ডেভিড মীনসের গল্প : ধুমপানরত দুজন নার্স

ভাষান্তর – উৎপল দাশগুপ্ত
প্রশস্ত এবং অনুকূল এক অবস্থানে দাঁড়িয়ে
কিছুটা নিঃসঙ্গ চরিত্রের হাসপাতালের দুজন কর্মী, একটিট্রেলারের পেছনে, ধুমপান বিরতি উপভোগ করছে। সুন্দরভাবে ছাঁটা গুল্মের পাশে একে অপরের দিকে ঝুঁকেদাঁড়িয়ে নিভৃত আলাপে মগ্ন। মেয়েটির দীর্ঘ কেশরাশি, কৃশ, বিবর্ণ বাহু ইউনিফর্মের পাশ থেকে বেরিয়ে এসেছে। পুরুষটি দীর্ঘ, বলিষ্ঠ, তার বাহুতে একটি উল্কি আঁকা। জুনমাসের সেই দিনটিতে, গাড়িতে যেতে যেতে অভিনিবেশসহকারে লক্ষ্য করলে দেখতে পেতে যে মেয়েটি ধূলিধূসরকংক্রিটে পায়ের বুড়ো আঙ্গুল চেপে ধরে, পরমঐকান্তিকতায় ছেলেটির কথা শুনছে। ছেলেটি কথা বলতেবলতে শরীর ঝাঁকাচ্ছে, সেটিও তোমার নজরে পড়তে পারে। আলাপের বিষয়টি নিয়ে তার হয়ত অনেক কিছুই বলারআছে। পরের দিকে, মেয়েটি যখনই ট্রেলারটি নিয়ে আসত, ছেলেটি হালে ঘটে যাওয়া একটি খবর নিয়ে কথা বলতেশুরু করে দিত। পেনসিলভ্যানিয়ার কোনও এক জায়গায়, পেশাদার খুনে একজন নার্স, অন্তত ডজনখানেক রুগীকেহত্যা করার কথা স্বীকার করেছে। মেয়েটি মাঝে মধ্যেদুয়েকটি মন্তব্য ছুঁড়ে দিয়ে আলোচনার ধারাবাহিকতা রক্ষাকরত। প্রথমত খবরটি প্রায় সকলেই জানে, তাই মাঝে মাঝেধরিয়ে দিলে বক্তার কাজ বেশ সহজ হয়ে যায়। নেহাৎ সময় কাটানোর জন্যই লোকে এই ধরণের গল্পের অবতারণা করে। তাছাড়া ছেলেটির কণ্ঠস্বর ভরাট আর গম্ভীর, মেয়েটি শুনতেবেশ ভালই লাগছিল। ছেলেটি কিছুদিন সামরিকেবাহিনীতে চাকরি করেছে। মেয়েটি মনে করল, ওখানে কাজকরার সুবাদেই ছেলেটি এই রকম কণ্ঠস্বর আয়ত্ত করেছে। সবুজ রঙের চোখ ছেলেটির। মেয়েটির ছুঁড়ে দেওয়া মন্তব্যশুনে চোখদুটি বেশ ভাবগম্ভীর হয়ে উঠছিল।

এক ধরণের সৌহার্দ্য
গড়ে উঠতে শুরু করল দুজনের মধ্যে। বিরতির সময়ে গুল্মআর লম্বা ট্রেলারটির আড়ালে ওরা নির্জনতা খোঁজে আরএকফালি পার্কিং লটটি সিগারেটের টুকরো আর আবর্জনায়ভরে ওঠে। দুজনের মধ্যে গড়ে ওঠে গোপন উদ্যম, পারস্পরিক ইতিহাসের শরিক হিসেবে নিবিড় চক্রান্ত। (কিংবা হয়ত পারস্পরিক ইতিহাস থেকেই চক্রান্তের ধারণাতৈরি হয়েছিল। বা হয়ত ব্যাপারটা অত সরল নয়।) মেয়েটির ছেলেবেলা কেটেছে হলিডে কোর্টের মত এমনএকটি মোটেলে। দীর্ঘমেয়াদি খরিদ্দারদের ভাড়া দেওয়া হত। সপ্তাহে সপ্তাহে ভাড়া মিটিয়ে দেওয়ার চুক্তি থাকলেওমেটানো হত খুবই অনিয়মিতভাবে। আর বছরের পর বছরধরে চলতে চলতে, সেটা একরকম নিয়মেই দাঁড়িয়েগেছিল। এই সব খদ্দেররা চটপট একে অপরের সঙ্গে দোস্তি করে ফেলে। আবার পার্কিং লটে দিয়ে হাতাহাতিওকরে নেয়। রক্তারক্তিও ঘটে যায় কখনো-সখনো। অতএবপুলিশের আগমনও ঘটে। মেয়েটির মা ছিলেন সংসার সংগ্রামে বিধ্বস্ত, সন্তান পালনে সম্পূর্ণরূপে আনাড়ি একজনমহিলা। মেয়েটির হাই স্কুলে মিসেজ় হারগ্রোভ নামে সদয়একজন মহিলা ছিলেন। ওকে উৎসাহ দিতেন, আশার কথাশোনাতেন। উনিই পরামর্শ দিয়েছিলেন ওকে কমিউনিটিকলেজে যাওয়ার সাহস জুগিয়েছিলেন। তারপরেস্কলারশিপ নিয়ে নার্সিং স্কুলে ভর্তি হতেও বলেছিলেন। ছেলেটি বড় হয়ে উঠেছে নেভাদায়, শোশোন সংরক্ষণেরএলী নামের একটি শহরে। বাবাকে ছাড়াই কেটে গেছেজীবনের অনেকটা সময়। একা একা, মায়ের নজর এড়িয়ে, পথে প্রান্তরে। তারপর হঠাৎই একদিন পুবে পাড়ি দেওয়া। নিউ ইয়র্কের নিউ বার্গ বস্তির একটি ফ্ল্যাটে, একজন নতুনবাবার সঙ্গে, মদ খাবার ব্যাপারে যিনি ওর মায়ের থেকে কোনও অংশে কম যান না।
যকৃতের হামানদিস্তা
মেয়েটি যন্ত্রটিকে এই নামেই ডাকত। ট্রেলারের ভেতরেইরাখা থাকে। মেয়েটি বলল, বিজ্ঞানের পরিভাষায়, হামানদিস্তাটিকে লিথোট্রিপ্সি মেশিন বলা হয়। শরীরেরবাইরে থেকে জোরালো তরঙ্গ পাঠিয়ে পাথর চূর্ণ করারজন্য। নিউ ইয়র্কের মহানগর এলাকায় এবং কখনোকখনো শহরতলীর সুলভ হাসপাতালগুলিতে মেয়েটিকেট্রেলারের সঙ্গে যেতে হয়। দায়িত্বপ্রাপ্ত যে ডাক্তারই থাকুননা কেন, তঁকে সাহায্য করবার জন্য। রুগীকে প্ল্যাটফর্মেওঠানো, ভেলক্রো স্ট্র্যাপগুলো ঠিক মত লাগিয়ে দেওয়া, পাথরটা তেমন বড় হলেও খুব বেশি ব্যথা যে লাগবে না, রুগীকে সে ব্যাপারে আশ্বস্ত করা। তারপর যতটা সম্ভব চাপহালকা রেখে মেশিনটা চালু করা যাতে তরঙ্গায়িতআল্ট্রাসোনিক শক্তি পাথর গুঁড়ো করে দিতে পারে।

পুরুষ রুগী মাত্রেই
ট্রেলারে ওঠার সময় খারাপ খারাপ গালি দেবে, গোঙাবে, আর এই সুযোগে ওর দুই হাঁটু জড়িয়ে ধরবে। আর রুগী যদিমহিলা হয়, সে যতই ক্ষীণ আর দুর্বল হোক না কেন, হাঁটতে চলতে যত কষ্টই হোক না কেন, কোনও রকমসাহায্যের তোয়াক্কা না করেই, এমনকি সাহায্যের জন্যবাড়িয়ে দেওয়া হাতকেও হেলায় সরিয়ে দিয়ে, ধুঁকতে ধুঁকতেপ্ল্যাটফর্মে উঠে পড়বে।
সব ব্যথাই
বোধহয় মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়। মেয়েটির তাই মনে হয়। মেশিনটা যখন চালু করে আর বোতামে চাপ দেয়, আল্ট্রাসোনিক শক্তি বেরিয়ে পাথরের ওপরে সজোরেআঘাত হানে। আর সেই সময়, ব্যক্তিত্ব আর স্বাতন্ত্র্যএকটি মাত্র বিন্দুতে এসে নিলীন হয়ে যায়।
একটি ক্ষতচিহ্ন
ছেলেটির ঘাড় থেকে নীচে নেমে পোশাকের ভেতরে অদৃশ্যহয়ে গেছে। মেয়েটি দেখল একচুলের জন্য সেটি ক্যারোটিডধমনী স্পর্শ করেনি। সেটি নিয়ে প্রশ্ন করায় ছেলেটি যুদ্ধনিয়ে কথা বলার একটি অজুহাত পেয়ে গেল। একটিহাতবোমা (IED) ওর হামারকে (গাড়ির নাম) আঘাতকরেছিল। একটি টায়ার ফেটে গাড়ির কাঠামো ভেদ করে তীক্ষ্ণ একটি ফলা ওর সঙ্গীর হাতে এসে লাগে। খুব রক্তপাতহয়, বন্ধু আর্তনাদ করে বলে যে ও নির্ঘাত মরে যাবে, ওরহাতের মাংস ফালা ফালা হয়ে গেছে। পরে দেখা গেলছোকরার হাত ঠিকঠাকই আছে, যুদ্ধজনিত স্নায়ুবৈকল্যেরজেরেই এই অমূলক আতঙ্ক। ছোকরা যখন বুঝল যে হাতটিবহাল তবিয়তেই আছে, বলল যে মনে হয় ওর পরমায়ুফুরোয়নি। ঠিকই আছি, মনে হচ্ছে, চীফ।
যকৃত বালক
বছর কুড়ির একটি ছেলে, চেহারা ছবি একেবারেনেশাখোরদের মত, সপ্তাহ দুয়েক ধরে অসুস্থ, আর ট্রেলারটিএই সময় উত্তরে ওয়াটারটাউন বলে একটি জায়গায় রয়েছে। বেশ বড়সড় একটি পাথর আর পেকে যাওয়া মূত্রনালীসম্বল করে মরফিনের ললিপপ চুষে চলেছে। অর্থাৎ পরিস্থিতি চরম খারাপের দিকেই যাচ্ছে – মানে পাথরটিটুকরো করতে একবারের বেশি হামানদিস্তা চালাতে হবে, আর টুকরোগুলি বের করতে হবে একটি একটি করেই, মূত্রনালীতে একটি স্টেন্টও বসাতে হবে। শক্ত করে বেঁধেরাখার জন্য ওর চোয়ালটা কুঁকড়ে গেছিল। বাঁধন খুলেদেওয়ার পর আমাকে চুমু খেল। বলল, আমিই নাকি ওরপ্রাণ বাঁচিয়েছি। মন থেকেই বলল মনে হল কথাটা। ওরভবিষ্যতের যে ছবি আমার কল্পনায় ভেসে উঠছিল আমারচোখ দেখে যেন ও বুঝতে না পারে তারই চেষ্টা করছিলাম, বুঝতেই পারছ। কথাটা একদিন মার্লনকে বলেই ফেলল।ছেলেটিও সামান্য ঝুঁকে পড়ে ওর কথা শুনে গেল। মুখে একটি কথাও বলল না।
বেশিরভাগ
বিরতির সময়েই, ট্রেলারের শীতাতপ যন্ত্র নিজে থেকেই চালুহয়ে গিয়ে ভেসে আসা শব্দ গিলে ফেলে – রাস্তার ওপারেস্কুলের খেলার মাঠের দেওয়ালে বলের ধাক্কা লেগে টং করে শব্দ, পার্কিং লটে আবর্জনা ছোঁড়ার আওয়াজ, সাইরেনেরশব্দ, এমনকি হাসপাতাল থেকে অবিরাম ভেসে আসাগুনগুন শব্দ। সেটি যখন বন্ধ হয়ে যেত গ্রীষ্মের পুনর্বহালঘটে যায়, পাখিদের কিচিমিচি, সৌন্দর্যায়িত গুল্মের ওপারদিয়ে হুশ করে গাড়ি চলে যাওয়ার শব্দ আবার ভেসে আসে।
যকৃত বালক
বলল আমি আর পেরে উঠব না, মেয়েটি আশ্বস্ত করে বললযে না পারার কোনও কারণ নেই, কিন্তু ছেলেটির কণ্ঠস্বরেঅনিবার্য পরিণতির প্রতিধ্বনি শুনতে পেল, ওর চাউনিতেওতারই আভাস দেখতে পেল। বুঝতেই পারছ আমার মনের কী অবস্থা, আমি যা বুঝতে পারছি, রুগীটিও সেই একইকথা বুঝতে পারছে, সত্যি কথাটা শুধু মুখে আনতে পারছিনা।
ভাল কিছুই কখনও
চিকিৎসা উপরান্ত ঘনিষ্ঠতার সেই মুহুর্তগুলি থেকেকখনোই আসে না। অব্যাহতি পাওয়ার আনন্দে রুগী তখনদিশেহারা হয়ে পড়ে। ছেলেটি মনে মনে এরকম ভাবল। ওরা তখন নানা অদ্ভুত কাজ করে বসে, তোমাকে স্পর্শ করতেচায়, উইলে তোমাকে একজন স্বত্বভোগী হিসেবে রাখার কথাবলে, কিংবা কোনো কোনো ক্ষেত্রে কারণ ছাড়াই চোটপাটকরে, কারণ ভাল খবর বয়ে আনার কাজটা তুমিই তোকরেছ।
ছেলেটি নিজেকে নিবৃত্ত করল
রুগীদের বেদনায় নিজেকে বিচলিত না করার একজননার্সের থেকে আরেকজন নার্সকে পরামর্শ দেওয়ার প্রচলিত অভ্যেস থেকে, কারণ এরকম অভিজ্ঞতা হামেশাইঘটতে থাকবে। যারা বেঁচে যাবে বলে মনে মনে ভেবেছ, তারাই হয়ত মরে যাবে। যাদের মৃত্যু অনিবার্য বলে মনে করছ, যাদের চেহারায় চাউনিতে মৃত্যুর ছায়া, তারাই হয়তবহালতবিয়তে, আনন্দে স্ফূর্তিতে দীর্ঘ জীবন যাপন করবে। বেডপ্যান বদলে দেওয়া, হাত রাখবার জায়গা উঠিয়েদেওয়া আর কাঁধে হাত রাখা, তালিকার দিকে নজর রাখা, জামা উঠিয়ে থার্মোমিটার লাগানো, আই ভি ছুঁচঢোকানো। আর তারপর তুমি যখন একটি বিরতি নিয়ে বাইরে গিয়ে মেঘ, রৌদ্র আর পাখপাখালি সমৃদ্ধ আকাশরাজকীয় মহিমায় প্রকাশিত পৃথিবীর দরবারে নিজেকে মেলেধরতে চাইছ, হয়ত ভেতরের নো-অ্যাসিস্ট নির্দেশ প্রাপ্তএকজন রুগী দু’একবার হেঁচকি তুলে হার্ট-অ্যাটাকের কবলেপড়ে গেল।
মেয়েটি কেঁদে ফেলল
কিডনি বালকের জন্য। ছেলেটি ওকে কাছে টেনে নিল। ওরশার্টের নীলাভ আভার ভেতর দিয়ে যেখান দিয়ে শেলেরটুকরোটা ঢুকে অমসৃণ একটি ক্ষতচিহ্ন রেখে গেছে, সেটিদেখার সুযোগ পেল মেয়েটি।

ট্রেলারটি
সেবারের গ্রীষ্মে কয়েক সপ্তাহ পর পরই ফিরে আসত, আরওরা একে অপরকে টেক্সট করত আর দেখা করত।
ভ্রাম্যমান জীবন
ট্রেলারের পেছন পেছন এক শহর থেকে অন্য শহরে যাবারজন্য মেয়েটিকে যাপন করতে হচ্ছিল। সস্তার হোটেলে থাকা, সন্ধ্যেবেলা একা একা টেলিভিশন দেখা – এসব কিছুই ওকেবিব্রত করতে পারেনি, কারণ হলিডে কোর্টের আগে ওকেআর ওর মা’কে অনেক ঘাটের জল খেতে হয়েছে, এক নরকথেকে আরেক নরকে গতি হয়েছে, তাই ওটা অভ্যেস হয়েগেছে। একদিন অপরাহ্ণে মাথার চুল কপাল থেকে সরাতেসরাতে মেয়েটি বলল। মেয়েটির দৃষ্টি গুল্মের সীমানা পেরিয়েরাস্তার অন্য পাশের মাঠে বল নিয়ে খেলতে থাকা বাচ্চাদেরদিকে ছিল। ত্বরিতে দৃষ্টি সরিয়ে নিয়ে, ছেলেটির কাঁধের ওপরদিয়ে – পার্কিং লটে, যার পাশে বেশ কিছু সমাধি ফলকগাছের সারি ছাপিয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে, সব কিছু পেরিয়ে – রাস্তার অপর প্রান্ত ঘেঁষে উঠে যাওয়া টিলার দিকেচোখ রাখল। হাসপাতালের ঠিক পাশেই একটি সমাধিক্ষেত্র– প্রতীকের মতই মনে হয় এই সমাপতন।
মৃত ব্যক্তিদের
নামগুলি মনে গেঁথে থাকে, আর তার মধ্যে যারা সুস্থ হয়ে ওঠে, তাদের ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হয়, বলতে পার, নিয়তিরবিশুদ্ধ, যন্ত্রণাকর ঘূর্ণাবর্তে, ছেলেটি বলল। এমন কিছু রুগী সর্বদাই থাকে, যাদের অবস্থা সঙ্কটজনক বলে মনে করা হয়, মৃত্যুপথযাত্রী হিসেবে তালিকাতেও এদের নামচিহ্নিত হয়ে যায়। কিন্তু কার্যক্ষেত্রে দেখা যায়, সব জল্পনারঅবসান ঘটিয়ে একদিন এরা আত্মীয় পরিজন পরিবৃত হয়ে সদর্পে হাসপাতাল ছেড়ে চলে যায়। একবারের জন্যও হাতনেড়ে বিদায় জানিয়ে যায় না। নিজেদের নাম তালিকা থেকে মুছে ফেলে ভবিষ্যতের গর্ভে নিক্ষেপ করে।
মার্লনের
ভাল লাগত মেয়েটির শ্বেতশুভ্র বাহুদুটি, আর ভাল লাগতনার্সের পোশাকের অন্তরালে ওর বক্ষদেশের হিল্লোল। ট্রেলারটি নিয়ে চলার সাথে সাথে মেয়েটির নিতম্বপ্রদেশ যেভাবে ডাইনে বামে আন্দোলিত হত, ছেলেটি সেটি কল্পনায়দেখতে পেত আর মেয়েটির দেহের জটিল গড়ন ওর কল্পনায়উদ্ভাসিত হয়ে যেত, সেটি স্পর্শ করে দেখবার জন্য আকুলহয়ে পড়ত। ওর অ্যাপার্টমেন্টের জঘন্য পরিবেশে, রাতেরনিঃসঙ্গ অন্ধকারে, অলীক কল্পনা করার একটি উপলক্ষ্যপেয়ে গেল – পৌরাণিক কাহিনীর কোনও নায়কের মত হাঁটুমুড়ে বসে, দুই বাহু প্রসারিত করে সূর্য কিংবা দেবতারউদ্দেশ্যে একটি শিশুকে উৎসর্গ করার আগে ওর শোভননিম্নদেশের দুই পাশে মৃদুভাবে দোলা দিয়ে চলেছে।
গ্রেসি
ছেলেটির দেহের বলিষ্ঠ গঠনে মুগ্ধ হয়। মুগ্ধ হয় ওর বাদামিত্বকে, পেশীবহুল উচ্চতায়। আর এক পায়ে ভর দিয়েদাঁড়ানোর অভ্যেসটা আর ঘন ঘন পা বদলানো। ফুটপাথেদাঁড়িয়ে ধুমপান করতে করতে ওর দৃষ্টি অদৃশ্য সুদূরে হারিয়ে যাওয়া। পনিটেল করে বেঁধে রাখা লম্বা চুলগুলো টেনেধরে, মাথা তুলে, চোয়াল নাচিয়ে, দেহাতি টানে কথা বলা। জরুরি বিভাগ থেকে বেরনোর সময় দরজার সামনেই থেমেগিয়ে উদ্ভট রাজসিক ভঙ্গিমায় নীচু হয়ে মেয়েটিকেঅভিবাদন করা। তারপর বিরস মুখে বাহু একপাশে সরিয়েরেখে হেসে ওঠা, যে হাসিতে একই সঙ্গে থাকেনিরাপত্তাহীনতা আর কাঠিন্যের আভাস।
শোশোনের
মানুষজন নেকড়ে ভালবাসে, ছেলেটি এক অপরাহ্ণে কথাটাবলেছিল। মেয়েটি ওর কাছে নেভাদার এলীতে জীবনধারাকেমন জানতে চেয়েছিল। ছেলেটি বলেছিল নেকড়ে মানুষকেজীবনের দিকে ফিরিয়ে আনতে পারে, তবে ও নিজে সে চেষ্টাকরেনি, বড় বেশি ভিড় সেখানে। গল্পটা ঠিক কোন খাতেগড়িয়েছিল, সে ব্যাপারে আমি নিশ্চিত নই, তবে এরকমইকিছু একটি হবে, ছেলেটি বলল। আমাদের লোকদের সম্বন্ধে মা আমাকে এটুকুই শুধু বলেছিল।
আধঘন্টার
বিরতিগুলি, একটির সঙ্গে আরেকটি মিলে যেতে থাকে, চারমাস ধরে।
সবচেয়ে নিঃসঙ্গ রাস্তা
বলতে (আমেরিকায়) নেভাদার রুট ৫০ কেই বোঝায়, আর এই রাস্তা এলী’র ভেতর দিয়েই যায়। মা বলত, এইরাস্তা দিয়ে গাড়ি চালিয়ে যাওয়া মানেই নিজের সত্তাকেবিসর্জন দেওয়া আর একটি নতুন সত্তাকে গ্রহণ করা। এই৫০ ধরে গাড়ি চালাতে গিয়ে বাবা বছরখানেকের জন্যনিরুদ্দেশ হয়ে গেছিল, ফিরে আসার পর বলেছিল ওটি – মানে রাস্তাটি ওকে ছেড়ে যেতে দেয়নি – আর তারপরই মাবাবাকে ছেড়ে চলে যায়, বা হয়ত বাবাই মাকে ছেড়ে চলে যায়, বা একে অপরকে ছেড়ে চলে যায়। এই গল্পটির অন্ততগোটা পঞ্চাশেক সংস্করণ আমি শুনেছি। মা আরেকটি কথাবলেছিল, স্যান ফ্র্যানসিস্কোর লোকেরা বলে পশ্চিমেপৌঁছনোর জন্য নাকি পুবদিক বরাবর গাড়ি চালিয়ে যেতেহয়। পশ্চিম থেকে এসেছে বলে মা একটু স্মৃতিমেদুর ছিল, আর তার জেরেই নিউ ইয়র্কের নিউবুর্গে থাকতে চলে আসা।
বরখাস্ত হয়ে যাওয়া
সেই সিরিয়াল কিলার নার্সটির সম্বন্ধে, অনলাইনেছেলেটি যা পড়েছিল, তারই বিস্তারিত বিবরণ দিচ্ছিল। মর্ফিনের ফোঁটা কমিয়ে বাড়িয়ে আর তালিকায় রদবদলকরে (যাতে ওকে কেউ সন্দেহ না করে) রুগী হত্যার কথাপুরুষ নার্সটি স্বীকার করে নিয়েছিল। বেশিরভাগ রুগীইপেনসিল্ভ্যানিয়ার। আর ঠিক তখনই মেয়েটি যকৃতবালকটির সম্পূর্ণ ঘটনাটি ছেলেটিকে বলে, ওর চাউনি দেখেকেমন যেন বুঝে গিয়েছিল ও আত্মহত্যা করতে চলেছে, এমনও মনে হয়েছিল যে ও হয়ত সেতু থেকে ঝাঁপ দেবে। কয়েকদিন পরে ছেলেটি ওর আরেক সঙ্গীর কথা বলল, ইরাকে যে মারা পড়েছিল। সেই পুরনো কাসুন্দি, হাতবোমা, বিস্ফোরণের পর গাড়ির মেঝে ফুঁড়ে ঝাঁজরা করে দেওয়া, তবে এবারে বাহুতে নয়, শরীরের ওপরের অংশে, আরমুহুর্তের মধ্যে চোখ থেকে জীবনের আলো মুছে গেল।
মানিয়ে নিতে হয়
মেয়েটি বলছিল। ছেলেটি ঘাড় গোঁজ করে দাঁড়িয়ে, দুই হাতে মুখ ঢাকা। ব্যাপারটি আমি যেভাবে দেখছি, ওই সিরিয়ালকিলার নার্সটি আসলে সত্যিকারের কোনো খুনী নয়; মৃত্যুর প্রসঙ্গটা টেনে আনতেও পারে বা নাও টানতে পারে, আসলে ও বুঝতে চায় কী কী সম্ভাবনা হিসেবের বাইরে রাখা যায় – কী বলতে চাইছি বুঝতে পারছ নিশ্চয়ই, যেমন ধর, অপারেশনের আগে কোনো কোনো রুগী চায় যে তুমিওর কথা মন দিয়ে শোনো যাতে তুমি ওর জন্য লক্ষ্মীমন্তকিনা সেটা বুঝে নিতে পারে, তোমার হাত ধরে নার্স হিসেবেতোমার কুশলতার প্রশংসা করে, অপারেশনের ভালমন্দদিকটা অনুমান করে নিতে চায়, বা আর কিছু। ক্ষণিকেরজন্য হলেও তুমি ভেবে নাও যে ওর জীবনমরণ তোমার হাতেই রয়েছে, তালিকায় সামান্য কিছু রদবদল ঘটালেই, কিংবা ভুল পর্যবেক্ষণের ফলে, রুগীর মৃত্যুও হতে পারে। কিংবা ধর, তুমি ভেতরে গিয়ে দেখলে একটি বোর্ড থেকেবেলুন ঝুলছে আর কার্ড লাগানো আর একটি শিশুকেদেখতে পেলে – স্যামি কিংবা অ্যানি, সাধারণত নামগুলোএরকমই হয়ে থাকে – মাথা কামানো, আর অস্ত্রোপচার হবে বলে চিহ্নিত করা – তোমার নিজের ইচ্ছের বিরুদ্ধেই তোমার মনে হল, এই শিশু্টিকে কত সহজে যন্ত্রণার হাত থেকে বাঁচিয়ে দেওয়া যায়। রাস্তার ওপাশে তাকিয়ে কথাগুলোবলল ছেলেটি, দাঁতের ফাঁক দিয়ে ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে, ওরদৃষ্টি সব কিছু ছাড়িয়ে অনন্তে মিশে গেছে আর চিবুক ঝুলেপড়েছে।

ট্রেলারটির ধাপের ওপর
দাঁড়িয়ে কয়েকদিন পর, সিরিয়াল কিলার নার্সের কথাটাটেনে এনে, ছেলেটি খুন করবার প্ররোচনা নিয়ে আবার কথাবলতে শুরু করল। ফালুজাতে থাকার সময়েই কেমন করে ও জেনে গেছিল যে প্ররোচনা থেকেই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়, আর ওই ইউনিটে একটি লোক ছিল যে সুযোগ পেলেই ড্রিপদেওয়া বন্ধ করে দিত। একদিন রাস্তার এক কোণে একজনবৃদ্ধা পড়ে আছেন দেখতে পেলাম, একটি হাত বাতাসে ঝুলেরয়েছে। রাস্তার এই কোণগুলোকে আমরা ঘেন্না করতাম, কথায় কথায় ছেলেটি বলল, ফালুজাকে ঘেন্না করার এটাওএকটি কারণ। যে লোকটির কথা বলছিলাম, সে বৃদ্ধাকেতুলতে গেল। দেহটির কাছে যখন গেলাম, বুঝলাম বৃদ্ধারহাত বাতে পঙ্গু, আঙ্গুলগুলো কুঁকড়ে গেছে, তাই উঠে থাকা হাতটি বন্দুকের মত লাগছে। ওটা বাস্তবিকই বেকায়দায়ঝুলে ছিল, খুব সত্যি কথা।
সুন্দর
সেই মুহুর্তে – ছেলেটির গলা কেঁপে উঠল, দু’চোখ থেকে জল উপচে পড়ছে – ঝোড়ো বাতাস উঠল, কালো মেঘেঢেকে গেল। ওর সবুজ দুটো চোখ বেদনায় সিক্ত, মুখে বিষাদের মোচড়। রাস্তার গাছের সারি থেকে মৃদু সৌরভ এসেভরিয়ে দিয়েছে, কোমলতা মাখানো নীরব পরিবেশ। কতদীর্ঘ ছিল সেই মুহুর্তটি, দুজনের মধ্যে ভাগ করে নেওয়া স্মৃতিতে, জীবনের কোন প্রান্ত অবধি সেটি ধরা থাকবে?
অবশেষে
ছেলেটি কথা বলল। বলল, আমার ঠাকুমার গেঁটে বাতছিল। আমি ওঁকে সঙ্গে নিয়ে এলীতে যেতাম, এইক্লিনিকটিতেই নিয়ে যেতাম, ওখানে হাতে উনি ওয়াক্স বাথনিতেন, আমি ওঁকে হাতটা ডোবাতে দেখতাম, প্রথম প্রথম, রেখেই আবার সরিয়ে নিতেন, যতদিন না নীল রঙের ওয়াক্সগ্লাভসের বন্দোবস্ত হয়েছিল। এরপর ছেলেটি প্যাকেট থেকে একটি সিগারেট বের করে জ্বালিয়ে নিল। তারপর দুজনেবসে গ্রীষ্মের বাতাসের মর্মরধ্বনী শুনতে লাগল। গুল্মেরঝাড় পেরিয়ে ওদের দৃষ্টি চলে গেছে বেসবল মাঠের দিকে, তারপর বেসবল মাঠ পেরিয়ে স্কুলের ছাদে আর আকাশেভেসে থাকা সাদা গম্বুজের ওপর। ছেলেটি আবার যখন কথাবলতে শুরু করল জানাল যে ফালুজার রাস্তায় পড়ে থাকা সেই বৃদ্ধার হাতদুটো নাক ঠিক ওর ঠাকুমার হাতের মতছিল। তারপর ছেলেটি আবার কেঁদে উঠল, একবার ডুকরেউঠল, তারপর ওর কাঁধ ঝুলে গেল, দুহাতে মুখ ঢেকেফেলল। মেয়েটি ওকে কাছে টেনে নিল।

প্রত্যেকেই
মনে করে থাকে যে দুই সমব্যথী হৃদয়ে তীব্র ভালবাসারসঞ্চার হওয়াটা খুব স্বাভাবিক। আশ্লিষ্ট দুটি হৃদয়, শারীরিকআকর্ষণকে প্রতিহত করে, এবং পরস্পরকে ভুল ব্যাখ্যা করে, হাস্যপরিহাসের মাধ্যমে বেদনা ভাগাভাগি করে নেওয়া – সবই বদলে গেল এক অপরাহ্ণে। বেশ ধকল গেছিলসেদিন – একটি বাস দুর্ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে জরুরিভিত্তিতে অনেক রুগীর পরিচর্যা করা – তার মধ্যে একজনেরদুটি অঙ্গচ্ছেদের প্রয়োজন, আগুনে ঝলসে যাওয়া আরেকজন রুগী (ছেলেটির তত্ত্বাবধানে) এবং (মেয়েটিরতত্ত্বাবধানে) একজন মহিলা, যিনি আগে মুত্রপাথরিতেআক্রান্ত হওয়ার গল্প শোনালেন। নিজের বিছানায় এক পাশ করে শুয়ে যন্ত্রণায় কাতরাতে কাতরাতে স্বামীর কাছেওঁকে জোরে লাথি মারবার জন্য মিনতি করেন। স্বামীও ঠিকতাই করেন এবং ওঁকে যথেচ্ছভাবে প্রহার করেন, ফলে ওঁরস্বামীকে গ্রেপ্তার করা হয়। অবশ্য কাজ হয়েছিলে, প্রস্রাবেরসঙ্গে পাথরটা বেরিয়ে গেছিল। পুলিশ কিছুতেই মহিলারকৈফিয়ত শুনতে চাইল না। স্বামীকে কয়েদখানাতেই কাটাতেহল। ঠিক করেছিল – মার্লন বলে উঠল – আর তারপরমেয়েটির গল্প বলা শেষ হতেই সাইরেনের হুঙ্কার শোনা গেলআর জরুরি স্বাস্থ্য পরিসেবার একটি দল চলে এল। ওরা ওপর থেকেই দেখতে পেল, হাসপাতালের ছাদে রাখা একটিস্তুপের থেকে ধোঁয়া বেরিয়ে হেমন্তের সকালের আকাশে গিয়েমিশে যাচ্ছে – ব্যবহার করা ব্যান্ডেজ, রক্ত মাখা তোয়ালে, অন্যান্য আবর্জনা পুড়িয়ে ফেলা হচ্ছে, হাসপাতালেরআবর্জনা সরানোর খরচ বাঁচানোর জন্য।
সেপ্টেম্বর মাসের এক অপরাহ্ণে
ছেলেটি বলল, তোমার গল্পগুলো শুনতে আমার ভাল লাগে। তোমার গল্পগুলোও আমার ভাল লাগে, মেয়েটিছেলেটির কাঁধ ছুঁয়ে বলল।

আমাদের দুজনকেই এখান থেকে বেরতে হবে
গাড়ি নিয়ে, এই শিফট শেষ হবার পর। ছেলেটি জরুরিবিভাগের দিকে কাঁধ ঝাঁকিয়ে বলল। ওখানে চাপরাশিরাধরাধরি করে একটি স্ট্রেচার ট্রাক থেকে নামাচ্ছে। মেয়েটিজবাব দিতে একটু দেরি করল, কারণ ওর ইচ্ছে ছেলেটিআরও একটু অনুনয় করুক। এই কয়েক সপ্তাহেরমেলামেশা, হাত দিয়ে আলতো করে ছোঁয়া, ইশারা ইঙ্গিত, এসব থেকে ছেলেটির মধ্যে কতটা অনুরাগ সঞ্চারিত করেছেসেটি বোঝা। অতীত অভিজ্ঞতার পরিপ্রেক্ষিতে মেয়েটিহৃদয়জনিত ব্যাপারে বেশ সাবধানী, কারণ চুমু খাওয়া আরআঘাত পাওয়া দুটিই অত্যন্ত সুলভ।
গাড়ি নিয়ে ওরা
হেমন্তের অন্ধকার ভেদ করে পুরনো রাজ্য সড়ক ধরে এগিয়েচলল, মৃদুস্বরে কথা বলতে বলতে আর গান শুনতে শুনতে, ডানদিকে নদীটা মাঝে মাঝে দেখা দিয়ে আবার হারিয়ে যাচ্ছে। মেয়েটি পুরনো রেডিওটির বোতামগুলি নিয়ে নাড়াচাড়া করছে, নির্দেশক কাঁটাটির এক স্টেশন থেকে অন্য স্টেশনে সরে যাওয়াটা অনুভব করছে।
দুজনেই অনুভব করল
উত্তরপানে যাওয়ার শিহরণ। ছেলেটি ওর বড় হয়ে ওঠারকাহিনী শোনাচ্ছিল, মস্তানের দল কীভাবে পাড়ার ওপরদখল রাখত, কীভাবে ওরা নদীর ধারে খেলা করত, তারপর স্টর্ম কিং-এর চড়াই উৎরাই ধরে নিউবার্গের নির্জনরাস্তা ধরে ছুটত। ছেলেটি বলল, আমার ধারণা আমেরিকারসব চেয়ে নির্জন রাস্তা খুব সম্ভব এটাই। ওরা শহরছাড়িয়ে উত্তর দিক ধরে এগোতে এগোতে রাস্তাটা যেখানেচার ভাগে ভাগ হয়ে গিয়ে আবার দুটো ভাগে মিশে গেছে, সেখানে গিয়ে পড়ল। অনেক পুরনো জমিদারি আরআশ্রম ছাড়িয়ে ওরা এগিয়ে যেতে লাগল যতক্ষণ না ওরা রাস্তার বাঁ পাশে একটু উঁচু জমিতে ছোট্ট একটি হোটেলদেখতে পেল। দেওয়ালে গোলাপি রঙ, নিওন সাইনে লেখা‘রিভার রেস্ট’, খুব সম্ভব পুরনো কোনও চলচিত্র থেকে নামটি ধার করা।
না
একটু অপেক্ষা কর। হোটেলে যাবার আগে ওরা একটিখাবার জায়গায় ঢুকল, দুজনে ভাগাভাগি করে খাবার খেল, তারপর পার্কিং লটে এসে সিগারেট ধরিয়ে পেছন দিকেহেলান দিয়ে আকাশের তারা দেখতে লাগল। তুমি যদিওদের ওখানে দেখতে পেতে, দুজন মানুষ মফস্বল অঞ্চলেরএকটি পার্কিং লটে দাঁড়িয়ে গড়িমসি করতে করতে একেঅপরকে আলতোভাবে চুমু খাচ্ছে, তুমি হয়ত মনে মনেএকটি গল্পের হদিশ খুঁজে পেয়ে যেতে ওই দৃশ্য থেকে।
না
আরেকটু অপেক্ষা কর। অনেক অন্য ধরণের আলোচনাওহচ্ছে। গ্রীষ্মের বেলা পড়ে এসেছে, শীতের হাওয়ার আভাসপাওয়া যাচ্ছে, ওরা একবার রাস্তার দিকে, একবার খেলারমাঠের দিকে, একবার আকাশের দিকে তাকাতে তাকাতে, একে অপরকে বাজিয়ে নিচ্ছে, নিজেদের মধ্যে খুনসুটিকরছে, নিজেদের চাকরি নিয়ে, জীবনযাপন নিয়ে সুখদুঃখভাগাভাগি করছে। আরও অনেক গভীরতর আদানপ্রদান,যার কোনও রেশ থাকছে না, এমনকি স্মৃতিতেও নয়। শুধুপেছন ফিরে তাকালে মনে পড়বে, পাতা ঝরা মরশুমের এক শীতল অপরাহ্ণে ওরা দুজনে পাশাপাশি থেকে জীবনকেএগিয়ে নিয়ে যাওয়ার নিতান্তই খেয়ালি এক সিদ্ধান্তনিয়েছিল, পারস্পরিক দ্বিধা আর সতর্কতা সরিয়ে রেখেজীবনকে পরিপূর্ণভাবে পেতে, কারণ ওরা দুজনে কেউই যেনিখুঁত নয় সেটা ওরা অনুভব করতে পেরেছে আর ঠিকসেজন্যেই – তুমি যদি ভালভাবে ওদের দিকে লক্ষ্য রেখেথাক – ওরা বুঝতে পেরেছে যে একে অপরকে ওদেরগভীরভাবে প্রয়োজন।

না
আরও একটু অপেক্ষা কর। ফিরে যাও সেই অপরাহ্ণে, যেদিনমেয়েটি যকৃত বালকের গল্পটি ছেলেটিকে শুনিয়েছিল, যেরকম নৈমিত্তিকভাবে কাহিনীটির আদানপ্রদান হয়েছিল, সেটি স্মরণ কর, যে কথাগুলি অনুক্ত রেখেছিল, আর মুখে যতটুকু বলেছিল। কীভাবে মার্লনকে বলেছিল যে বালকটি –যার নাম ছিল কার্ট – কল্পনায় ওকে সেতুতে উঠতে দেখল, তারপর রেলিং ধরে দাঁড়িয়ে দূরে তাকিয়ে থাকল – নদীটাযেখানে বাঁক খেয়েছে, অসাধারণ সেই দৃশ্য। মার্লন আরগ্রেসির মধ্যে, সেদিনের অপরাহ্ণে, সেই আদানপ্রদান যেভাবেসম্পন্ন হয়েছিল – প্রায় শব্দহীনভাবেই, তবে পুরোপুরি নয় – সেখানে ফিরে যাও – আর যকৃত বালকের আসল নাম যেকার্ট সেটি বলার পর কীভাবে ছেলেটি “নিশ্চয়ই” বলেছিল, সেটি মনে কর, তারপর ছেলেটি হাসল, বলল, প্রত্যেকটিপাথরেরই একটি করে ডাক নাম আছে, যেমন হ্যাঙ্ক, কার্ট, অ্যাল। কীভাবে মেয়েটি ভাঙা চোয়ালের কথাবলতে বলতে হঠাৎ বিষয় বদলে ওর ডেন্টিস্ট কয়েকজনবালকের (মেয়েটি বালক কথাটাই ব্যবহার করল), এক রবিবারের মধ্যাহ্নে ওঁর অফিসে আগমনের কথা বললেন, যারা পানশালায় মারামারি করতে গিয়ে চোয়াল, দাঁত ভেঙেফেলেছে। মনে করে দেখ, ডেন্টিস্টের কথা মার্লনকে বলা হয়ে যাবার পরেই কীভাবে এক বৃদ্ধ দম্পতিকে স্লাইডিং দরজারবাইরে দেখা গেল, হাত ধরাধরি করে খুব ধীরে ধীরে দুজনেপার্কিং লটে পায়চারি করছেন। কীভাবে ছেলেটি কথাথামিয়ে (নার্সিং নিয়ে বক্তৃতায় বন্ধ রেখে) জিগ্যেস করল, কার্ট কীভাবে মারা গেল? ঘটনাটি বলার আগেই মেয়েটিকেপ্রশ্নটা করেছিল। বিশেষ কিছু আন্দাজ না করেই, অনেকটা মনীষীসুলভ অন্তর্দৃষ্টি নিয়েই যেন। মেয়েটিজিগ্যেস করল, তুমি কী করে জান? আর ছেলেটিঅস্বস্তিভরে কাঁধ ঝাঁকিয়ে চোখ সরিয়ে নিল। কার্টের সেতুরওপর থেকে ঝাঁপ দেওয়া, সেই মুহুর্তে ঝোড়ো বাতাস উঠেখড়কুটো, জঞ্জাল হাওয়ায় উড়তে থাকা, সঙ্গে সঙ্গে একটিঅ্যাম্বুলেন্স এসে দাঁড়ানো, আর এত সব যান্ত্রিক শব্দেরমধ্যে রাস্তার ওপাশ থেকে খেলতে খেলতে বাচ্চাদেরকলধ্বনি ভেসে আসা, মেয়েটির এই সব কথা ছেলেটি মন দিয়ে শুনতে লাগল, আর এই সব বলতে বলতে মেয়েটিকেঁদে ফেলল।
না
অপেক্ষা কর। ছেলেটি যে পথ ধরে কাঁচের স্লাইডিংদরজা দিয়ে বেরিয়ে এল, পোশাকের ওপর সেনাবাহিনীরইউনিফর্ম পরা, হুডের ফাঁক দিয়ে মুখটা কুঁচকে আছে, যেনখুবই চিন্তাগ্রস্ত – সেই দৃশ্যটি মনে করার চেষ্টা কর। ট্রেলারের কাছে এসে মাথা থেকে হুডটা সরিয়ে মাথাঝাঁকিয়ে চুল সামলে নিল। তারপর যেন আলিঙ্গন করবেএমন ভঙ্গীতে দুই বাহু বাড়িয়ে একটু দাঁড়াল। তারপর মুখে অ্যাই, অ্যাই, বলে মেয়েটিকে বুকে জড়িয়ে ধরল। মেয়েটিসেই সময় প্যকীপ্‌সির পাগলী বুড়ির কথা ছেলেটিকেবলার জন্য অপেক্ষা করছে, কারণ মেয়েটির কাছে একটিনা একটি গল্প বলার জন্য সর্বদাই তোলা থাকত। ছেলেটিরসঙ্গে কথা বলার আর ছেলেটির কথা শোনবার ব্যাকুলতারকারণেই এই কৌশল।
না
অপেক্ষা কর, ট্রেলারের পেছনে সেই ধকলের দিনটিতেফিরে যাও, একটি বাস দুর্ঘটনার কারণে জরুরি ভিত্তিতেপরিসেবা, ছেলেটির দায়িত্বে মৃত অবস্থায় আনা দুজন মানুষআর দুটি অঙ্গচ্ছেদের প্রয়োজন এমন একজন রুগী, আরমেয়েটির দায়িত্বে হোপ নামের হীরের মত বড়সড় পাথরনিয়ে একজন বৃদ্ধের পুনরাগমন আর একজন মহিলাযিনি হামানদিস্তা চালানোর কৌশল নিয়ে প্রশ্ন তুলেমেয়েটিকে দুঃখ দিয়েছিলেন, এবং পরে গ্রেসিকে নিজেরজীবনকাহিনী শুনিয়ে শান্ত করার চেষ্টা করেন। পাঁচ বছরেদশটি পাথর – মহিলাটি বলেছিলেন – ঢিলেঢালা ধরণেরমানুষ, কথা বলতে সময় নেন, হাসপাতালে নিয়মিতআসাদের মধ্যে একজন। এরপর গ্রেসি মার্লনকে নিজেরমায়ের সম্বন্ধে বলল, কীভাবে ওর সৎ বাবা ওদের দুজনকেইপেটাত, তারপর বলল রয়-এর সম্বন্ধে, হলিডে কোর্টেরই এক ছোকরা। দড়ির মত পাকানো চেহারার বয়সে বড় সেইছোকরা – অন্তত সেই সময় ওকে আমার থেকে বড়ইলেগেছিল, গ্রেসি বলল – একটি মোটর সাইকেল ছিল ওর, আর গ্রেসিকে সেটাতে চড়িয়ে ঘোরাতে নিয়ে যেত, বলতেবলতে মেয়েটি চুপ করে গেল। যে কথাটা না বলে থেমেগেল, মানে রয়-এর হাতে যে ওকে নিগৃহীত হতে হয়েছিল, মেয়েটি সেটি মার্লনকে ওর মুখ দেখে আন্দাজ করে নিতেদিতে চাইল।
না
একটু অপেক্ষা কর, সেই মুহুর্তটি মনে কর যখন নির্মেঘআকাশে এক তুষার ঝড়ের সহসা আবির্ভাব। ছেলেটিবলল, এটি খুব ভাল লক্ষণ, আর মেয়েটি ছেলেটিকেবলল যে ও একদম যা তা, আর তারপরেই দুজনেই দমফাটাহাসিতে গড়িয়ে পড়ল। ঠিক তখনই তারস্বরে সাইরেনবাজিয়ে একটি অ্যাম্বুলেন্স এসে দাঁড়াল – যেন ওদের খুশিআর আনন্দের অভিব্যক্তিকে নস্যাৎ করে দিয়ে অন্যকোনও জগতের আকুতিকে তুলে ধরার জন্য। অগণিতমুহুর্তের মধ্যে সেই বিশেষ মুহুর্তে ওদের দুজনের ভাগ্যই যেনবাঁধা পড়ে গেল অনন্তকাল ধরে ভাগ করে নেওয়া সেইমুহুর্তগুলির মধ্যে।
না
আরেকটু অপেক্ষা কর। ফিরে যেতে হবে সেই অপরাহ্ণে, ছেলেটি যখন বলছিল, এখান থেকে বেরতে হবে, কিংবা হয়ত বলছিল, আমাদের এই জায়গা ছেড়ে বেরনো দরকার। তারপর জরুরি বিভাগের দরজার দিক করে কাঁধ ঝাঁকাল। রীতিমত হল্লা করে ট্রাক থেকে ধরাধরি করে ভারি কিছু নামানো হচ্ছে। ইঙ্গিতটা অশুভ নয়ত? গুরুতর কোনও বিপত্তি ঘটলেই এরকমটা হয়ে থাকে। মেয়েটি সাড়া না দিয়েচুপ করে দাঁড়িয়ে। কথাটা মার্লন আরও একবার বলুক, একটু অনুনয় করুক, মনে মনে এটাই ওর ইচ্ছে। কয়েকসপ্তাহের মেলামেশা, আলতো করে হাতে হাত রাখা, ইশারা, ইঙ্গিত – কতটা অনুরাগ ছেলেটির মনে সঞ্চারিত হয়েছে, সেটিই একটু যাচাই করে নেওয়া। অতীত ওকে সতর্ক হতেশিখিয়েছে, হৃদয়ের ব্যাপারে মিতব্যয়ী হতে শিখিয়েছে। তিলতিল করে জমে ওঠা আবেগ – এটুকুই তো সম্বল, আরকী আছে! চুমু খাওয়াটা যেমন সহজ, আঘাত আসাটাওঠিক ততটাই সহজ। মেয়েটির অস্থিমজ্জায় মিশে আছে এইসংশয়। ছেলেটি হাত বাড়ালো, মেয়েটির কাঁধে হাত রাখবারজন্য। মেয়েটি সঙ্কুচিত হয়ে সামান্য পিছিয়ে গেল। মৃদুবাতাসে মেয়েটির কেশরাশি ওর চোখের ওপর এসে পড়ছে। ছেলেটির কণ্ঠস্বরে নম্র আবেদন। বলল ওর ইচ্ছে করে সবছেড়ে চলে যেতে। মেয়েটির অল্প সঙ্কুচিত হয়ে নিজেকেসরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা। তারপর ছেলেটি বলল, তোমাকেআঘাত করবার কথা আমি ভাবিনি, কেবল জানতেচাইছিলাম আমরা নদীর ধার দিয়ে গাড়ি করে একটু ঘুরেআসতে পারি কিনা। দুজনেই আবার হেসে উঠল। এরপরেওমেয়েটি আরও কিছুক্ষণ চুপ করেই থাকল, শেষে বলল, অবশ্যই। ছেলেটির মনে হল এটিই পৃথিবীর সুন্দরতমকথা।
অতএব
এখন ওরা দুজন বিছানায়, হোটেলের ছায়াময়আলোআঁধারিতে, মাঝে মধ্যে রাস্তা দিয়ে যানবাহনের শব্দভেসে আসছে।

ঝুলে যাওয়া বিছানায়
হাতে ভর করে নিজেকে উঠিয়ে নিয়ে, ছেলেটি মেয়েটিরভেতরে প্রবেশ করল। মেয়েটি ছেলেটির কাঁধে হাত রেখেচারপাশে আঙ্গুল চালিয়ে ক্ষতটি অনুভব করার চেষ্টাকরল। ঘাড় থেকে শুরু হয়ে, দুভাগে ভাগ হয়ে আবারছেলেটির বাম স্তনাগ্রে এসে মিলে গিয়ে আগ্নেয়গিরিরমুখের মত একটি গর্ত তৈরি করেছে। নার্সিং স্কুল থেকে শেখাবিদ্যা কাজে লাগিয়ে ফলাটা যেখানে লেগেছিল আর ভেতরেগিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছিল, সেখানকার ত্বক অনুভব করার চেষ্টাকরল। ছেলেটি পরে বলেছিল, ভাগ্যিস শলাটা ফসফোরাসেমত সাদা হয়ে জ্বলছিল, তাই জায়গাটার শিরা-উপশিরারমুখ বন্ধ হয়ে গেছিল। ছেলেটি আরও গভীরে গিয়ে শরীরটাএকটু শিথিল হতে দিল। ক্ষতটির কথা ভুলে গিয়ে মেয়েটিনিজের শরীর ছেলেটির শরীরে চেপে ধরল। তারপর অভিন্নছন্দে দুজনের শরীরের উত্থান পতন – যেন বায়ুহীন এক মুক্তির আস্বাদ। একটু পরে ছেলেটি তৃপ্তির শ্বাস নিল, মেয়েটিও পরিণতিতে পৌঁছল, আঙুল অল্প অল্প কেঁপেউঠছে।
মৃদু গোঙানির
শব্দ – প্রায় কান্নারই কাছাকাছি – মেয়েটি যখন এরকম শব্দকরল, ছেলেটিও তাই করল, তারপর দুজনের শব্দ মিলেমিশে একটিই শব্দ হয়ে গেল। ছেলেটি এরপর নিজেরশরীরের ভার মেয়েটির শরীরের ওপর ছেড়ে দিল আরতলায় মেয়েটির হাতটি অনুভব করল, কাঁপছে, সেই বৃদ্ধারহাতটির কথা মনে পড়ে গেল, এবং ঠাকুমার হাতটিকেও, কারণ নিজেকে স্পর্শ করতে হলে মেয়েটিকে হাতটি নোয়াতেহবে। ফালুজায় সেই বৃদ্ধাটির সাথে আসলে কী ঘটেছিলমেয়েটিকে সেটি অবশ্যই বলতে হবে, আজকেই না হলে পরেকখনও, হয়ত অনেক বছর পরে। সেই সময় যে অনুভূতিহয়েছিল, সেটি মনে পড়ে গেল। কথাটি বলার সময় সেইদৃশ্যটিও ভেসে উঠবে। প্রয়োজন হলে কথাটা মেয়েটিকেজানানোর যুক্তি হিসেবে এই দৃশ্যটিকে কাজে লাগাতে হবে।
গভীর রাতে
ঠেলা মেরে মেয়েটির ঘুম ভাঙিয়ে দিল ও। বলে ফেলল,ফালুজায় ওই বৃদ্ধার ওপরে গুলি চালিয়ে দিয়ে ও হাতের সুখকরেছিল। রাস্তার এক কোণে বৃদ্ধাকে আসতে দেখেই, কোনও রকম ভাবনাচিন্তা ছাড়াই, নিছক আকস্মিকআবেগের বশবর্তী হয়ে, কুড়ি গজ দূর থেকে ওঁর ওপর গুলিচালিয়ে দিয়েছিল।
ছেলেটি কেঁদে ফেলল
মেয়েটির কাঁধে মাথা রেখে। মেয়েটি কোমলস্বরে বলল, ঠিকআছে মার্লন, তুমি তো এখন এখানে আছে, সব ঠিক হয়ে যাবে, তুমি খুব ভাল একজন নার্স। ঠিক যেভাবে একটিশিশুকে রাতের বেলা পিঠে হাত বুলিয়ে, মিষ্টি কথা বলেভোলানো হয়, ঠিক সেভাবে মেয়েটি ছেলেটির পিঠে হাতবোলাতে বোলাতে সান্ত্বনা দিয়ে কথা বলতে লাগল। খুবজোরেও নয়, আবার খুব আস্তেও নয়।
যাতে করে
কেবল দুটি সমব্যথী হৃদয়ের একসাথে ক্রন্দনটুকুই নয়, এই হাতের নিঃসঙ্গ স্পন্দনের ছবিটিও – যেটি ছেলেটিকেস্বীকারোক্তি দিতে প্রভাবিত করেছে – গভীরতমদুর্বোধ্য অর্থ বহন করে বারে বারে নাড়া দিয়ে যাবে। এইদৃশ্য, মেয়েটির কাছে ভিন্ন এক অর্থ বহন করে আনবে, কারণ অস্পষ্টভাবে, ছবিটি ওর মনে গেঁথে থাকবে। অনেকবছর ধরে হাতের এই স্পন্দনটির পুনরাবৃত্তি হতে থাকবেআর ওকে আনন্দদান করবে। সেই গ্রীষ্মের আর পাতাঝরার দিনগুলির সুখস্মৃতি এলোমেলোভাবে রোমন্থন করতেকরতে সেই বিশেষ ক্ষণটি খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করতে থাকবেযে বিশেষ ক্ষণে ওদের দুজনের হৃদয়ে প্রেমের উন্মেষঘটেছিল।
লেখক পরিচিতিঃ
ডেভিড মীনস – (জন্ম ১৭ অক্টোবর, ১৯৬১ – ) একজনআমেরিকান ছোটগল্পকার এবং ঔপন্যাসিক। বিভিন্নপত্রপত্রিকায় তাঁর লেখা প্রকাশিত হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

-+=