বন্ধুত্বের তৃতীয় জন ,আলীহায়দার আহমেদ

সেই তৃতীয় শ্রেণি থেকে দু,জন এক সাথে লেখা পড়া করে আসছি।

তবে দু,জনের পরিচয় ঘটে ষষ্ঠ শ্রেণিতে এসে।তা ছাড়া আগে ক্লাসে বা খেলার মাটে দেখা হলেও দুজনের মধ্যে কোনোদিন,কথা বার্তা বলা হয়নি। একদিন ক্লাস টেষ্ট পরীক্ষা হচ্ছে শ্রেণি কক্ষে,সবাই লেখা প্রায় জমা দিয়ে দিছে।কিন্তু এখনও আমি কিছু লেখতে পারি নাই! কারণ,আমি লেখা পড়া করতাম না বেশী! খুব অলস ছিলাম। হঠাৎ সে মানে মিনহাজ,আমাকে ইশারা দিয়ে তার খাতাটা দিয়ে দিল। বেশ আমি ও লেখা শুরু করলাম তার খাতা দেখে,সময় শেষ হওয়ার আগে জমা দিলাম।নয়তো আজ আমার কি অবস্তা হতো আল্লাহই ভালো জানেন।

স্যার খাতা নিয়ে চলে গেলেন, তারপর তার দিকে থাকিয়ে প্রসন্নমুখ নিয়ে বল্লাম ধন্যবাদ বন্ধু আজ তর জন্য বিপদ থেকে বেঁচে গেলাম।যেই না বন্ধু বলিলাম সে সাথে সাথে হাত বাড়িয়ে দিল।তখন আমি বললাম কী?সে বলিল আমার বন্ধু হবি? তখন আমি মৃদু হাসি দিয়ে বন্ধু হয়ে গেলাম।আসলেই এমন বন্ধু হাত ছাড়া করতে নেই।এভাবেই ধীরে ধীরে গভীর হতে লাগলো দুই বন্ধুর বান্ধবের প্রীতি। বেশ ভালো বন্ধু হয়ে উটেছি দুজন!আর এই বন্ধুত্বের মাঝে তৈরি হয় চরম বিশ্বাস।তা দেখে অনেকেই লেফাফাদুরস্তি করে বটে।কিন্তু এতে কার কী আসে যায়!আমাদের বন্ধুত্ব যে আত্বার সাথে মিশে গেছে,হয়ে গেছে গোলাপময় গৌরব মন্ডিত।কেউ চাইলেও এই বন্ধুত্বের বাঁধন ছিন্ন করতে পারবে না আল্লাহ ছাড়া। কারণ দুজন দুজনাকে ছাড়া নির্জীবতা চাইলেও একাকী নওরোজ করতে পারব না।প্রতিটি দিনেই দুই বন্ধুর জন্য রাখিবন্ধন দিবসের মতো।আজ এই বন্ধুত্বের দেখতে দেখতে অনেক বছর হয়ে গেল।তবে দুজনার মধ্যে কোনোদিন হুজ্জত হয় নি।খুব ভালোই চলছিল এই বন্ধুত্বের বান্ধব।আর হে,ইদানীংকাল আমার গার্লফ্রেন্ড ও আছে, তার নাম বর্ষা,এক সাথেই পড়ি আমরা। কিন্তু এই খবর টা মিনহাজকে জানাইনি! ও খুব ধার্মিক, অ জানতে পারলে আমার বারোটা বাজিয়ে দিবে।আর কোনোদিন আমার সাথে কথাই বলবে না।সে চায় না আমাদের বন্ধুত্বের মাঝে তৃতীয় কেউ আসুক।তাই মনে ভয় জাগে যদি বর্ষার ভাব ভংগি দেখে সব জেনে যায় সে।অ আবার এইসব ব্যাপরে খুব স্মার্ট, যদি প্রেম করতে পছন্দ করে না।তাই বর্ষাকে আগেই বলে রেখেছি সে জেনে ক্লাসে আমার সাথে কথা না বলে এবং না থাকায়।কিন্তু যখনেই ক্লাসে যাই আমার দু,চোখ শুধু তার দিকে চলে যায়,আর ইদানীং আমি মিনহাজের সাথে খুব কম কথা বলি।কিন্তু একদিন ঠিকই ধরা খেয়ে গেলাম,মিনহাজের দু,চোখ ফাঁকি দিতে পারি নাই,বন্ধু বলে কথা।

তাই তার কাছে আর আমি সত্যটা আড়াল করিলাম না, সব বলে দিলাম।তার পর থেকেও ও আর আমার সাথে বেশী কথা বলে না।একদিন সে আমাকে স্কুলে খেলার মাটে ডেকে আনে,আমিও গেলাম বললাম কিরে কোনো দরকারি কথা বলবি না কী? সে বলল হুম.তাহলে বল?

তকে আমি দুটো উপহার দিব তুই একটা নিবি বেছে।বেছে নেওয়ার পর দশ মিনিট চোখ বন্ধ করে থাকবি।আমি বলে দিলাম আচ্ছা মনে করছি বড় কিছু উপহার দিবে তাই বলিলাম ওকে দে…

সে বলল প্রথমটি হলো তুই আমাকে ছেড়ে দিবি দ্বিতীয় টি হলো না হলে বর্ষা কে,?

আমি তার কথা গভীরভাবে নেই নি,ভাবছিলাম ও আমাকে নিয়ে মজা করে হয়তো এভাবে প্রায় মজা করত আমাকে নিয়ে।তাই আমিও মজা করে বলে দিলাম বর্ষা। উত্তর শোনে সে হাসি দিয়ে বলে সালা তুই আর আগের মতো নেই রে!

আচ্ছা শর্ত অনুযায়ী দশ মিনিট চোখ বন্ধ কর।তার কথা শোনে মনে হচ্ছিল সে মনে হয় বর্ষা কে আমার হাতে তুলে দিয়ে আমাকে উপহার দিবে।তাই চোখ বুঝে রহিলাম,প্রায় দশ মিনিটের অধীক হয়ে গেল।কিন্তু কোনো সাড়া শব্দ নেই।তাই চোখ খোলে নিলাম।দেখি মিনহাজ এখানে নেই বুঝলাম’ না কোথায় গেল!হটাৎ ছেয়ে দেখি একটা সাদা কাগজ তাতে কি যেন লেখা।তাই পড়ার জন্য হাতে নিয়ে,পড়তে শুরু করিলাম।

হায়দার ভালো থাকিস!আমি আজ চলে যাচ্ছি শহরে তর সাথে আর দেখা হবে না।কারণ আমাদের বন্ধুত্বের বিশ্বাস হারিয়ে গেছে অচেনা নীলে। আর খুঁজে পাওয়া সম্ভব না রে।তবে তকে আমি প্রাণের ছেয়ে বেশী বিশ্বাস করতাম,কিন্তু তুই আমার সেই বিশ্বাস ভেঙে দিলি।আর এই কথাটি মনে রাখিস ভবিষ্যতে কাজে আসবে।কাহারো হৃদয়ে যদি একবার জায়গা করে নেওয়া যায়,কিন্তু আবার কোনো কারণে সেটা যদি ভেঙে যায় তাহলে সেই মনে আবার নতুন করে জায়গা পাওয়া আশা করা যায় না । নেক্সট তুমি যতই ভালো হও না কেন।কারণ বিশ্বাসে কালো দাগ পড়লে সেটা কয়লার মতে হয়ে যায়। যতই চেষ্টা কর আর ময়লা যাবে না।আমি তকে এই মনে জায়গা দিতে চাই কিন্তু মনটা আর জাইগা দিচ্ছে না। তাই চলে গেলাম দূর ওই শহরে জানিনা দেখা হবে কি না। জানি তুই ভালো থাকবি বন্ধু বিনা আল্লাহ হাফেজ।কথাগুলো শুনে চোখে অশ্রু আর থামাতে পারিলাম না।মাত্র দশ মিনিটেই বুঝি শেষ হয়ে গেলো বহুত বছরে বন্ধুত্ব। ভাবিনি কখন এমন হবে! নিজেই যে আজ নিজের প্রতি বিরক্ত! শুধু একটা মেয়ের জন্য হারিয়ে গেল আমার প্রাণ প্রিয় বন্ধুটা। আহ:আহ:আহ: বড় নিঃসম্বল মনে হচ্ছে বন্ধু বিহীন দিনগুলো।তাই আজ বলতে বড় ইচ্ছা করে!

 

বন্ধু মম!সিন্ধু সম, মালা গেঁথে যাই(সালাহউদ্দিন এলাহি)

বড় কষ্ট লাগে আমার ছেয়ে যে এই দুনিয়ায় লজ্জিত বন্ধু নাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *