ভালোবাসার নীল গল্প পর্ব-০১

তারেক আল মুনতাছির

ওমরগণি এম.ই.এস কলেজ চট্টগ্রাম

 

হাই-স্কুল ছেড়ে কলেজে উঠলাম ।প্রতিটা বাংলা সিনেমার শেষে যত ফাইটিংই হোক না কেন আমাদের শাকিব খানের প্রেম শুরু হয় কলেজ ওঠার পর থেকে।এটি কলেজের অলিখিত আবশ্যিক বিষয় । তবে কলেজে উঠে বুঝলাম নতুন যুগের ডিজিটালাইজেশনে নতুন এক সূত্র সকলে মেনে চলে “একই ক্লাসের ছেলে/মেয়ের সাথে আর যাই কর প্রেম করা যাইবে না । “এই সব সিনেমা ,সূত্রে আদর্শীত হওয়ার কারণেই কিনা জানিনা। আমার বেশির ভাগ কলেজ বন্ধুর চোখ চলে গেছে হাই-স্কুলে পড়া মেয়েদের দিকে (আমার না গেলেও) । হঠাৎ একদিন একটা ফেইজবুকে ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট পাই হাই, হ্যালো, বলে কয়েকদিন কাটিয়ে দেই।এরপর থেকে কেন জানি তার প্রতি একটা আলাদা মায়া কাজ করতে শুরু করে।ক্যালেন্ডারে জানুয়ারি শেষ হয়ে ৭ তারিখ আজ।এভাবে কথা চলতেই থাকে…।১৩ই ফেব্রুয়ারি রাতে, পরের দিন দেখা করার প্লান করি।

১৪ ই ফেব্রুয়ারি একটা গিফট কিনে তারাতারি বাস টাতে উঠলাম চাপাচাপি করে।ভাগ্যক্রমে সাথে সাথে বসার সিট ও পেয়ে গেলাম।আজ ১৪ ফেব্রুয়ারি সবাই যে যার মনের মানুষটার সাথে দেখা করতে যাচ্ছে,আমিও আলাদা নই।মেয়েটার(তানিয়ার) সাথে আমার পরিচয়টা ফেইজবুকেই।আজ এমন একটা দিনে ও আমায় দেখা করতে বলবে ভাবতেও পারিনি।এইসব কথা ভাবতে ভাবতে হঠাৎ খেয়াল করলাম আমার পাশে বসে আছে একটা মেয়ে। এতক্ষন একটা মেয়ের পাশে বসে আছি বুঝতেই পারিনি।মেয়েদের পাশে বসলে বরাবরই নিজেকে খুব অসহায় লাগে।আজকেও এর ব্যতিক্রম হল না,বরং আজ অসহায়ের মাত্রা একটু বেশিই হচ্ছে।ইচ্ছে করছে চলন্ত বাসটা থেকেই লাফ মেরে পড়ে যাই।আমার অসহায় টাইপ মুখটা দেখে মেয়েটা মিটিমিটি করে হেসেই যাচ্ছে। আমিও ওকে পাত্তা না দেওয়ার ভাব নিয়ে কানে হেডফোন গুজে বাইরের দিকে তাকিয়ে রইলাম।তার আগে আড় চোখে মেয়েটাকে খুব নিঁখুত ভাবে দেখে নিলাম।মেয়েটার একটু বর্ণনা না দিলে কি হয়! গায়ের রং শ্যামলা,চোখে চশমা কিন্তু মেয়েটাকে দেখতে বেশ সুন্দরী।

প্রথম দেখাতেই চোখ বন্ধ করে যাদের প্রেম নিবেদন করা যায়। আমি আবার আড়চোখে দেখলাম মেয়েটি আশেপাশের কোন কিছুর দিকে খেয়াল না করে এক মনে মোবাইলএ কি করে যাচ্ছে।লেখার স্টাইল দেখে অনুমান করলাম ফেসবুকে হয়তো কারো সাথে চ্যাট করছে।আমিও ফেসবুক করি এটা দেখানোর জন্য মোবাইল টা হাতে নিয়ে আলোর বেগে ফেসবুক খুললাম।তখন ফেইজবুকের আলো প্রতিফলিত হয় আমার চোখে। আড় চোখে আবার দেখতে গিয়ে দেখলাম মেয়েটিও আমার কান্ড কারখানা আড় চোখে দেখছে।

তবে কেন জানি মনে হল, এতো লুকোচুরির মাঝেও মেয়েটির চোখের কোনে মন খারাপের একটা চিহ্ন রয়েছে।এদিকে আমি ফেইজবুকে ঢুকেই দেখি তানিয়ার মেসেজ।একসাথে ৭টা মেসেজ পাঠিয়েছে,পর পর এত মেসেজ মানে ভীষণ রেগে আছে।মেয়েটা যখন তখন রেগে যায় আমার উপর।আজ দেখা করবো বলে সকাল থেকে তেমন কোনো খবর নেওয়া হয়নি। সেই কারণেই হয়তো হবে।মেয়েটা অদ্ভুত ভাবে কথায় কথায় রাগ করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *