গল্পপাঠ ।। আষাঢ়- শ্রাবণ ।। ১৪২৭ বঙ্গাব্দ ।। জুলাই-আগস্ট ।। ২০২০ খ্রিস্টাব্দ ।। সংখ্যা – ৭৩

বঙ্গবন্ধু হত্যা, দেশভাগ সব মিলিয়ে অগাস্ট মাসটি আমাদের জীবনে বিশেষ ছায়া ফেলে। বঙ্গদেশে এখন বর্ষা, কিন্তু পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা বাঙালীরা বিভিন্ন ঋতুর অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু যে অভিজ্ঞতাটি তাঁদেরকে এবং পৃথিবীর মানুষকে এক করেছে তা হল এক মহামারীর অষ্টম মাসটিতে প্রবেশ করা। ভাইরাসের আঘাতে পর্যুদস্ত পৃথিবীর মানুষ হয়তো ভেবেছিল এরকম একটি প্রাণঘাতী মারীর বিরুদ্ধে সবাই এক হবে – তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা দেশ, জাতি, সমাজ, বর্ণ, ধর্মের উর্ধে উঠে ভবিষ্যৎদর্শী হবে, মানুষকে সম্মিলিত হয়ে বাঁচার পথ নিরূপণ করবে। কার্যত তা হয় নি। বর্তমানে প্রতিটি দেশ আলাদা ভাবে এই সংক্রামক ব্যাধির বিরুদ্ধে লড়ছে। কয়েক জায়গায় ক্ষণিক জয় হচ্ছে, আবার কিছু পরেই সেই জয়ের আনন্দ মুছে দিয়ে এই ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র জীবাণু মানুষের মেধাকে আবারও বিদ্রূপ করছে। দমবন্ধ করে মানুষ বসে আছে উদ্ধারের আশায়, প্রতিষেধকের আশায়। সেই শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থায় আমরা স্মরণ করি মানুষ এরকম মহামারীর সম্মুক্ষীণ আগে বহুবার হয়েছে, আমাদের বর্তমান অবস্থার অন্যরকম পুনরাবৃত্তি। সেই অতীতের সাথে যোগসূত্র খুঁজতে অনেকেই বঙ্কিম থেকে শুরু করে শরৎচন্দ্র, তারাশঙ্কর, বিভূতি, মানিক হয়ে জহির রায়হানের লেখায় বাংলার অতীতে ওলা-উঠা, বসন্তসহ বিভিন্ন মড়ক ও মহামারীর বর্ণনা খুঁজেছেন। আর্ট জীবনকে বর্ণনা করে, আর্ট আর জীবন যেখানে এক হয়ে যায় সেখানে তাদের সম্মিলন এক ধরণের অতিবাস্তবতার রূপ নেয় যা আমাদের মননে স্থায়ী হয়। 
চতুর্দশ শতাব্দীতে ইউরোপ ও এশিয়াকে যখন প্লেগের কালো মৃত্যু ঢেকে দেয় তখন ওই মারীতে পৃথিবী হয়তো তার ২০% জনসংখ্যা হারায়, ইউরোপ ৫০%। ইতালীয় জিওভানি বোক্কাচিও সেইসময়ে ডেকামেরন নামে একটি উপন্যাস লেখেন যেখানে সাতজন নারী ও তিনজন পুরুষ প্লেগ থেকে বাঁচতে ফ্লোরেন্সের বাইরে একটি ভিলায় আশ্রয় নিয়েছিল। সময় কাটাতে এই দশটি চরিত্র একে অপরকে দশ দিনে দশটি গল্প বলে। ডেকামেরন নামটির অর্থও দশ দিন। গল্পগুলোর সঙ্গে মারীর সম্পর্ক নেই, বরং ওই সময়ে ইউরোপে সমাজের অর্থনৈতিক সম্পর্কগুলো যেভাবে বদলাচ্ছিল এবং তার ফলে যে নতুন মূল্যবোধ ও দর্শনের আবির্ভাব হচ্ছিল তার আভাষ এই গল্পগুলোয় পাওয়া যায়। গীর্জার পুরোহিতসম্প্রদায়ের প্রতি সন্দেহ, নতুন ব্যবসায়ী শ্রেণীর সঙ্গে ভূমিমালিক অভিজাত সম্প্রদায়ের দ্বন্দ্ব, ভাগ্যের পরিহাস এবং এক ধরণের বুদ্ধিবৃত্তিক দর্শন বোক্কাচিওর লেখায় পাওয়া যায়।

‘গল্পপাঠের’ পরিবেশনাকে এক অর্থে ডেকামেরনের অন্য একটি রূপ বলে পাঠক ধরে নিতে পারেন। এখানে মারীসংক্রান্ত সরাসরি লেখা প্রায় নেই বললেই চলে, কিন্তু বহু লেখকের পৃথক মানসে গড়ে ওঠা গল্পগুলিতে বর্তমান সময়ে আমাদের মূল্যবোধ ও দর্শন কীভাবে বিবর্তিত হচ্ছে তার একটি চিত্র হয়তো পাওয়া সম্ভব। এই বিবর্তনের ধারাটিকে যাতে ধরা যায় সেজন্য প্রতিবারের মতই আমাদের রমাপদ চৌধুরী ও সৈয়দ মুজতবা আলীর মত লেখকদের নিয়ে একটি চিরায়ত গল্পের সম্ভার রয়েছে। সেগুলোর সঙ্গে প্রভেদের মাত্রাটি বোঝাতে রয়েছে আধুনিক ডেকামেরনের কাহিনী ইকবাল হাসানের গল্প রিমান্ড কিংবা দেবর্ষি সারগীর গল্প সৈনিক। বৈচিত্রের ডালিতে ঠাঁই পেয়েছে চারজনের নিজের লেখা ও তাদের বিদেশী লেখকের অনুবাদ। এবারও এসেছে প্রচুর অনুবাদ – ক্যাথরীন ম্যান্সফিল্ড থেকে রোবেরতো বোলানিও। রয়েছে বই নিয়ে আলোচনা, পাঠপ্রতিক্রিয়া। 
আমরা আশা করি না পাঠক গল্পপাঠের প্রতিটি সংখ্যার প্রতিটি গল্প পড়বেন, সেই সময় তাদের হাতে নেই। কিন্তু এই বিচিত্রতায় তিনি তাঁর পছন্দের গল্পগুলি, কি পছন্দের লেখককে খুঁজে পাবেন এই আশা করি। আর যারা গল্পপাঠে লেখা পাঠাতে চান তাঁদের অনুরোধ করব পিডিএফ ফাইল না পাঠিয়ে সরাসরি অভ্র (ইউনিকোড) ওয়ার্ড ফাইল পাঠাবেন।



 অমলেন্দু চক্রবর্তী’র গল্প:

কোন এক বন্ধুকে খুঁজে পাওয়ার গল্প

চিরায়ত গল্প: পুনর্পাঠ
কিছু গল্প বলার ভঙ্গীতে অনন্য হয়ে ওঠে। গল্পের বিভিন্ন বাঁক পেরিয়ে পাঠক আবিষ্কার করে এক অনবদ্য আখ্যান। তেমনই কয়েকটি গল্প এখানে প্রকাশিত হলো। 
স্মৃতি ভদ্রের গল্প : এলেনা বেলেনা


সাগুফতা শারমীন তানিয়া পাঠ প্রতিক্রিয়া
গজেন্দ্রকুমার মিত্র’র উপন্যাস
পাঞ্চজন্য নিয়ে কথা

যে দিন ভেসে গেছে
উনিশ পর্ব
অনুবাদ : উৎপল দাশগুপ্ত
একজন ঋদ্ধ লেখক যখন অনুবাদ করেন, তখন সেই অনুবাদ গুলো হয়ে ওঠে নিটোল আর সুললিত। অনুবাদেও মূল গল্পের মাধুর্য অটুট থাকে। লেখকের হাতে একটি অনুবাদ ততটাই সাবলীল যতটা তাঁর মূল গল্প। গল্পপাঠ এবার তাই একই লেখকের মূল লেখা আর তাঁর অনুদিত গল্প পাশাপাশি রাখলো। 

র‍্যাচেল কাস্ক’র এর দীর্ঘ সাক্ষাৎকার : আর্ট অফ ফিকশন
অনুবাদ : মোহাম্মদ আসাদুল্লাহ্‌

র‍্যাচেল কাস্ক। ১৯৬৭ সনে ক্যানাডায় জন্ম গ্রহণ করেন।পিতামাতা ছিলেন ব্রিটিশ।প্রথমে তারা লসএঞ্জেলসে এবং পরবর্তীতে সেখান হতে ফিরে গিয়ে ইংল্যান্ডে স্থায়ীভাবে অভিবাসন করেন। লেখিকা বর্তমানে ইংল্যান্ডেই বসবাস করছেন। বিশ বছর বয়সের পূর্বেই তিনি নিজের উপন্যাস প্রকাশ করা শুরু করেন। তার প্রথম উপন্যাসের বিষয়বস্তু ছিল বুদ্ধিবৃত্তিক। উপন্যাসটিতে তিনি প্রতিবিম্বিত করেছিলেন মূলবিচ্ছিন্ন কিছু মানবমানবীর জীবনকে, যারা সবাই এই বেদনার্ত ও ভালবাসাহীন পৃথিবীতে কঠোর পরিশ্রম সত্ত্বেও সাফল্য অর্জনে ব্যর্থ হচ্ছিল। তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস –The Last Supper, Aftermath, ট্রিলজি–Outline (২০১৪), Transit (২০১৬) এবং Kudos। সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছেন শেইলা হেতি। প্রকাশিত হয়েছিল দি প্যারিস রিভিউ পত্রিকায়। পুরোটা পড়তে ক্লিক করুন>>

কথাসাহিত্যিক মোহিত কামালের সাক্ষাৎকার

মোহিত কামাল (জন্ম ২ জানুয়ারি ১৯৬০) বাংলাদেশের একজন কথাসাহিত্যিক ও মনোশিক্ষাবিদ। শিশু সাহিত্য বিষয়ে অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ তিনি ১৪১৮ বঙ্গাব্দে শিশু একাডেমি প্রদত্ত অগ্রণী ব্যাংক শিশু একাডেমী শিশুসাহিত্য পুরস্কার এবং কথাসাহিত্যে অবদানের জন্য ২০১৮ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন। তার প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা ৪৮ টি। এর মধ্যে ১৭টি উপন্যাস, ১০টি গল্পগ্রন্থ, ১০টি শিশুসাহিত্য, ১টি সম্পাদনাগ্রন্থ এবং ১০টি মনস্তত্ত্ব ও গবেষণা বিষয়ক গ্রন্থ। মোহিত কামালের সাহিত্যপাঠ ও লেখালেখি বিষয়ে একটি লিখিত সাক্ষাৎকার নিয়েছেন গল্পপাঠের পক্ষে এমদাদ রহমান। পুরোটা পড়তে ক্লিক করুন>>

এ সময়ের অন্যতম কথাসাহিত্যিক তন্বী হালদার পশ্চিমবঙ্গের বাংলা আকাদেমির ‘সোমেন চন্দ স্মৃতি পুরস্কার’ পেয়েছেন ‘মজুররত্ন’ গল্প সংকলনের জন্য। জলাভূমি উপন্যাসের জন্য পেয়েছেন বাংলা একাডেমির ‘সুতপা রায়চৌধুরী স্মারক পুরস্কার’। এ পর্যন্ত লিখেছেন শতাধিক ছোটো গল্প এবং ৮ টি। নাটক লেখেন। লেখেন কবিতাও।
তন্বী হালদারের সাহিত্যপাঠ ও তাঁর লেখালেখি নিয়ে গল্পপাঠের পক্ষে এমদাদ রহমানের লিখিত প্রশ্নের উত্তর পত্রস্থ হলো। পড়তে ক্লিক করুন>>

আরো কয়েকটি গল্প:

অনুবাদ গল্প

নোবেল
বিজয়ী কথাসাহিত্যিক গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজ ও নাগিব মাহফুজ, জাদুবাস্তবতায় সিদ্ধহস্ত, বিশ্বজুড়ে বহুলপঠিত কথাসাহিত্যিক
হারুকি মুরাকামি, জর্ডানের ভিন্নধারার লেখক হিশাম বুস্তানি, আইরিশ গল্পকার নিয়াম
ক্যাম্বল এবং নিউজিল্যান্ডের লেখক ক্যাথরিন ম্যান্সফিল্ড এই পাঁচ লেখকের পাঁচটি ভিন্ন স্বাদের গল্পের অনুবাদ প্রকাশিত হলো :


অনুবাদ : মোহাম্মদ আসাদুল্লাহ্‌
রূপান্তর: শামীম মনোয়ার
অনুবাদ : যশোধরা রায়চৌধুরী

রেইমন্ড কারভার’এর গল্প : প্রতিবেশী
অনুবাদ : শামসুজ্জামান হীরা

মার্গারেট এ্যাটউডের গল্প : বাথরুমে যুদ্ধ
অনুবাদ : ঝর্না বিশ্বাস

অনুবাদ গল্প
যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা এবং বৃটেনের চারজন বিশিষ্ট লেখকের আত্মকথন মূলক চারটি অনুবাদ গল্প

অনুবাদ : রোখসানা চৌধুরী
গল্পপাঠে প্রথমবারের মতো এই চারজন গল্পকার গল্প লিখেছেন। লেখাজোকার ক্ষেত্রে যাঁরা মোটেও নতুন নন। এদের মধ্যে বিশেষ করে বয়সে তরুণ প্রজ্ঞা মৌসুমীর গল্পটি পাঠ করে পাঠক চমকবোধ করবেন। মেটাফরের আগল ভেঙে নিবিড় পাঠে যেটি নিঃসন্দেহে আনন্দপাঠ হবে। এছাড়া রানা মেহের, সৌরভ ভট্টাচার্য এবং অমিতাভ চক্রবর্ত্তীর লেখনীতে আগামীদিনের নিপুণ গল্পকারদের উপস্হিতি টের পাওয়া যাবে একথা নিশ্চিত হয়েই বলা যায়। গল্পগুলো পাঠকদের ভালো লাগবে।


                                     বই নিয়ে আলোচনা 
 আরো গল্প:

গল্পপাঠের লাইভ আড্ডা 
কথাসাহিত্যিক অহনা বিশ্বাস এবং রুখসানা কাজলের সঙ্গে আড্ডা 
কথাসাহিত্যিক মেহেদী উল্লাহ এবং জয়দীপ দে সঙ্গে আড্ডা 
কথাসাহিত্যিক কুলদা রায়ের সঙ্গে হ্যাংout

5 thoughts on “গল্পপাঠ ।। আষাঢ়- শ্রাবণ ।। ১৪২৭ বঙ্গাব্দ ।। জুলাই-আগস্ট ।। ২০২০ খ্রিস্টাব্দ ।। সংখ্যা – ৭৩

  • August 30, 2020 at 9:32 am
    Permalink

    কিভাবে আমি লেখা পাঠাবো আপনাদের পাতায় ?

    Reply
  • September 2, 2020 at 11:04 pm
    Permalink

    galpopath@gmail.com

    এম.এস ওয়ার্ড ফাইলে লেখা পাঠান। সাথে সংযুক্ত করুন আপনার ছবি এবং পরিচিতি। গল্পপাঠ আপনার সেরা গল্পের অপেক্ষায়।

    Reply
  • September 3, 2020 at 4:44 am
    Permalink

    আপনাদের উদ্যোগটা প্রশংসনীয়। অনেক গল্পের সমাহার দেখে পড়ার লোভ হচ্ছে। কিন্তু আপনাদের উপস্থাপনভঙ্গি হাস্যকর। বানান ভুল, ফন্ট ভেঙ্গে যাওয়া- এসব কী? সাইটের ওয়েবভিউ মোবাইল ভিউ আদিম। এটা যে ২০২০ সাল, সেকথা জানেন তো?

    Reply
  • September 3, 2020 at 7:34 pm
    Permalink

    'গল্পপাঠ' প্রতি দুই মাস অন্তর বের হয়? নতুন কেউ লেখা পাঠাতে পারবে কি না, বা লেখা পাঠাবার নিয়মকানুন জানালে খুসি হই।

    Reply
  • October 26, 2020 at 5:23 pm
    Permalink

    পরবর্তী সংখ্যা কবে প্রকাশিত হবে?

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published.

-+=