে।আমি তিথির পাশে গিয়ে দাঁড়ালাম। সে বলছে _”ও আমার প্রিয় গাছ দিদিভাই আমাকে ফুল দিবেতো? আমি কিন্তু আমার শহীদ ভাইয়ের স্মৃতি স্মরণে ফুল দিব শহীদ মিনারে। ” আমি অবাক! আর আনন্দে দিশেহারা হয়ে গেলাম। বোনকে জিজ্ঞেস করলাম _আচ্ছা বোন ফুল তুমি কী করবে?

সে উত্তর করল_ দাদা, ২১শে ফেব্রুয়ারি ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ‘ এই দিনে আমাদের ভাইয়েরা বাংলা ভাষার জন্যে জীবন দিয়েছিল সালাম,বরকত, শফিক, জব্বার আরও নাম না’জানা অনেকেই। আমি তাদের স্মৃতি স্মরণে ফুল দিয়ে তাদের স্মরণ করব। তাই আমার অনেক ফুল দরকার।

আমার চোখের কোনে জল চলে এলো চোখ ছলছল দেখে বোন আবার বলছে দাদা তুই কাঁদছিস কেন? আমি বললাম নাতো কাঁদছি না। আচ্ছা বোন _তুমি এই কথা গুলো কথায় শুনলে?_ দাদা আমার স্কুলে সে বুড়ো স্যারটা বলছে তিনি আমায় অনেক ভালোবাসে আমাকে আদর করে পাখি বলে ডাকে। ও আচ্ছা বোন তুমি তোমার গাছের খেয়াল কর,আমি আসি। এই বলে চলে এলাম বাইরে। আমিও তার গাছ গুলোর খেয়াল রাখতে শুরু করলাম। এভাবেই ২০ ফেব্রুয়ারি চলে এলো গাছ গুলোতে ফুলের কুড়ি ধরেছে কিন্তু ফুল ফুটতে আরও দুই-তিন দিন লাগবে। তিথি সকালে আবার গাছের সাথে কথা বলছে আর কাঁদছে,বলছে_ “গাছ দিদিভাই ফুল দিলানা তুমি কিন্তু মোটেও ভালো না।” আমি শুনছি আর মনে মনে হাসছি। পরেরদিন ২১ ফেব্রুয়ারি তিথি স্বপ্ন মিনারে ফুল অর্পণ করবে কিন্তু তারতো ফুল নেই কারণ গাছে ফুল ফুটেনি। আমি দোকান থেকে কিছু ফুল কিনে আনলাম সযত্নে রেখে দিলাম। ২১ফেব্রুয়ারি তিথির ভীষণ মন খারাব সে গাছের কাছে বসে কাঁদছে। আমি ফুলগুলো নিয়ে তিথির কাছে গেলাম বললাম বোন চলো, আমি যাব তোমার সাথে তোমার স্কুলে। বোন অনেক খুশী হয়ে আমাকে জড়িয়ে ধরলো। দুজনে স্কুলে এসে শহীদের স্মরণ করলাম ফুল দিয়ে শহীদের প্রতি সন্মান, ভালোবাসা,প্রিতি, আর তাদের স্বর্গবাসী আত্মার মঙ্গলে প্রার্থনা করলাম। সঙ্গেসঙ্গে মনে বেজে উঠলো সে গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙ্গানো ২১শে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি?। ঠিক তখনি তিথি সেই গান মুখে বলে দিল। বাংলা ভাষার সুরে হৃদয় ভরে গেল। তিথিকে ঘাড়ে নিয়ে দুজনে বাড়িতে আসলাম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *