২০১৯ সালে বইমেলায় প্রকাশিত বই নিয়ে লেখকের সঙ্গে আলাপ : হামিরউদ্দিন মিদ্যা

‘আজরাইলের ডাক’ বইটি নিয়ে হামিরউদ্দিন মিদ্যা’র সঙ্গে অনামিকা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আলাপচারিতাঃ 
অনামিকা বন্দ্যোপাধ্যায় : 
গ্রন্থটির বিষয় সম্পর্কে বলুন। বইটি লিখে কেমন বোধ করেছেন? প্রকাশের পর কেমন বোধ করছেন? 
হামিরঃ 
‘আজরাইলের ডাক’ গ্রন্থটি হল একটি গল্পসংকলন।এতে মোট বারোটি ভিন্ন স্বাদের গল্প আছে।বাঁকুড়া জেলার মাঠ-ঘাট,নদী-নালা,প্রান্তিক মানুষজন, তাদের আশা আকাঙ্ক্ষা, সুখ-দুঃখ,বদলে যাওয়া সময়,প্রকৃতির খামখেয়ালি পনা,সমাজের কিছু বাতিল হয়ে যাওয়া মানুষদের কথায় বার বার উঠে এসেছে।যে জীবন যাপন করি,কোনো গল্পের চরিত্র হয়ে আমিও মিশে গেছি।
বইটি লিখে খুব তৃপ্তি পেয়েছি।আর প্রকাশের পর তো ভালো লাগবেই।বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় ছড়িয়ে ছিঁটিয়ে ছিল গল্পগুলি।পাঠক দুই মলাটের ভেতর সব পেয়ে যাবেন। 
অনামিকা বন্দ্যোপাধ্যায় : 
এইটি কি প্রথম গ্রন্থ? যদি প্রথম গ্রন্থ না হয়, তাহলে পুর্ব-প্রকাশিত গ্রন্থ কি কি? প্রথম গ্রন্থ কবে প্রকাশিত হয়? 
হামিরঃ 
হ্যাঁ।এটিই আমার প্রথম গ্রন্থ।প্রকাশিত হয় এবছর কলকাতা বইমেলায়। 
অনামিকা বন্দ্যোপাধ্যায় : 
গ্রন্থটির রচনাকালের সময়টি কতদিনের ছিল? 
হামিরঃ 
গ্রন্থটির গল্পগুলি লিখেছিলাম ২০১৭ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত। মানে মোট দুই বছরে যে গল্পগুলি লিখেছিলাম সেখান থেকেই নির্বাচন করে ১২টি গল্প বইয়ে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। 
অনামিকা বন্দ্যোপাধ্যায় : 
কোনো গল্পের জন্য বিশেষ গবেষণার বা পড়াশোনার প্রয়োজন ছিল? থাকলে কিভাবে সেই প্রস্তুতি নিয়েছেন? 
হামিরঃ 
আমার যেটুকু জীবনের অভিজ্ঞতা, সেখান থেকেই গল্পগুলি লেখা।তাই আলাদা করে গবেষণার কোনো প্রয়োজন ছিল না।তবে কোনো কোনো গল্পে সঠিক তথ্যের জন্য টুকিটাকি ওয়ার্কশপ করতে হয়েছে।যেমন মনে পড়ছে, ‘আজরাইলের ডাক’ গল্পটি লেখার সময় গ্রামের ইমাম সাহেবের কাছে গেছিলাম। জিন ও ফেরেশতার ব্যাপারে জানতে হয়েছিল কিছু কথা। 
‘শিকড়টা ছিঁড়ে যাবার পর’ গল্পটি যখন লিখি,ওই গল্পের বৃদ্ধ আলতাফ হোসেনের সঙ্গে গল্প করে অনেক কথায় জেনেছিলাম।আসল নাম বলছি না।আমার দেখা একটি চরিত্র। এখানের ভিটেমাটি ছেড়ে এখন ছেলের কাছে শহরে থাকেন।উনি যখন গ্রামে আসেন সবার সঙ্গে দেখা করতে,তখন দুঃখ করে অনেক কথা শোনান।গল্প করে জেনেছি গ্রাম থেকে চলে যাবার পর ওখানে কি কি অসুবিধা হয়।এখানের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে ওখানের কতটা তফাৎ। 
‘শালীনদীর হড়পা বান’ গল্পটি নিয়ে খুব খাটতে হয়েছে।১৯৭৮ সালের বন্যা আমি দেখিনি।তখন তো জন্মাইনি।গ্রামের বুড়ো বুড়ির মুখে,প্রবীণদের কাছে ছোট থেকেই শুনে এসেছি সেই ভয়ঙ্কর বন্যার কথা।তারপর ছেলেবেলায় দেখা আবছা স্মৃতি হয়ে ভাসে একটি বন্যা।সম্ভবত ২০০৬-২০০৭ এর মধ্যে হবে।নদী থেকে খুব একটা দূরে আমার বাড়ি নয়।আমাদের গ্রামেও বেশ প্রভাব পড়েছিল বন্যার।ইস্কুলঘরে অন্য গ্রাম থেকে এসে আশ্রয় নিয়েছিল কিছু বাস্তুহারা মানুষ। তারপর ২০১৮ সালে বর্ষার সময়ে শালী নদীর পানি হঠাৎ করে বেড়ে গেল একদিন।চাষের রোয়া ধানের জমিগুলো পানির তলে।তখন গ্রামগুলোই ঘুরেছি।যাদের ফসল নষ্ট হয়েছে তাদের অনুভূতি গুলো খুঁটিনাটি জেনেছি।গল্প করেছি বৃদ্ধদের সাথে।’হড়পা’ বান যে ক্ষণিকের বান,এতে জমির ওপর পলি পড়ে না,রাতারাতি পানি কমে যায়।সব তথ্যই আমার অভিজ্ঞতার বাইরে,সংগ্রহ করা। 
এইভাবে বেশ কয়েকটি গল্পেই যে বিষয়ে আমার জানা নেই,হুট করে লিখতে বসিনি। 
অনামিকা বন্দ্যোপাধ্যায় : 
সমসাময়িক কোন ঘটনার প্রভাব? থাকলে, কখন মনে হল, এ-নিয়ে লেখার প্রয়োজন আছে? 
হামিরঃ 
সমসাময়িক ঘটনা বলতে গেলে আমার প্রতিটি গল্পেই কমবেশি বিষয় ঢুকে আছে।’বককল’ গল্পটি যখন লিখলাম,তার আগেই প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলেও বৈদ্যুতিক তারের খুঁটি ঢুকে গেছে।ঘরে ঘরে বি.পি.এল তালিকাভুক্ত মিটার বসেছে।আবাস-যোজনার ঘর পাচ্ছে সব।মাটির বাড়ি ভেঙে ইঁটের বাড়ি গজিয়ে উঠছে গ্রামে।এইসময় আমার দাদোর নামেও একটি ঘর আসে।দাদো আধুনিক সভ্যতার এই অগ্রসরকে মন থেকে মেনে নিতে পারেনি।দাদোর বেশকিছু কথা আমার বুকের ভেতরে গুঞ্জন শুরু করে।একজন বৃদ্ধর যে টানাপোড়েন অবস্থা, আমি খুব কাছ থেকে দেখেছিলাম। তখনই গল্পটা মাথায় আসে।সেই সময়টিকেই তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। 
শালীনদীর হড়পা বান’ গল্পটির কথা আগেই বললাম।বন্যার সময়েই লেখা।নদীর সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে থাকা মানুষগুলোর শোচনীয় অবস্থা আমি দেখেছি।তখনই মনে হয়েছিন এমন একটি চরিত্রকে নিয়ে লিখব। 
‘ভাঙা গড়ার উপাখ্যান’ গল্পটি আমাদের গ্রামের একটি কেচ্ছা-কেলেঙ্কারির বিষয়কে কেন্দ্র করে লেখা। পুরো ব্যাপারটা আমি জানি।গ্রাম ষোলোয়ানায় ওদের নিয়ে বিচার সভা বসেছিল কয়েকবার।আমি উপস্থিত ছিলাম।তখনই গল্পটা ধরা দেয় আমাকে। 
‘যুগ যুগ ধরে’ গল্পটি আমার জীবনেরই গল্প। বোরোচাষে সেবছর আমরা ধান লাগিয়েছিলাম।সব ফসল নষ্ট হয়ে গেছিল।কুঁড়েঘরে রাতের পর রাত জেগে পাম্প চালিয়ে জমিতে পানি করেছি।প্রচণ্ড খরা সেবছর।ক্যানেলে পানি দেয়নি।অভাব অনটনের মাঝেই গল্পটি লিখেছিলাম।এরকম টুকিটাকি অনেক সমসাময়িক ঘটনা আমার গল্পে জায়গা করে নিয়েছে। 
অনামিকা বন্দ্যোপাধ্যায় : 
গ্রন্থটির রচনাকালে কি কি চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে হয়েছে? 
হামিরঃ 
প্রতিটি গল্প লেখার সময়েই কিছু না কিছু বাধা থাকে। কখনো কাজের চাপে, সময়ের অভাব, সেই সঙ্গে পত্রিকার সম্পাদকের চাপ।একটা গল্প প্রচণ্ড জ্বর গায়েও লিখতে হয়েছে।বড় কোনো চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়নি। 
অনামিকা বন্দ্যোপাধ্যায় : 
গ্রন্থাকারে প্রকাশের জন্য নতুন কোন ড্রাফট বা প্রস্তুতি নিয়েছেন? কোন গল্প / লেখা বাদ দিয়েছেন? সেক্ষেত্রে প্রকাশকের চাপ ছিল না গুণগত মানের কথা ভেবে বাদ দিয়েছেন? 
হামিরঃ 
প্রকাশক যখন আমার কাছে পান্ডুলিপি চাইলেন,তখন আমি সময় নিয়েছিলাম এক মাস। নিজের গল্প নিজেই পড়ে বিচার করে নির্বাচন করেছি।আমার প্রথম প্রকাশিত গল্প ছাড়াও আরও কয়েকটি গল্প গুনগত মানের জন্য কিংবা আমি গল্পগুলি লিখে তৃপ্তি পাইনি বলে বইটিতে রাখিনি।পত্রপত্রিকায় প্রকাশের পরেও কোনো গল্প কাটাকুটি করেছি।নতুন অংশ যোগ করেছি।তারপর ১২টি গল্প প্রকাশককে দিই।দেওয়ার পরেও ফোন করে কোনো গল্পের নাম পরিবর্তন করেছি।আসলে আমি খুতখুতে।মনে শান্তি না পাওয়া অবধি কাটাকুটি চলতেই থাকে। 
অনামিকা বন্দ্যোপাধ্যায় : 
গ্রন্থটির প্রকাশের ক্ষেত্রে প্রকাশকের থেকে কিরকম সাহায্য পেয়েছেন ? বই বিপণনের জন্য প্রকাশক কি কোনো ধরনের প্রমোশনাল পদক্ষেপ নিয়েছেন? না, আপনি আপনার ব্যক্তিগত উদ্যোগেই বইয়ের প্রচার, প্রসার, বিক্রি, আলোচনা করেছেন? 
হামিরঃ 
গ্রন্থটি প্রকাশের ক্ষেত্রে সমস্ত দায়িত্ব, ভার প্রকাশক নিজে নিয়েছেন।আমাকে কোনরকম চাপ দেননি। 
তবে আমি মনে করেছি,একজন নবীন গল্পকারের বই এতটা সাহস নিয়ে নিজের উদ্যোগে প্রকাশক যখন করছেন,আমার কর্তব্য বইটির প্রচার করা।আমার পাঠক বন্ধুদের খবরটি দেওয়া প্রয়োজন। যাতে সহজ উপায়ে বইটি সংগ্রহ করতে পারে।এক্ষেত্রে আমি স্যোসাল মিডিয়ার কয়েকটি মাধ্যমকে কাজে লাগিয়েছি।প্রকাশক নিজেও প্রচার করেছেন,বিজ্ঞাপন ছড়িয়েছেন।ওদের ওয়েবসাইট sristisukh.com এ বইটি নিয়ে লিখেছেন। 
অনামিকা বন্দ্যোপাধ্যায় : 
গ্রন্থটির প্রকাশকালে কি কি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছেন? 
হামিরঃ 
প্রকাশকালে কোনো চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়নি। খুব সুস্থ ভাবেই কাজটি সম্পন্ন হয়েছে। 
অনামিকা বন্দ্যোপাধ্যায় : 
গ্রন্থ প্রকাশের জন্য কিভাবে পারিশ্রমিক পেয়েছেন? না পেয়ে থাকলে কি আপনি নিজেই লগ্নী করেছেন? 

হামিরঃ 
একজন নবীন গল্পকার হয়ে বই লিখে পারিশ্রমিক পাবার আশা করা আমাদের রাজ্যে বৃথা। কেননা আগে পাঠকের সংখ্যা গড়ে তুলতে হবে।ভিড় ঠেলে নিজেকে জায়গা করে নিতে হবে।তারপরে আশা করা যেতে পারে। 
আমার একটি বই হল,এতেই আমি খুশি।তবে কিছু লেখক কপি পেয়েছি। আর প্রকাশক নিজের থেকে আমাকে খুশি হয়ে যেটুকু পারিশ্রমিক দেবেন,সেটুকুই গ্রহণ করব। 
অনামিকা বন্দ্যোপাধ্যায় : 
আপনি কি পুরো সময়ের লেখক?না অন্য জীবিকার পাশাপাশি কাজ করতে হয় ? 
হামিরঃ না।এখনও পুরো সময়ের লেখক হয়ে উঠিনি।লেখালেখি করে আমার মন ভরে,কিন্তু পেট ভরে না।পেটের ধান্দায় সারাদিন আমাকে উপার্জনের চেষ্টা করতে হয়।বাকি অবসর সময়টুকুই লেখালেখির জন্য বরাদ্দ রেখেছি।ভবিষ্যতে এই সময়টাও আর না পেতে পারি। 
অনামিকা বন্দ্যোপাধ্যায় : 
বইটির প্রমোশন বা প্রচারের ক্ষেত্রে পরিকল্পনা কি? এক্ষেত্রে প্রকাশকের ভূমিকা কতখানি? 
হামিরঃ 
বইটি প্রকাশের উদ্দেশ্য পাঠকের কাছে একসাথে আমার গল্পগুলি পৌঁছে দেওয়া।নিজের মনকে একটু স্বান্তনা দেওয়া,যাতে উৎসাহ পেয়ে আরও লিখে যেতে পারি।এই সমস্ত ব্যাপারটিতে প্রকাশকের ভূমিকা অপরিসীম। কেননা একজন সৎ প্রকাশক কখনোই শুধু ব্যাবসার জন্য বই করে না।তাহলে তো শুধু নামী লেখকদের, বাজারী লেখকদের বইই করত,নতুনদের বই করত না। নতুন প্রজন্মকে পাঠকের সামনে তুলে ধরতে প্রকাশকের বিশাল ভূমিকা আছে। 
অনামিকা বন্দ্যোপাধ্যায় : 
বইটির কোন সম্পাদক ছিলেন কি? না থাকলে নির্ভুল বানান ও সম্পাদনার কাজটি কে করলেন? 
হামিরঃ 
কোন কোন গল্পগুলি বইটিতে থাকবে,সেই নির্বাচনটি আমি নিজেই করেছি।তবে অমরদা(মিত্র),সুকান্তদা(গঙ্গোপাধ্যায়),অরিন্দমদা(বসু),সায়ন্তনবাবুর(মুখোপাধ্যায়) পরামর্শ নিয়েছি।অমরদা আমাকে একটা কথা বলেছিলেন,খুব বেছে বেছে গল্প দিতে।বই মোটা করার জন্য গল্প যেন না দিই।সেই কথাটি মাথায় রাখার চেষ্টা করেছি।আর বানান ভুলের ব্যাপারটি প্রকাশক দায়িত্ব নিয়েছিল।ওরাই প্রুফ দেখে ঠিক করেছে। 
অনামিকা বন্দ্যোপাধ্যায় : 
বইমেলা কেন্দ্র করেই কি প্রকাশে পরিকল্পনা হয়েছিলো? মেলা-কেন্দ্রিক প্রকাশনার ক্ষেত্রে কি বইয়ের মানের সাথে আপোষ করেতে হয়েছে? 
হামিরঃ 
প্রকাশক আগেই জানিয়েছিল বইমেলায় আমার বই করতে চাই।আমি তাতে রাজি হয়ে যায়।মেলায় বই বিক্রির একটা ভাল সুবিধা আছে।এই সময় পাঠকের বই কেনার একটা আগ্রহ বা নেশা থাকে।বাকি সময় বই কিনতে যাওয়া সবার হয়ে ওঠে না।কেননা যত প্রকাশনা সংস্থা, তাদের অফিস সবই প্রায় রাজধানী শহরকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। একটা প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের পাঠক শুধু বই কেনার জন্য এতদূর পাড়ি দিয়ে শহর যায় না,বা গেলেও সেই বইয়ের দোকান থেকে বই কেনা সম্ভব হয় না। বইমেলায় যদি এক-দুই দিনের জন্যেও যায়,তখন সহজে পছন্দের বইটি সংগ্রহ করতে পারে। 
অনামিকা বন্দ্যোপাধ্যায় : 
গ্রন্থটি প্রকাশের পরে কি কোনো পাঠক তার অভিমত জানিয়েছেন? সেটা কী ধরনের অভিমত? 
হামিরঃ 
বইটি সবে মাত্র প্রকাশিত হয়েছে।যিনি নিয়েছেন, এত তাড়াতাড়ি সব গল্পগুলি পড়া সম্ভব নয়। তবে যারা পড়ছেন,তারা জানাচ্ছেন,খুব ভাল লাগছে গল্পগুলি।মাটির গন্ধ পাচ্ছেন গল্পে।আমি তো মাটির কাছেই থাকি।গল্পে সেই গন্ধ ফুটিয়ে তুলতে পেরেছি জেনে উৎসাহ পাচ্ছি।অনেকেই জানিয়েছেন আমি যেন এই ধরনের লেখায় লিখে যায়।স্রোতে গা মিশিয়ে না দিই।যারা আমাকে ভালবাসেন বিভ্রান্ত হওয়ার থেকেও দূরে সরানোর পথ বাতলে দিচ্ছেন। 
অনামিকা বন্দ্যোপাধ্যায় : 
কোনো অগ্রজ লেখক কি বইটি কিনেছেন? জানিয়েছেন তার পাঠ প্রতিক্রিয়া? 
হামিরঃ আমি তো লেখালেখি করতে এসেছি সবেমাত্র।তাই সবাই আমার অগ্রজ।বইমেলায় একদিনের জন্য গেছিলাম। স্টলেও বসিনি বেশিক্ষণ। যিনি বই কিনবেন,বই দেখেই নেবেন—আমাকে দেখে নই।কোনো অগ্রজ লেখক বই কিনেছেন নাকি সেটা প্রকাশক বলতে পারবেন।তবে আমার বিশ্বাস আমার লেখাকে যারা পছন্দ করেন,তাঁরা অবশ্যই নিয়েছেন। 
পাঠপ্রতিক্রিয়া পাচ্ছি। সব গল্পগুলি না পড়া হওয়া অবধি আমাকে অপেক্ষা করতে হবে। 
অনামিকা বন্দ্যোপাধ্যায় : 
আলোচক, সমালোচক, পত্রিকা কি কোনো লেখা প্রকাশ করেছেন এই গ্রন্থটি বিষয়ে? 
হামিরঃ 
স্যোসাল মিডিয়ার কয়েকটি মাধ্যমে কিছুজন জানিয়েছেন।আগেই বললাম,সবেমাত্র প্রকাশ পেয়েছে বইটি।আমি নিজের থেকে কাউকে কিছু অনুরোধ করিনি। 
অনামিকা বন্দ্যোপাধ্যায় : 
এই বইটি প্রকাশের পরে কি আর কোনো গ্রন্থ লিখবেন মনে করছেন? 
হামিরঃ 
লেখালেখির তো শেষ নেই।বুকের ভেতর যতদিন লেখা জমে থাকবে, ততদিন লিখে যাব।তবে বই করার জন্য তাড়াহুড়ো করে কিছু লিখব না।এখন লিখতে থাকি।লেখা জমুক।আবার বই করার উপযোগী লেখা থাকলেই বই হবে,তার আগে নয়। 
গল্পসংকলনঃ 
আজরাইলের ডাক 
লেখক- হামিরউদ্দিন মিদ্যা 
প্রকাশক- সৃষ্টিসুখ ( 30A Sitaram Ghosh Street, কলকাতা – 9) 
মূল্য- ১৩৯ টাকা 
প্রচ্ছদ – রোহণ কুদ্দুস 
প্রি-অর্ডার – https://sristisukh.com/bf19/product/আজরাইলের-ডাক/

5 thoughts on “২০১৯ সালে বইমেলায় প্রকাশিত বই নিয়ে লেখকের সঙ্গে আলাপ : হামিরউদ্দিন মিদ্যা

  • March 11, 2019 at 10:06 am
    Permalink

    বাহ খুব ভালো…..হামির দা এভাবেই চালিয়ে যাও.. আরও গল্প সংকলন বের হোক…উপন্যাস বের হোক….

    Reply
  • March 11, 2019 at 12:13 pm
    Permalink

    আজরাইলের ডাক অসম্ভব ভালো বই। প্রতিটি গল্প পড়তে গিয়ে শুরু থেকেই শব্দ, গল্পবিন্যাসে ডুবে গেছি। এভাবেই এগিয়ে যাও হামির।

    Reply
  • March 11, 2019 at 4:57 pm
    Permalink

    যে সবার থেকে ভিন্ন তাকেই স্মরণে রাখে।
    খুব ভালো থেকো

    Reply
  • March 12, 2019 at 10:53 am
    Permalink

    এই মন্তব্যটি লেখক দ্বারা সরানো হয়েছে।

    Reply
  • March 12, 2019 at 11:00 am
    Permalink

    অভিনন্দন! ভাই হামিরউদ্দিন মিদ্যা, শুভ হোক পথ চলা।

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published.

-+=