ওয়াসি আহমেদের গল্পপাঠ প্রসঙ্গে: সাদিয়া সুলতানা

ছোটগল্প কখনোই নির্দিষ্ট বৃত্তের ভেতরে আটকে থাকেনি, এমন কী কোনো নির্দিষ্ট কেন্দ্রমুখী হয়ে আবর্তনও করেনি। সময়ের ঘুর্ণনের সঙ্গে সঙ্গে গল্পের বিষয়বস্তু পাল্টেছে, পাল্টেছে গল্পের শৈলী। গল্পকারেরা নানা নিরীক্ষার মধ্য দিয়ে পাঠককে চমকেও দিতে চেয়েছেন। পাঠকও যৌক্তিক-অযৌক্তিক প্রশ্নের জটলায় নিজেকে আবিষ্কার করার মধ্য দিয়ে পাঠতৃপ্তি হাতড়ে বেরিয়েছেন। নিরীক্ষাধর্মী অথবা চিরায়ত-যেই আঙ্গিকেই গল্প বলা হোক না কেন যে গল্প পাঠককে ভাবায় না বা অপ্রস্তুত করে না তা যেন ঠিকঠাক গল্প নয়। গল্প যখন পাঠককে এমন এক ইন্দ্রিয়াতীত অনুভবের দিকে তাড়িয়ে নিয়ে যায় যে তার টেবিলে রাখা চা জুড়িয়ে যায় তখনই গল্পটি অসামান্য হয়ে ওঠে। প্রকৃতপক্ষে গল্পপাঠ শেষ হলেও এমন গল্প ফুরোয় না। বাংলাদেশে এমন গল্প যারা লিখেছেন, লিখছেন তাদের মধ্যে কথাশিল্পী ওয়াসি আহমেদের নাম প্রশ্নাতীতভাবে চলে আসে। যতটুকু দেখেছি বা পড়েছি; উপলব্ধি করেছি, নিরীক্ষা প্রবণতার মধ্য দিয়ে গল্পের জগত বৈচিত্র্যময় হলেও গল্পের আঙ্গিক অনাবশ্যক জটিল আর দুর্বোধ্য হলে পাঠক গল্পের সঙ্গে একাত্ম হতে পারে না। এক্ষেত্রে পাঠক পাঠভ্রমণের মাঝপথে থেমে যায় বা ক্লান্তি অনুভব করে। শেষ অব্দি সেই পাঠক গল্পের সমাপ্তিতেও পৌঁছাতে পারে না। ওয়াসি আহমেদ গল্প নির্মাণে কৌশলী আর শব্দবিন্যাসে সহজ, সাবলীল বলেই হয়তো পাঠক তার গল্পের থিম আর আখ্যানের সঙ্গে একাত্ম হতে পারে।
 
ওয়াসি আহমেদের গল্পে কেবল রূপক বা অলীক ভাবনারাই আসে না, তার গল্পে সমসাময়িক বিষয় আর বাস্তবতার নির্মম প্রেক্ষাপটও প্রকট হয়ে উঠতে দেখি। এ কারণেই হয়তো তার নির্মিত আখ্যানের সঙ্গে পাঠকের কল্পনা আর অভিজ্ঞতার আশ্চর্য এক সংযোগ তৈরি হয়। বাঁশফুল নিয়ে লেখা ওয়াসি আহমেদের গল্প ‘বক ও বাঁশফুল’ এমনই এক গল্প। এই গল্পে ব্যবহৃত মিথ পাঠককে জীবনের গূঢ়তার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়। মূলত একটি রূপকধর্মী ও ভাবনাশ্রয়ী গল্প এই ‘বক ও বাঁশফুল।’
 
জ্ঞানবৃক্ষদের কাছ থেকে জেনেছি বাঁশগাছে ফুল ফোটা গ্রামীণ জনপদের মানুষের কাছে এক রহস্যময় বিষয়। লোকে বিশ্বাস করে বাঁশফুল ফুটলে ধ্বংসযজ্ঞ শুরু হয়। দ্রুতগতিতে বাঁশগাছ বেড়ে উঠলেও এই গাছে অনেক দেরিতে ফুল ফোটে। বাঁশঝাড়ে ফুল ফুটতে অর্ধশত বছর থেকে শত বছরও লেগে যায়। আর যখন ফুল ফুটতে শুরু করে তখন পৃথিবীতে একযোগে সকল গাছে ফুল ফুটতে শুরু করে। বাঁশঝাড়ে ফুল ফুটলেই শুরু হয় গাছের মড়ক। উদ্ভিদবিজ্ঞানীগণ হয়তো এর যৌক্তিক কারণ বলতে পারবেন। তবে গ্রামের মানুষ বিশ্বাস করে নিজের মৃত্যু ডেকে আনার সঙ্গে সঙ্গে বাঁশফুল মানুষের জীবনেও দুর্ভোগ, দুর্ভিক্ষ, এমনকি মড়কও ডেকে আনে। ওয়াসি আহমেদের ‘বক ও বাঁশফুল’ গল্পের মন্তাজও তাই বিশ্বাস করে। আচমকা একদিন ঝাড়ে ফুল দেখে মন্তাজ তাই দিশেহারা হয়ে যায়, স্ত্রীকে বলে ‘চল, ভাগি।’ এদিকে আতংকগ্রস্ত মন্তাজকে দেখে পাঠক আমিও বিচলিত হই। আবার ঝাড়ে ফুল আসার পর যখন বাঁশঝাড়ের বাসিন্দা রাশি রাশি বক ফুলের কুঁড়ি ছিন্নভিন্ন করে, তছনছ করে অজস্র বাঁশফুল তখন বকেদের এই রহস্যময় আচরণের নেপথ্যের কার্যকারণ নিয়ে ভাবতে বাধ্য হই।

ওয়াসি আহমেদের কালাশনিকভের গোলাপ গল্প সংকলনের গল্প ‘আরজু যা বুঝতে চেয়েছিল।’ সাতদিন আগে ঘরে ফেরার পথে হাত তিনেকের বাবলার টুকরার বাকলের গোলগাল ফোঁড়াটা খুঁচিয়ে-খাঁচিয়ে এক রত্তি কোলবালিশের মতো কবচটা পেয়েছিল আরজু। তারপর থেকে নারকেল খোলে করে মাচায়, তিনজনের তেলতেলে মুখ, ভাত গরুর মাংস…কবচটা নিয়ে আরজুর অমীমাংসিত ভাবনার ভেতরে এসেছে বার বার। গাছের বাকলে মাটি লেপা অবস্থায় রাখা কবচটি পেয়ে আরজু যা বুঝতে চেয়েছিল সে হিসেব বুঝে নিতে আমার দৃষ্টিসীমাতেও বার বার তেলে ভাসা হাসি, পোঁটলাবাঁধা ভাত, গরুর মাংস ভেসে ওঠে। আর কবচ থেকে মুক্তি লাভ করার পরে আরজুর মতো ঘুম বরবাদ না হলেও জীবনধারণের অনুষঙ্গসমূহের সমন্বয় আর সমন্বয়হীনতা আমাকে চিন্তার বৃত্তে বেঁধে রাখে।
 

ছকে বাঁধা গল্পশৈলীতে সাজানো আখ্যানই শুধু নয়, বর্ণনাতীত কোনো অনুভবও যে গল্পের নিয়ন্ত্রক হয়ে উঠতে পারে তার নমুনা দেখতে পাই ওয়াসি আহমেদের ‘বীজমন্ত্র’ গল্প সংকলনের ‘পারুল’ গল্পে। এই গল্পে ভোরবেলায় শীত-শীত নরম হাওয়ার শিউরানিতে নার্সারিতে ফুল চুরি করতে আসা ছোটখাটো দঙ্গলের সঙ্গে একজন বর্ষীয়ান মানুষও সামিল হয়। আঁকশি বাগিয়ে বর্ণময়, নিঃশব্দ আর চঞ্চল ফুল-ছেঁড়ার দুঃসাহসের ভেতরে যার বুকের ধুকপুকটুকুও পাঠকের কানে বাজে। অনেককাল পরে সেই ফুলচোরও নিজের ভেতরে সাহসের একটা দুরন্ত ওঠানামা টের পায়। তারপর একসময় ‘বিন্দু বিন্দু বর্ণিল ফুলের স্মৃতি ফিকে হতে’ থাকলে চল্লিশ বছর পুরোনো বির্মষ, অভিমানহত এক ধূসর রমণীর মুখের সঙ্গে ‘পারুল’ নামটি তার কানে ছন্দোবদ্ধ বাজনার মতো বাজতে থাকে।
 
এভাবে কেবল মানুষের অন্তর্জগত নয়, প্রকৃতিকেও নিবিড়ভাবে দেখেন এই গল্পকার, তাই কলমে দরদ ঢেলে লেখেন, ‘এতদূর পাড়ি দিতে দিতে মেঘটা ঠিক মেঘের মতো নয়, উজান হাওয়া ঠেলে ঠেলে কাঠকাঠ, বাষ্পহীন, জলহীন। খোলা, উলঙ্গ, মায়াহীন। পুকুরের তলানির কাদার মতো মেঘটা আটকে থাকে নিচু হয়ে গাছপালা থেকে মাত্র দশ-পনেরো হাত ওপরে। থমথম গুমোট নিশ্বাস কখনো কুয়াশার মতো ঝুল পাকায়। আঁচটা গায়ে লাগে। না-গরম, না-ঠান্ডা ছোঁয়ায় বুকের ভেতরে লুকানো আত্মা গুরুগুরু ডাকে মেঘের গলায়।’ এভাবে ওপার পাড়ি দিয়ে মেঘ এপারে আসে, যেভাবে আসে ‘মধ্যদিনের গান’ গল্পের মাশুক আলী। দেশ বদল হওয়া, ওপার এপারে পালিয়ে বেড়ানো মাশুক আলীর পুরো নাম মাশুক আলী মহম্মদ গাজী, সেই নাম নিয়ে জ্ঞাতি-কুটুমেরা হাসাহাসি করে। মালদা বর্ডার পার হয়ে দালালকে বখশিশ দিয়ে বার বার তবু এপারে আসে মাশুক আলী। আবার ঝড়-বৃষ্টিতে ঘোরঘোর চোখে পথ-ঘাট দেখতে না পাওয়া রাতে পুনরায় ওপারে পালিয়েও যায়। কেন যায়, কেন পালায়-সেসব প্রশ্ন নিয়ে তার বুকে ঝড়ের মাতামাতি চলে। শুধু মুসলমান মাশুক আলী নয়, এপার থেকে হিন্দুরাও ওপারে যায় রোজ। মারামারি কাটাকাটি শুরু হলেই যে তারা ওপারে যায় তা না। মাশুক আলী জানে, সাধারণ মানুষ আসলে ভূত-ভবিষ্যৎ নিয়ে থই পায় না। তাই স্থানান্তর করে নিজের বসতি। যদিও সে বোঝে না কেন প্রখর মধ্যদিনে বুকের ভেতরে দিকচিহ্নহীন দুপুর জেগে ওঠে, কেনই বা হৃদপিণ্ড মুচড়ে আকুল কান্না ফুলেফেঁপে ওঠে।
 
‘ভারহীন দৃষ্টিহীন’ গল্পের তারিক একজন মানুষকে গলায় ফাঁস লাগিয়ে খুন করার দৃশ্য দেখে ফেলে। এরপর ছ-মাস ধরে মাথার মধ্যে এই রোমহষর্ক ঘটনা নিয়ে চলাফেরা করতে করতে সে পুনরাবৃত্তির মতো ঘটনাটা পুঙ্খানুপুঙ্খ দেখতে পায়। খুন করার দৃশ্যটা কল্পনা করতে করতে তারিকের মতো বার বার আমি ধন্দে পড়ে যাই। মাথার ভেতর থেকে ঘটনাটাকে উৎখাত না করা পর্যন্ত ভারহীন হতে পারি না। ‘ভারহীন দৃষ্টিহীন’ গল্পে আখ্যানের ঘনঘটা না থাকলেও দিনযাপনের উটকো সংকটে ভারহীন আর দৃষ্টিহীন হবার লক্ষ্যে অলক্ষ্যে ছলচাতুরী খোঁজার পথের নিশানা আছে।

জীবনের খুব গুরুত্বপূর্ণ কিছু জাদুর মতো হুট করে অদৃশ্য হয়ে গেলে সত্যিই কি অস্থির হয়ে উঠবো আমরা? নাকি সারাক্ষণ চোখে চোখে, অন্দরে অন্তরে থাকে বলে তার অনুপস্থিতি একটুও আলোড়ন তুলবে না আমাদের ভেতরে? ‘হোয়াইট ম্যাজিক’ গল্পটি পড়তে পড়তে এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে চোখে জাদুঘোর লাগে, বিভ্রমে পড়ে যাই। এই গল্পটি একজন ম্যাজিশিয়ান আর তার ম্যাজিক নিয়ে শুরু হলেও গল্পের জাদুকর জাদু দিয়ে শহিদ মিনার অদৃশ্য করে ফেললেও যখন নগরবাসীর ভেতরে কোনো হেলদোল দেখা যায় না তখন গল্পটি কেবল জাদুর থাকে না। ম্যাজিশিয়ান জাদু দিয়েই আমাদের বুঝিয়ে দেন, মানুষের ভেতরে আলোড়ন তুলতে হলে চাই নাটকীয়তা, চাই আয়োজন করে আসর সাজানো। তিন পৃষ্ঠার ছোট্ট এই গল্পটি ম্যাজিকের মতো শুরু হয়ে ম্যাজিকের মতো ফুরিয়ে গেলেও জাদুবস্তবতার ভেতরে আটকে রাখে দীর্ঘক্ষণ।
 

অ্যাকাউন্টস অফিসার আহমদ হোসেনের ফেয়ারওয়েল ঘিরে খুব সাদামাটাভাবে ‘শৈত্যপ্রবাহ’ গল্পের কাহিনি এগোতে থাকে। যদিও আহমদ হোসেনের নিজের কাছেই ফেয়ারওয়েল ঘিরে করা আয়োজন অনাকাঙ্ক্ষিত ও অবিশ্বাস্য লাগে। কারণ তার সমপর্যায়ের বা কিছু ওপরের দিকের কর্মকর্তারা যারা গত কয়েক বছরে অবসরে গেছেন তাদের কাউকেই এত আয়োজন করে বিদায় সম্বর্ধনা দেওয়া হয়নি। এদিকে বিদায় অনুষ্ঠানে ভাল ভাল কথা বলার রেওয়াজ অনুসরণ করে সহকর্মীরা যতই আহমদ হোসেনের গুণকীর্তন করে তিনি ততই যেন নিজের কাছে উন্মুক্ত হয়ে পড়েন। সকলের কথা শুনে তার মনে হয় সবাই জোট বেঁধে তার রুহের মাগফেরাত কামনা করছে। এই অনুভূতির মধ্য দিয়ে যেতে যেতে আহমদ হোসেনের পরিণতি ‘শৈত্যপ্রবাহ’ গল্পকে ভিন্ন এক সমাপ্তির দিকে এগিয়ে নেয়। আর শেষ পর্যন্ত একটা সাদামাটা আখ্যানও গল্পের ফ্রেমে পাঠক আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
 
ওয়াসি আহমেদের ‘তেপান্তরের সাঁকো’ গল্প সংকলনে অর্ন্তভুক্ত গল্প ‘ডলফিন গলির কুকুরবাহিনী।’ লেক সার্কাসের ডলফিন গলির কুকুরবাহিনীকে একদিন সকালে সিটি কর্পোরেশনের কুকুর-ধরা ঠ্যাঙাড়ে বাহিনী তুলে নিয়ে যাবার পর পরই মূলত গল্পের শুরু হয়। গলিবাসীর কুকুরবাহিনী নিয়ে বিড়ম্বনা আর ভোগান্তির অন্ত ছিল না। বেওয়ারিশ কুকুরগুলোর জ্যামিতিকহারে বংশবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এদের হাঁক-ডাকও বাড়ছিল। পালে পালে ঘুরে বেড়ানো এইসব কুকুরের জন্য শান্তিতে বিছানায় ক্লান্ত শরীর রাখার উপায় পর্যন্ত ছিল না। শেষ পর্যন্ত এই সমস্যার সমাধান ঘটে।
 
সিটি কর্পোরেশনের বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত স্কোয়াডের কুকুর ধরার কার্যক্রমটাও বেশ দেখার মতো বিষয় ছিল। ‘প্রথমে তারা দু-তিন জনের ছোট-ছোট দলে ভাগ হয়ে পাউরুটি, বিস্কুটের লোভ দেখিয়ে, মুখে চোঁ চোঁ আওয়াজ তুলে একেকটা কুকুর কাছে টেনেছে; তারপর আচমকা দলের একজন লোহার বেড়ি দিয়ে কুকুরটার গর্দান চেপে ধরেছে, সঙ্গে সঙ্গে আরেকজন হাতখানেক লম্বা ইনজেকশনের সিরিঞ্জ মাটিতে শাবল পোঁতার মতো ঘাড় বরাবর বিঁধিয়ে দিয়েছে। কয়েক সেকেন্ডের অপেক্ষা, হাতের পাউরুটি কি বিস্কুট হাতেই রয়ে গেছে, ওদিকে ঘাড় হেলিয়ে কুকুরটা নেতিয়ে পড়েছে।’ এভাবে একদিন কুকুরবিহীন ডলফিন গলি অথৈ নীরবতার মধ্যে ডুবে গেল আর গলিবাসী নিজেদের গাঢ়-গভীর-স্তব্ধ রাতে অন্যরকম এক দৃশ্যকল্পের ভেতরে আবিষ্কার করে। মদ্দা, মাদি, কুঁচোকাঁচা, লোম-ওঠা, লোম-ঢাকা, লেজ-কাটা, তিনপেয়ে, আড়াইপেয়ে, ঘেয়ো শরীর, রক্ত-পুঁজ-মাছি লাগা কুকুরগুলোর অনুপস্থিতিতে গলিবাসী অদ্ভুত এক উপলব্ধিতে আচ্ছন্ন হয়। শেষ পর্যন্ত তারা কুকুরহীন নিরুপদ্রব জীবনে প্রশান্তির ঘুমে ডুবতে পারে কিনা তা জানতে হলে গল্পের একবারে সমাপ্তিতে যেতে হয়। আর তখনই গলিবাসীর মতো নিজেকে এক অস্বস্তিকর মুহূর্তের ভেতরে নিজেকে আবিষ্কার করি। নিজেকে নিজে প্রশ্ন করি, জন্মলগ্ন থেকে তাবিজ-মাদুলি অথবা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মতো জড়িয়ে থাকা অনুষঙ্গগুলো হুট করে গায়েব হয়ে গেলে মুক্তির স্বাদ আস্বাদন করা কি সহজ হয়? না কি আরও দুরুহ হয়ে পড়ে?
 
গল্পপাঠ শেষে পাঠক এমন প্রশ্নচিহ্নিত অবস্থার মধ্যে নিজেকে আবিষ্কার করে বলেই হয়তো কথাসাহিত্যিক ওয়াসি আহমেদের বেশিরভাগ গল্পই পাঠান্তে ফুরিয়ে যায় না। জীবনের ভগ্নাংশ কিংবা অখণ্ডতা যে কোনো গণ্ডির ভেতরে থেকে গল্প নির্মাণের কৌশল তার জানা। আর তাই বিষয়বৈচিত্র্য, গল্পশৈলী, শব্দালংকার-সব মিলিয়ে একটি আখ্যান কীভাবে আরেকটির চেয়ে ভিন্নতর হয়ে ওঠে তা অনুসন্ধানের জন্য হলেও এই গল্পকারের গল্প পড়তে হয়।
 
 
 

আলোচক পরিচিতি:

সাদিয়া সুলতানা
কথাসাহিত্যিক।
বাংলাদেশে থাকেন।

5 thoughts on “ওয়াসি আহমেদের গল্পপাঠ প্রসঙ্গে: সাদিয়া সুলতানা

  • July 29, 2021 at 2:27 pm
    Permalink

    চমৎকার আগ্রহোদ্দীপক আলোচনা।

    Reply
    • July 30, 2021 at 4:06 am
      Permalink

      ভালোবাসা

      Reply
  • July 31, 2021 at 6:42 am
    Permalink

    ভালো লাগল।

    Reply
    • July 31, 2021 at 1:05 pm
      Permalink

      ধন্যবাদ

      Reply
    • July 31, 2021 at 1:05 pm
      Permalink

      এই মন্তব্যটি লেখক দ্বারা সরানো হয়েছে।

      Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published.