এস্থের বেনদাহান’এর গল্প :একটা পুরষ্কার সবসময়ই কোন পুরষ্কার নয়

অনুবাদক : জয়া চৌধুরী

বালির ওপর উত্তাল সমুদ্রের ঝাপট আছড়ে পড়ার শব্দ হঠাৎ ওর মনে এনে দিল এক সুদূরের বিষণ্ণ স্মৃতি। বিগত শৈশবের এক স্মৃতি। সে এক ঝড়ের বিকেল ছিল, অনেক অনেক বছর আগে। সে রেগে গিয়েছিল কি না মনে নেই তবে অকারণে উত্তেজিত ছিল এটা ঠিক। চোখ সরিয়ে আনল টেবিলের ওপরে যেখানে উৎসব উপলক্ষ্যে থরেথরে সাজানো পোর্সেলিনের বাসনপত্র। ওগুলো ধবধবে সাদা রঙের। কেননা হ্যাম, চিজ ইত্যাদি রুপোর বাসনে রাখা। চোখে পড়ল ছুরিতে, নিজেকে জিজ্ঞেস করল ওটা তুলে বোন নেরেয়ার বুকে বসিয়ে দিলে কেমন হয়! ওর দু-বিনুনী করে বাঁধা সুন্দর সোনালি চুল (ও অবিশ্যি সবসময় দুঃখ করত , মাকে বলত চুল কেটে দেবে, কেননা ওর মতে সোনালি চুল ছোট করে ছাঁটলেই মানায়।) নেরেয়া ওদের দাদার সঙ্গেও সমুদ্রের তীরে খেলত। সাঁতারু এদুয়ার্দো ওর দিকে বালি ছুঁড়ত। দুই অপরাধী হাসাহাসি করত, আর সে দোতলার বারান্দা থেকে ওদের দেখত। এই সেই জায়গা যেখানে এখন তারা দুবোন মালাগার এই শীতের রাতে বসে আছে। বহুদিন দেখা হয় নি তাদের। মনে করার চেষ্টা করছিল ঠিক কতদিন তাদের দেখা হয় নি, কিন্তু মনে করতে পারল না। লাউরা মনে করে পাঁচ বছর আগে বাবা ফিরে এসেছিল আর নেরেয়া ভাবে ও ফিরেছিল একটা দারুণ গ্রীষ্মের পরে।
রাতটা অন্ধকার আর ভারী। যে আলোগুলো একমাত্র তারা আবিষ্কার করল সেগুলো দূর থেকে দেখে মাছ বোঝাই নৌকোর মনে হচ্ছে।
– আমি খুশি যে বাড়িতে তুই ছিলি এখনো তা সেরকমই উষ্ণ পারিবারিক হয়ে আছে। যদিও সেটায় তুই তোর নিজস্ব আধুনিক স্টাইলে সাজিয়েছিস, কিছুটা ঠান্ডা তবে বেশ আরামপ্রদ। সিগারেট ধরাতে ধরাতে বাড়ির ভেতর দিকে চোখ ফিরিয়ে বলল নেরেয়া।
লাউরা নিঃশব্দে ওর নিটোল শরীর আর গোল চিবুকের দিকে চেয়ে রইল।
আজ বিকেলেই নেরেয়া এসে পৌঁছেছে আর সোজাসুজি স্থানীয় টাউন হলে গিয়েই ওদের দেখা হয়েছে। এখানেই শিশুদের ওপর যৌন অত্যাচারের কারণ বিষয়ে ওর গবেষণার ওপর ইনফ্যান্সিয়া ফাউন্ডেশন তাকে পুরষ্কার দিয়েছে। স্থানীয় মেয়রের উপস্থিতিতে ওর হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও ওরা ওকে “প্রিয় কন্যা” উপাধিতে ভূষিত করেছে। নেরেয়া রোগা হয়েছে, দেখেও মনে হচ্ছে চুলটাও এই সন্ধ্যার জন্য পার্লারে সেট করে এসেছে। লাউরার মনে পড়ছিল তার বোন সহজে পার্লারে যেত না। চুলের এই সোনালি চকচকে ভাবটা পার্লারের অবদান নিঃসন্দেহে। তার রাগ হল নিজে সে এলোমেলো করে এই দিনে চলে এসেছে বলে।
– তোরা কেউ এটা চাস নি, আর আমি বাস্তবে এটা করেছি কারণ… আমার ভাল লেগেছে তাই। এই হলটা কমিউনিটি সেন্টার আর সমুদ্রতীর দুটোরই কাছে। বাচ্চাদের স্কুলের থেকে পাঁচ মিনিটের দূরত্বে। এখান থেকে দশ মিনিট দূরেই একটা মল খুলেছে ওরা, মার গাড়ি করে যেতে আধ ঘন্টা লাগে। তবে আমার জায়গাটায় খুব আরাম লাগে। তবে আমি তো তোদের বলেইছি তোদের অংশটাও আমি কিনে নিতে পারতাম , তুই ভাবতেও পারবি না যে…
সদ্য কদিন আগেই উদযাপন করা দশম বিবাহবার্ষিকীতে পাওয়া গলায় ঝোলানো একটা সোনার লকেট নাড়াচাড়া করতে করতে লাউরা ফিসফিস করে বলল।
– ভাবিস না। সেজন্য বলিনি ওকথা… বহুদিন হল আমি দূরে চলে গেছি। আমার দূরে যাওয়ার দরকার ছিল। আজ আসার জন্য থ্যাঙ্কস। তুই ভাবতেও পারবি না আমি কি পরিমাণ নার্ভাস হয়ে পড়েছিলাম । বাড়িতে তোর সঙ্গে কথা বলা আর বাইরের লোকের সামনে কথা বলা এক নয়। এটা… বলে বোঝাতে পারব না, অনেক বাস্তব ব্যাপার।
নেরেয়া ভাবল এখনও অবধি একবারও তারা চোখে চোখ রেখে কথা বলে নি।
– তুই খুব ভাল কাজ করেছিস ওটা… এত দূরে থেকেছিস… এটা কোন দোষ দেওয়া নয়, তবে আমিও বারকয়েক ভেবেছি আমারও ভাল লাগত, কিন্তু… আমাদের মায়ের দরকার ছিল… গলার হারটা নিয়ে খেলতে থাকল লাউরা। হঠাতই তার মনে হতে লাগল চেনটা বড্ড ভারী। তার জীবনটা যেন অন্যের ওপর নির্ভরতার একটা শেকল।
– আমি জানি লাউরা। আমি কখনই তোর বদলি হতে পারব না। আমার ফিরে আসার ক্ষমতা ছিল না। ডিভোর্সটা হল যখন ভাবলাম বুঝি আমার সময় হল। কিন্তু যমজ দুজনের জন্য ব্যপারটা অনেকখানি বদলে যাবার- ঘড়ির দিকে তাকিয়ে বলল সে- ওরা এখনো ছোট আছে, স্প্যানিশ ভাল জানে না।
– শোন, এই ছোট চুলে বেশ লাগছে তোকে, লালচে রঙের চুল, বেশ কমবয়েসী, স্বাভাবিক।
নেরেয়া হাত বাড়িয়ে নিজের চুলটা ছুঁল। লাউরা ঘুরে বসল, স্পর্শে অস্বস্তি হচ্ছিল তার। তবে সরে যায় নি যদিও, তবে কিছু মানুষ ছাড়া বাকীদের কাছাকাছি হতে কখনও সে আরাম উপভোগ করে না।
ব্যালকনিটা একটা গাড়িবারান্দায় শেষ হয়েছে যেখান থেকে সমুদ্রতীর দেখা যায়। একটা উঁচু পাথরের ওপর বসে বালির ওপর দিয়ে সমুদ্র গোটাগুটি দেখা যায়। মুহূর্তের জন্য নিস্তব্ধতা ছিল সমুদ্রের মত তরঙ্গায়িত ও সমত্বরণ যেন।
বিয়ার সাজিয়ে দিল ওরা। বসবার ঘরে ঢুকল। লোকজন খবরটা দিয়ে দেবে। টিভি চালিয়ে দিল ওরা আর সেই ফাঁকে একটা সেলারের গায়ে হেলান দিয়ে দাঁড়াল। রান্নাঘরের লাগোয়া জায়গাটা “ইনটিরিয়র ডিজাইন” ম্যাগাজিনের পাতা দেখে নকল করেছিল লাউরা।
ছবিটা নিপুণ একেবারে। নেরেয়ার একদম ক্লোজ আপ ছবি। লাউরার মনে হল ওকে খুব যুবতী দেখাচ্ছে। মুখটা আরও গোল হয়েছে, তবে সোনালি চুলটা কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপিকার মত টেনে পনিটেল করে রাখা হয়েছে। সাদা শার্ট-এর ফাঁকে উঁকি দিচ্ছে ওর ঈর্ষনীয় বুকজোড়া, যা ছবিটাকে কিছুটা ভেঙে দিচ্ছে।
“আমি কখনও ভুলব না সেই বাচ্চার সঙ্গে সাক্ষাৎকারের কথা- যার সঙ্গে ছাত্র হিসাবে মিশেছিলাম।”- টিভিতে দেওয়া ওর একটা সাক্ষাৎকার কোন স্মৃতি উসকে দিল। অতীত জেগে উঠল। বিস্মরণের ফাঁদে আটকানো স্মৃতিরা ফিরে এল। মনে পড়ল কিভাবে একজন শিক্ষকের হাতে যৌন নিপীড়িত হয়েছিল লাউরা। আর নিশ্চিত… ঘটনাটা ঘটেছিল। “সেখানে একটা আলো ছিল তোমাকে পথ দেখাচ্ছিল কোন দিকে যেতে হবে। সেই অবস্থান থেকেই আমি কখনও শিকার আর জল্লাদের কথাগুলো শোনার অভ্যেস ছাড়ি নি। কখনও ছেলেমানুষি প্রলাপ ভেবে উড়িয়ে দিই নি।”
লাউর আশুনে নতুন করে আবার কেঁপে উঠল। এখন মনে হচ্ছিল ওর কথার পেছনে আরও অন্ধকার রয়েছে।
কয়েকটা ছবি দেখার পরে মেয়রের দিক থেকে একটা ঘোষণা এল। তারা আবহাওয়া নিয়ে কথা বলে যাচ্ছিল। বৃষ্টি হবার কথা। উত্তর দিক থেকে ঠান্ডার একটা ঝাপট আসবে।
– কথা বলার সময় আমি বড্ড হাত নাড়াই। ভাবি নিজেকে সামলাব। একটু রয়েসয়ে কথা বলি, কিন্তু না- ঠাট্টার সুরে নেরেয়া বলল। তারপর হাওয়া খেতে খেতে হাসল সামান্য। বলল- স্মৃতি থেকে যা শিখেছি সেটার ভাল অংশটাই ওরা কেটে দিয়েছিল। “আমি জানি শিশুরা এই যে নিপীড়িত হয় তা আমি কখনও শোধরাতে পারব না। কিন্তু আমার এই চেষ্টা তাদের প্রতি করা অন্যায়ের প্রতিকার করার দিকে একধাপ এগিয়ে দেবে। বিপদসীমা লঙ্ঘন করবে না। অদৃশ্য হাতে বরফের দেওয়ালে ঠেস দিয়ে আহত করবে না। ওরা যখন শৈশবকে আঘাত করে তখন সেটা শিশুর শিরার মধ্যে বয়ে চলা স্ফটিক স্বচ্ছতাকে চিরকালের মত ভেঙে ফেলবে।
নেরেয়া প্রায় অদৃশ্য দর্শকদের দিকে চেয়ে হাত নাড়ল।
লাউরা অলক্ষ্যে লক্ষ্য করল। একটা ছড়ানো অস্থির মন খারাপ বুকে চেপে বসেছিল তার। সম্ভবত সেটা একটা জমাট বাঁধা ক্রোধ। বাস্তবে বোনের সঙ্গে কোথায় মিল তার? কিন্তু নেরেয়া অলস আর অচেনা ভঙ্গীতে ওর শোবার ঘরের দিকে তাকাল। লাউরা মনে মনে প্রশ্ন করল কিভাবে একজন মানুষ যে কিনা হলোকাস্টের মত ইহুদীনিধন যজ্ঞের হাত থেকে বেঁচে যাওয়া শিশুদের, স্প্যানিশ গৃহযুদ্ধের পরে বেঁচে যাওয়া শিশুদের, আর্জেন্টিনার হারিয়ে যাওয়া পরিবারের মানুষদের সাক্ষাৎকার নেয়, বসনিয়ার যুদ্ধের পর বেঁচে যাওয়া শিশুদের সাক্ষাৎকার নেয়, সিরিয়ায় যেতে চায়, সে নিজের পরিবারের সমস্যার প্রতি নির্বিকার থাকতে পারে? যেসব সমস্যায় সে ছুটে যায় এটা কি তার চেয়ে কম দূরের কোন সমস্যা নয়? সেদিন ও কোথায় ছিল যখন তাদের মা কোমর ভেঙে পড়েছিল কিংবা তার বার্ধক্যজনিত স্মৃতিভ্রংশ-এর অসুখ ধরা পড়েছিল আর তাদের ভাইবোনকে একটা সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল?
অনুষ্ঠানের পর অন্য চ্যানেলে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ও বলেছিল-
– আপনি কি বেশি অল্প বয়সেই শিশুবিষয়ক পড়াশুনার জন্য জীবন উৎসর্গ করলেন না? শৈশব কি তবে বিপদের আশঙ্কায় আছে? – একটা পত্রিকা প্রশ্ন করেছিল ওকে।
– না, না না। ততটা মনে করছি না। তবে এর বিভিন্ন স্তর আছে। আমরা দেখেছি যখন কোন যৌন লাঞ্ছনা ঘটে থাকে তার পর থেকে ব্যাপারটা ভুলে গেলেও কোনকিছুই আর আগের মত থাকে না। যাই হোক বুকের ভেতর একটা কাঁটা বিঁধেই থাকে আর যন্ত্রণা দেয়। তবে “ঘুমন্ত ব্যাথা”= এধরনের কোন কষ্ট উৎপাদন করে না সেটা।
– আপনি নিজে কি ওরকম কোন লাঞ্ছিত শিশু ছিলেন?
নেরেয়া চোখ নামিয়ে নিল। মুহূর্ত পরেই চোখ তুলে সরাসরি তাকাল ক্যামেরার দিকে।
– একটা গবেষণার বিষয় থেকে এই ব্যাপারগুলো সরিয়ে রাখা উচিৎ। যদিও বিষয়টা আপনি সেই ব্যক্তিগত এলাকায়ই ছেড়ে এসেছেন গোটা দুনিয়ার মুখোমুখি হবার জন্য।
টেলিভিশনটা বন্ধ করে দিল সুইচ টিপে। তারপর আবার বারান্দায় এল, আরামকেদারায় গা এলিয়ে দিল। বাতাসের আঙুলগুলো ওর চুলের ভেতর চলাফেরা করছে। খুব মনোরম আবহাওয়া, ঠান্ডা নেই।
– আমার অস্বস্তি করছে। মনে হচ্ছিল না তুই শুনছিস আমার কথা। – তারপর দুম করে আমার কথা কেটে হিগস-বোসন কণার ওপরে মন্তব্য করতে লাগল।
– এই খবরটা জরুরী
– আর প্রতিবার আমরা আরো ছোট কিছু খুঁজে পেতে থাকি। শেষমেশ অসীমকেই হয়ত পেয়ে যাব।
তাদের দুজনের মাঝখানে আসা চকিত নীরবতায় দুজনেরই অস্বস্তি লাগছিল। নেরেয়া ওর চেয়ারে আরাম করে গুটিসুটি মেরে বসেছে। ডান পাটা আরামকেদারায় ভাঁজ করা আর বা পা ঝোলানো, চুল ছড়ানো। মাথা ঘোরানোর সঙ্গে সঙ্গে চুলগুলোও দুলছে, সে আকাশের দিকে চেয়ে আছে।
লাউরা ওর দিকে চেয়ে মনের ভাব বোঝার চেষ্টা করছিল।
– একটা জিনিষ ভাবছিস- হঠাৎ বলে উঠল। তবে সঙ্গে সঙ্গেই ঠোঁট কামড়াল। বুঝতে পারছিল না এরপর কিভাবে এগোবে।
– অ্যাঁ?
– তোর যদি প্রয়োজন হয় তালে… জানি না … তোকে মার কাছে নিয়ে যেতে পারি এক সময় । আর এটা যদি যথেষ্ট না হয় তালে আমি তোকে…
– না না সেসব নয়।
– তোর বক্তৃতা…
– সে তো হয়ে গেছে
– না, সে আমি জানি, কিন্তু প্রতি মুহূর্তে মনে হচ্ছিল কথার ভেতরে আরও কথা আছে। জানি না ,আমার আসলে একটা ভয় হচ্ছিল। ভাববি আমি পাগল হয়ে গেছি, এক এক সময় আমি নিজেও তাই ভাবি। মাথার মধ্যে এমন সব ভাবনা চলে আসে… মনে হয় আমার কোন কাজ নেই তো তাই, ভাববার অনেক সময় পাই।
– কিছু কাজ নেই একথা বলিস না। আমার মনে হয় বেড়ে ওঠাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। ইস আমাদের বাবা মা যদি ব্যাপারটা এভাবে ভাবত। মা সব সময় বাবার জন্য উদ্বেগে থাকত। ভাবত বাবা একদিন মাকে ছেড়ে চলে যাবে। সঙ্গে সঙ্গে সব জায়গায় ঘুরত, সন্দেহ করত বাবাকে। কক্ষনও আমাদের ভাল করে জানাত না। কিন্তু আর্জেন্টিনার সেই ট্যুরটা করতেই হয়েছিল। কি হচ্ছে সেকথা বোঝার পক্ষে আমরা বড্ড বেশি ছোট ছিলাম। মনে আছে মার চোখে বকুনি দেখেছিলাম। ঘন্টার পর ঘন্টা স্যাকরার দোকানে নজরদারী করতে বসে থাকত মা। প্রতি বছর আর একটু গম্ভীর আরও একটু দুঃখী। তুমি তো দারুণ মা ছিলে , মা।
– কি হয়েছিল তোর সাথে?- নেরেয়ার কথা শুনে অস্বস্তি নিয়ে প্রশ্নটা করল সে।
– তোকে বলতে চেয়েছিলাম সেকথা। সে মুহূর্ত কখনও আসে নি। শেষমেশ ভাবলাম তুই সব জেনে যাবি।
– আমার ভয় পাইয়ে দিস তুই।
– আমি এখন ওকে ক্ষমা করে দিয়েছি। কিন্তু নিজেকে ক্ষমা করতে কষ্ট হয়। এদুয়ার্দো আর আমি কখনও ফের এই কথাগুলো আমাদের মধ্যে তুলি নি। এড়াতে চেয়েছি। আমার এগারো বছর বয়স ছিল। ভুলে গেছিলাম সেকথা। ঠিক ভুলেছি বলা যায় না আসলে আবেগ ছাড়া ব্যাপারটা ভাবতে শিখেছি। যেন দূরের কোন বিষয়। জমাট বাঁধা অবস্থায় এই স্মৃতিটাকে ফেলে রেখেছি।
– মানে আমাদের দাদা!… এগারো বছর? ওর ছিল তখন…
– হ্যাঁ, উনিশ
– আমায় বলিস নি কেন?
ওরা থেমে গেল। আকাশের তারার দিকে চেয়ে রয়েছিল। লাউরা নেরেয়ার হাতটা খুঁজল। জড়িয়ে ধরল। আকাশে আঁকিবুঁকি কাঁটা তারাদের দেখতে লাগল। নেরেয়া ভাবল একটা উল্কা দেখতে পেয়েছে। একসময় ওরা বলল একটা ইচ্ছাপূরণ হবে।
আঙুল তোলার জন্য নেরেয়া লাউরার হাত ছাড়িয়ে নিল। আকাশের দিকে চেয়ে বাতাসে তারা আঁকতে লাগল। হিগসের বোসনকণা নিয়ে কথা বলতে লাগল। তারপর নেরেয়া স্বীকার করল তার ইচ্ছে কোস্তারিকার সেইসব জায়গায় বেড়াতে যাবে, সেসব দেখবে যে জায়গাগুলো বছরের পর বছর মাটির তলায় চাপা পড়া রয়েছে।
লেখক পরিচিতি
এস্থের বেনদাহান 
(Esther Bendahan) 
 মরক্কোজাত ইহুদী-স্পেনীয় লেখক। এখনও পর্যন্ত ১৪ /১৫ টি বই লিখেছেন। স্পেনের টিভি চ্যানেলে জনপ্রিয় ‘শালোম’ অনুষ্ঠানটির সহকারী পরিচালকও বটে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.