তুষ্টি ভট্টাচার্যের প্রবন্ধ : রিয়েলিজম বনাম ন্যাচারিলিজম

এক কথায় বলতে গেলে রিয়েলিজম ও ন্যাচারিলিজম জীবন নির্ভর। তাদের মধ্যে যেমন মিলও আছে, পার্থক্যও আছে কিছু। তবে এটুকু নিশ্চিত করে বলা যায় যে, রিয়েলিজম থেকেই ন্যাচারিলিজমের জন্ম। যদিও তারা একে অপরের স্থান বদলে নেয় মাঝেমাঝে, তবুও রিয়েলিজিমকে স্রষ্টা বলা হয়। প্রথমে রিয়েলিজমের তত্ত্ব সম্বন্ধে একটু ধারণা করা যাক।
বৃহত্তর সংজ্ঞায় গেলে রিয়েলিজম বা বাস্তবতা হল যা কিছুর অস্তিত্ব ছিল, আছে বা থাকবে তাই বাস্তব। প্রাচীন ও আধুনিক দার্শনিক, গণিতজ্ঞ বা চিন্তক যাঁরা আছেন, যেমন অ্যারিস্টটল, প্লেটো, ফ্রেগ, উইটজেন্সটিন ও রাসেল, চিন্তাসূত্রর সঙ্গে বাস্তবতার একটা প্রভেদ দেখিয়েছেন – কোহেরেন্ট অ্যাবস্ট্রাকশন (বস্তু কেন্দ্রিক ভাবনা, যা বাস্তব নয়, কল্পনা করা হয়েছে) এবং যা কিছু যুক্তি দিয়ে চিন্তাও করা হয় নি কখনো। মনে হয়ত বস্তু কেন্দ্রিক ভাবনা এল, অর্থাৎ ধরা গেল আমার মন খুব ইলিশ খেতে চাইছে। যেমন তেমন নয়, বেশ বড় সাইজের। এখন বাজারে যা পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলো ছোট মাপের। আবার দেখা গেল, কখনও কখনও বাজারে ইলিশের আমদানীও খুব কম। ফলে আমার ইলিশ কেন্দ্রিক ভাবনাটাকে স্মৃতির পাতা থেকে টেনে আনলাম। ওই কবে কার বাড়িতে বা কোন অনুষ্ঠানে ইয়া ব্বড় সাইজের ইলিশ ভাপে খেয়েছিলাম, বা সেই কবে যেন টাটকা পদ্মার মাছ এনে দিয়েছিল কে… এখন সমস্যা একটাই এখানে। এগুলোর অস্তিত্ব নেই এখন কিন্তু একসময়ে ছিল। এই ভাবনাকে অবাস্তব বা কল্পনা বলেও মেনে নেওয়া যাবে না, বরং শুধু অতীত বলা যাবে। এরপরে আপনি যদি সেই ইলিশের গন্ধ পান নাকে, দিব্যচক্ষে দেখে ফেলেন এক থাবা সাইজের একটি ইলিশের পেটি… এ শুধু কিন্তু আপনার কল্পনাই। ঘটমান বাস্তব বা অতীত বাস্তব নয়, এ শুধুই আপনার ভাবনা। এরকম ভাবে অতীতের ঘটনাগুলোকে বা যে প্রিয়জন হারিয়ে গেছে তাদের স্মৃতি মনে এলে আমরা শুধুমাত্র স্মৃতি চারণ করেই ক্ষান্ত হই না, মানস জগত আমাদের সেই সব ঘটনার কাছে নিয়ে যায় আপনা থেকেই। প্রিয় খাদ্য বা প্রিয় মানুষের (যারা কাছে নেই) কথা মনে করলেই অবধারিত ভাবে সেই বস্তু বা মানুষের স্বভাব, রূপ, রস, অনুভবে চলে আসবে। আর তা যদি না আসে, তাহলে স্মৃতিতেও সে বা তারা নেই ধরে নিতে হবে। 
আবার দেখুন তত্ত্ব কী বলছে – যা কিছু মনে বা স্বপ্নে আসে, অর্থাৎ যা কিছু মিথ্যে, কল্পিত, অথবা বিমূর্ত, যা কিনা অতিমাত্রায় কাল্পনিক, মায়াময় বা মোহের কারণ, তাদের তুলনায় বাস্তব সবসময়েই বিপরীত দিকে চলে। একই সঙ্গে প্রাত্যাহিক বা গবেষণার জগতে কিন্তু যা কিছু বিমূর্ত, তারও একটা ভূমিকা থেকে যায়। যেমন কার্যকারণ, পাপপুণ্য, জীবনবোধ, ন্যায়অন্যায়ের বিচার – এগুলো সবই বিমূর্ত ধারণা যাকে এক কথায় বোঝানো অসম্ভব এবং এগুলো মায়ামমতা বা ব্যক্তিগত মানসিকতা দিয়ে বিচার্য। 
সত্য বাস্তবের সঙ্গে যুক্ত এবং মিথ্যে তার উল্টো আর কল্পনা হল অবাস্তব। 
সাধারণ ভাবে প্রচলিত অর্থে, উপলব্ধি, বিশ্বাস ও ধারণা নিয়েই বাস্তব। একজনের বাস্তবের সঙ্গে অন্যজনের বাস্তব ঢের আলাদা এক্ষেত্রে। পৃথিবী ব্যাপী বাস্তবের সংজ্ঞায় তাই একটি নির্দিষ্ট গঠন রয়েছে। বাস্তব হল বস্তুর সামগ্রিক অবস্থা, আকার (প্রকৃত ও ধারণা), ঘটনা (অতীত ও বর্তমান) এবং দ্রষ্টব্য, যা দেখা যাচ্ছে কিমবা যাচ্ছে না। তাই বাস্তবের সামগ্রিক সংজ্ঞায় বলা হয়, মানুষের ব্যক্তিগত বা জাতিগত অভিজ্ঞতা, যা বর্ণনা করা যায় বা নথিভুক্ত করা যায়, তাই হল বাস্তব। 
পদার্থবিদ, দার্শনিক, সমাজবিজ্ঞানী এবং সাহিত্যের সমালোচকরা যদিও বাস্তব সম্বন্ধে অন্য কিছু বলেছেন। রবার্ট অ্যানটন উইলসন বলেছেন, ‘ধারণাই বাস্তব’ অথবা ‘বাস্তব সম্বন্ধে যেমন ধারণা জন্মাবে, সেটাই জীবন’ অথবা ‘বাস্তব সেটাই যেখানে তুমি থাকবে’। এই তত্ত্ব অ্যান্টি রিয়্যালিজম-এর দিকে নিয়ে যায় আমাদের। যেখানে আমরা দেখি, বস্তুগত বাস্তব বলে কিছু নেই, যা কিছু প্রত্যক্ষ আহরণ তাই বাস্তব। আর আমার এই সংজ্ঞাটাই বেশি মনে ধরে। নির্দিষ্ট একটা বাঁধা গতে বাস্তবকে বেঁধে ফেলা আমার পক্ষে অসম্ভব লাগে। কারণ ওই একই। যা কিছু একজন প্রত্যক্ষ করছে, তাই তার কাছে বাস্তব। গুয়েতেমালার একজনের বাস্তব থেকে বনগাঁর একজনের বাস্তব ঢের আলাদা হতে বাধ্য। 
বিজ্ঞান ও দর্শনের পন্ডিতরা বাস্তবকে সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক পটভূমিকায় নিয়ে এসেছেন। থমাস কুন ‘দ্য স্ট্রাকচার অফ সাইন্টিফিক রেভোলিউশন (১৯৬২)’ বইটিতে এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। পিটার এল বার্গার এবং থমাস লাকম্যান-এর লেখা ‘দ্য সোসাল কনস্ট্রাকশন অফ রিয়্যালিটি (১৯৬৬)’ বইটিতেও এ নিয়ে অনেক তথ্য রয়েছে। 
পাশ্চাত্য দর্শন বাস্তবকে দুটি পর্যায়ে রেখেছে। প্রাকৃতিক পটভূমিতে বাস্তব এবং মন(ভাষা ও সংস্কৃতি)ও বাস্তবতার মধ্যে যে সম্পর্ক তার নিরিখে। অনটোলজি বা তত্ত্ববিদ্যা হল অস্তিত্বের অস্তিত্ব খোঁজার চেষ্টা। বস্তুর টিকে থাকাই হল তার অস্তিত্ব, যাকে এককথায় বাস্তব বলা চলে। 
তত্ত্ববিদ্যায় ঐতিহ্যবাহী বাস্তবের সংজ্ঞায় বলছে, মানুষের মন কিন্তু সময় এবং দূরত্বের অনেক বাইরে অবস্থান করে। আদর্শবাদীরা অস্বীকার করেছেন বা সন্দেহ প্রকাশ করেছেন অবশ্য। কিছু অ্যান্টি-রিয়্যালিস্ট বলেছেন, তত্ত্ববিদ্যায় যদি বলে যে, মনের বাইরের বস্তু টিকে যেতে পারে, তাহলে অবশ্যই সময় এবং দূরত্বের অস্তিত্ব নিয়েই সন্দেহ প্রকাশ করতে হবে। এই জায়গায় আমিও সন্দেহ প্রকাশ করছি। মনের বাইরে বস্তু তার নিজস্ব স্থানে থাকতেই পারে, সে কিন্তু আমার অস্তিত্বে আর থাকবে না তখন। সময় অনেক দূর অতীতকে ভুলিয়ে দেয়, আর এটাই স্বাভাবিক। যেভাবে অনেক সুখ বা দুঃখের স্মৃতিকে মানুষ ভুলে যায় একসময়ে। যেভাবে অকালে সন্তান হারা মাও দুঃখ ভুলে সংসারে আবার জড়িয়ে যায়। টাইম ইজ দ্য বেস্ট ইনহেলার – এটা অস্বীকার করার তো উপায় নেই আমাদের। সময় ও দূরত্ব একে অন্যের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত – এও না মেনে উপায় নেই। 
আবার যদি বস্তুবাদ বা অবজেক্টিভিটির কথায় আসি,(যা আবার মেটাফিজিক্স ও এপিস্টোমোলজিতেও রয়েছে) বাস্তবতা সম্বন্ধে আলোচনা করে বলা হয়েছে যে, বাস্তব আছে বা নেই, এই অস্তিত্ব নির্ভর করে কিছু মানসিক ও সাংস্কৃতিক অনুষঙ্গের ওপর, যেমন বিশ্বাস, ধারণা বা অন্য মানসিক অবস্থান ছাড়াও ধর্ম ও রাজনৈতিক আন্দোলন। এই হল বাস্তবের সংজ্ঞা নিরুপণের সাধারণ সাংস্কৃতিক পৃথিবীব্যাপী মত বা ওয়ার্ল্ড ভিউ বা ওয়েলতাংসাং(Weltanschauung)। 
কান্ট তাঁর ‘ক্রিটিক অফ পিওর রিজন’ বইয়ে বলেছেন, সময় হল এক অবরোহী ধারণা (প্রায়োরি নোসন)। এখানে তিনি বলেছেন দূরত্ব আমাদের অনুভূতির অভিজ্ঞতায় নিয়ে আসে। সময় বা দূরত্ব কোন বস্তু নয়, এদের কোন শিক্ষার দ্বারা আয়ত্ত্বে আনা যায় না। বরং সময় ও দূরত্ব হল এক নির্দিষ্ট পদ্ধতিগত কাঠামো, যার দ্বারা আমরা আমাদের অভিজ্ঞতাকে ব্যক্ত করি। আমিও এই মতের পূর্ণ সমর্থক। 
জৈন দর্শনে বাস্তব সম্বন্ধে সাতটি তত্ত্ব আছে। ১) জিহ্বা- চেতনার দ্বারাই আত্মা জাগ্রত হয়। ২)আল জিহ্বা- অ-আত্মা, ৩)আশ্রব- কর্মের ফল, ৪)বন্ধ- কর্মের বন্ধন, ৫)সম্বর- কর্মের সময়ে বিঘ্ন ঘটলে আত্মার পরিমার্জন, ৬)নির্জর- কর্ম ত্যাগ ও ৭) মোক্ষ-কর্মের ফল লাভে মুক্তি। 
আগেই বলেছি, ন্যাচারিলিজম কিন্তু রিয়েলিজম থেকেই এসেছে। ন্যাচারিজম হল রিয়েলিজমের অতিরিক্ত রূপ, যা রিয়েলিজমের সামাজিক অবস্থান, বংশগতি এবং পরিবেশ, এই তিন মূল শক্তির ওপর নির্ভর করে। ন্যাচারিলিজম চার্লস ডারউইনের তত্ত্ব ও কিছু প্রাকৃতিক লেখক, যাঁরা বিজ্ঞানকে সাহিত্যে ব্যবহার করেছেন, তাঁদের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে। ফলে এটি সাহিত্যের এক বিচ্ছিন্ন ধারা বলা যেতে পারে। এখানে সাধারণত নিম্ন বর্গীয় মানুষ ও তাদের হিংসা ও নিষেধকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। ন্যাচারিলিজম সাহিত্য মূলত নৈরাশ্যবাদী। 
ফরাসী সাহিত্যিক এমিলি জোলাকে ন্যাচারিলিজমের পথ প্রদর্শক হিসেবে দেখা হয়। তাঁর ‘Les Rougon-Macquart’ উপন্যাসকে ন্যাচারিলিজম আন্দোলনের সেরা আবিষ্কার মানা হয়ে থাকে। স্টিফেন ক্রেন-এর ‘Maggie: A Girl of the Streets’, জ্যাক লন্ডন-এর ‘To Build A Fire’, জন স্টেনবেক-এর ‘The Grapes of Wrath’ এরকম আরও কয়েকটি উদাহরণ। 
যদিও রিয়েলিজম ও ন্যাচারিলিজম দুটো ভিন্ন সাহিত্য আন্দোলনের ধারা, তবুও এদের মধ্যে কিন্তু ঘনিষ্ট সম্পর্কও আছে! মাঝেমাঝে আবার এরা নিজেদের অবস্থান বদল করেও থাকে। কারণ আর কিছুই না, দুটোই জীবন নির্ভর সাহিত্য। এই দুই আন্দোলনই বিশ্বাস, প্রকৃতি বা বাস্তব এবং রোজকার ক্রিয়া ও অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভরশীল। রিয়েলিজম বাস্তব জীবনকে তুলে ধরে আর ন্যাচারিলিজম জীবনকে আরও বেশি মাত্রায় বৈজ্ঞানিক বা কাঁটাছেড়ার মত করে জীবনকে দেখে। এটাই হল এই দুই আন্দোলনের মূল পার্থক্য। 
আর্ট বা শিল্প মাধ্যমেও এই দুই আন্দোলনের প্রভাব এসেছে। ১৮৪৮-এর বিপ্লবের পরে ১৮৫০ সালে ফ্রান্সে রিয়েলিজম শুরু হয়েছিল। রিয়েলিস্টরা রোমান্টিসিজমকে অস্বীকার করেছে, যা কিনা এতদিন এখানকার শিল্পের মূল উপাদান ছিল। রোমান্টিক আন্দোলনের অতিজারিত আবেগ বা নাটকীয়তাকে সেই সময়ে বর্জন করা হয়েছিল। আর তার বদলে স্থান, মানুষ বা বস্তুর ওপরে ফোকাস করে শিল্প নির্মান করা হয়েছিল। আর ন্যাচারিলিজমের ক্ষেত্রে এই উপাদানগুলিকেই সূক্ষ্মতার সঙ্গে ব্যক্ত করা হত। 
ন্যাচারিলিস্ট পেন্টারদের মধ্যে Alfredo Volpi , Gustave Courbet , Amelia Alcock-White এবং রিয়েলিস্ট পেন্টারদের মধ্যে Rembrandt , Gustave Courbet, William-Adolphe Bouguereau নিজস্ব জগতে প্রসিদ্ধ হব। বিশেষ করে র‍্যামব্রান্ত-এর কাজ যুগান্তকারী বলে এখনও মানা হয়ে থাকে। 
আর নাটকের ইতিহাসে ন্যাচারিলিজম ও রিয়েলিজমকে সব থেকে দ্বন্দপূর্ণ অবস্থান মেনে নিয়েছেন এই শিল্পের কলাকুশলীরা। দুই ধারাকে এখানে স্পষ্ট করে পৃথক বলে ধরা হয়। ফলে উনবিংশ শতকের শেষের দিকে থিয়েটারে এই দুই আন্দোলনকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছিল। এখন প্রশ্ন হল, কোন ধারাটি আগে এসেছিল! এ নিয়ে সংশয় থাকলেও এটা স্পষ্ট করে বলা যাবে যে, এই সময়ের আগের বাদশা, রঙিন চশমা পরা মেলোড্রামাটি বিদেয় হয়েছিল। পন্ডিতরা কেউ কেউ বলেন, Stanislavski-র প্রথাই ন্যাচারিলিস্টিক অভিনয়ের ভিত। আবার কেউ এই প্রথাকেই রিয়েলিস্টিক অভিনয়ের জনক বলেন। 
মোটের ওপর খুব ছোট করে যদি এই দুই ধারার সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য বলতে হয়, তাহলে বলব – রিয়েলিজম আর ন্যাচারিলিজম দুটো পৃথক আর্ট (সাহিত্য, শিল্প, নাটক) মুভমেন্ট। এক সময়ে যদিও এই দুটো টার্মকে একে অপরের পরিপূরক হিসেবে দেখা হত। প্রথমেই ক’টি সাদৃশ্যের কথা বলি –
১) দুটো টার্মই জীবন ও মানবিকতার ক্ষেত্রে বেসিক ভিউ বলা যেতে পারে। কিন্তু ব্যবহারের জায়গায় একজন প্রাকৃতিক, আরেকজন বাস্তবিক। দুটো টার্মই বস্তুকে আদর্শ এবং বিস্তৃতি ভাবে না। দুজনেরই কৃত্রিম, কাল্পনিক বা অতিবাস্তবিক ধারণা থেকে দূরে থাকে।
২) দুটো টার্মই ১৯শ শতকে উদ্ভাবন করা হয়।
৩) আর দুই টার্মেই ঈশ্বরের অস্তিত্ব নেই, বরং লেখকরা বাস্তবের দিকে তাকিয়েছেন। 
এই সাদৃশ্য থাকা স্বত্বেও এই দুই মুভমেন্ট কিন্তু ভিন্ন গোত্রের।
১) রিয়েলিজম হল জীবনের বিশ্বাসযোগ্য ঘটনা আর ন্যাচারিলিজম হল এক ঘটনাকে ধারাবাহিক ভাবে ও বিস্তৃত ভাবে বর্ণনা করা। ফলে এই ন্যাচারিলিজম রিয়েলিজমের অতিজারিত অভিজ্ঞান হয়ে দাঁড়ায়। ন্যাচারিলিজমে মানুষকে যেন তার প্রকৃতি, বংশগতি ও সামাজিক প্রেক্ষাপট অনুযায়ী নিজেদের মানিয়ে চলতে বাধ্য করা হয়, অর্থাৎ এখানে মানুষ তার পরিস্থিতির শিকার, এমনটাই ধরা হয়। 
২) রিয়েলিজমের মেন ফোকাস থাকে মধ্যবিত্ত ও তাদের সমস্যার ওপর, আর ন্যাচারিলিজমে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ফোকাস করা হয় অল্প শিক্ষিত ও নিম্ন বর্গের মানুষদের ও তাদের হিংসা বা স্বনির্ধারিত নিষেধাজ্ঞার ওপর। 
৩) রিয়েলিজমে বিশ্বাসযোগ্য বাস্তবের সঙ্গে প্রাকৃতিক ব্যাপারগুলিও থাকে, আর ন্যাচারিলিজমে প্রকৃতি নিজেই একমাত্র শক্তি ও শক্তির নির্ধারক।

10 thoughts on “তুষ্টি ভট্টাচার্যের প্রবন্ধ : রিয়েলিজম বনাম ন্যাচারিলিজম

  • March 17, 2018 at 5:27 am
    Permalink

    খুব ভালো আলোচনা। কত সহজে বুঝিয়ে দিলে।

    Reply
    • March 17, 2018 at 7:51 am
      Permalink

      পড়লে বলে ভাল লাগল

      Reply
  • March 17, 2018 at 7:22 am
    Permalink

    বাহ্, সমৃদ্ধ হলাম।

    Reply
    • March 17, 2018 at 7:51 am
      Permalink

      ্ভালবাসা নিও

      Reply
  • March 18, 2018 at 2:21 am
    Permalink

    সুন্দর উপস্থাপনা, উদাহরণ গুলো ও বেশ। ঈশ্বরের অস্তিত্ব অস্বীকার করেও শ্রেণী বিভাজন টা গেলো না এই যা।। খুব ভালো আলোচনা।

    Reply
    • March 20, 2018 at 4:48 am
      Permalink

      ঈশ্বরের অস্তিত্ব বা অনস্তিত্ব আমার আলোচনার বিষয় ছিল না। যদিও বাস্তবতার প্রসঙ্গে ধর্মের কথা উল্লেখ করেছি। ওয়েলতাংসাং প্রসঙ্গে।

      Reply
  • April 18, 2018 at 10:59 am
    Permalink

    শু প্রভাত

    Reply
  • February 23, 2022 at 4:37 pm
    Permalink

    সাবলীল আলোচনা। উপকৃত হলাম।

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published.