1.ক্ষনিকের সুখে, সব দুঃখ কষ্ট ভুলে যায়।

————————————–

অমূল্য রঞ্জন বিশ্বাস

 

আষাঢ় মাসের প্রবল বর্ষণ

চারিদিকে জল থৈ থৈ।

ঝঞ্জা একটু কমিলে,

চাষী নাঙ্গল, বলদ লয়ে, কাঁধে তার মই,।।

ঝড়-বৃষ্টি অগ্রাহ্য করে ফসল

উৎপাদনের লাগি

করে সে অবিরত সংগ্রাম।

অক্লান্ত প্রচেষ্টা হাড়ভাঙ্গা খাটুনিতে, তাহার যেন

পায়ে পড়ে মাথার ঘাম।।

চাষের পর মই, ধান্য রোপন

দিনরাত যেন এক- করে

সে ফসল উৎপাদনে লাগি।

কখনো প্রচন্ড খড়ায়

জলাভাব দেখা দেয়

তখন শেচ ব্যবহার করে সে

ঘুম নিদ্রা ত্যাগী।।

জমির উর্বরে বহুপ্রকার রাসায়নিক ব্যবহার করে

কেবল বাড়তি ফসলের কারণ।

ধানের শীষ যখন ধরিল হলুদ রং তখনই স্বস্তির নিঃশ্বাস

ফেলিল সে

হল যেন কষ্ট নিবারণ।।

ধান্য লইয়া যখন

ফিরিল বাড়িতে

সকল দুঃখ কষ্ট যেন

ভুলিয়া গেল এক নিমেষে।

হইল উল্লাসিত মন

পরিবার লইয়া সুখে কাটাইব

সুস্থ পরিবেশে।।

এটাই তো পৃথিবীর রূপ

বহু কষ্টের পরেও

যদি পায় একটু সুখ।

সব কষ্ট যেন চাপা পড়ে যায়

তাহার নিচে

সব ক্লান্তি ভুলে তখন

ফুলে ওঠে আনন্দে তাহার বুক।।

 

 

2.মধুর কন্ঠি আব্বাস উদ্দিনের স্মরণে।

—————————————-

বঙ্গবাসী গর্বিত আজ

তোমার আগমনে।

চলে গেছো পৃথিবী ছেড়ে

তবুও রয়েছো সবার মনে প্রানে।।

শুধু ভাওয়াইয়া সম্রাট নও–

 

বঙ্গলিপির মাঝেও তুমি অমর

অফুরন্ত তব অবদান।

দিশা দেখালে শিল্পীমহলে

সকলের কন্ঠে রয়েছো যেন তুমি বিরাজমান।।

অক্লান্ত পরিশ্রম করিলে

মোদের সমাজ সংস্কারে।

বহু বাধা অতিক্রম করিতে হয়

তোমায় বারে বারে।।

জাতি-ধর্ম কুসংস্কার কোনদিন

বেরি পড়াতে পারে নাই তোমার পায়ে।

সকলের ঊর্ধ্বে বিরাজিলে তুমি

ধর্মান্তর বাদে আসিলে ধরায়।

হে মহামানব যুগে যুগে অবতীর্ণ হও

সংস্কারের মানবজাতির মান।

কুসংস্কার উচ্ছেদে ছড়িয়ে দাও

তোমার কন্ঠে অগ্নি দীপ্ত গান।

তব লীলা লোক সমাজে

যেন জবাব বিহীন।

অমর রহে মধুর কন্ঠি

আব্বাস উদ্দিন।।

অমর রহে ভাওয়াইয়া শিল্পী

আব্বাস উদ্দিন।।

 

 

 

3.নারীশক্তি প্রস্ফুটিত করো

———————————-

অমূল্য রঞ্জন বিশ্বাস

অমিয়

 

জেগে উঠো নারী জাতি

অস্ত্র নাও হাতে।

অসীম শক্তি প্রহার করো

ভয় পেয়ো না কোনমতে।।

অসুর নাশে ধরেছো তোমরা

পূর্বেও বহু যেন রূপ।

তবে কেনো আজকের দিনে

সবাই হয়ে আছো চুপ।।

ত্রিনয়নী, দশোভূজা, কালিকা রূপে

সবে হও অধিষ্ঠান।

নতুবা ধর্ষণকারী অসুররা

কেড়ে নেবে তোমাদের জাতি কূল মান।।

অধর্মকে কেবল তোমরাই

বিনাশ করতে পারো।

নারী কিন্তু অবলা নয়

সারাবিশ্বে তুলে ধরো।।

যুগ-যুগান্তরে হয়ে এসেছে

এইরূপে অত্যাচার।

পাপ হারিনি রূপে তোমরা

পাপীকে করেছ সংহার।।

আজকে দেখো ধর্ষণ করে

মৃত্যু হচ্ছে কন্যা হাজার হাজার।

ইহাদের কবলে তুমিও পড়িবে

রক্ষা পাবে না তো আর।।

ছিনিয়ে নাও নিজের অধিকার

নারীগণ রুখে দাড়াও সবে।

পৈচাশিক পুরুষ হইতে

নিজেদের রক্ষা করতে হবে।।

 

4.আঘাত সহিবার ক্ষমতা থাকিলে উপকার করো।

——————————–

অমূল্য রঞ্জন বিশ্বাস

 

পড়িলে বিপাকে যেন কেউ ছটফট করে বাঁচিবার লাগি। কেউ আছো কাছাকাছি দেখো আমাকে।

আঃ ভগবান বোধ হয় গেল প্রাণ,

সেই মুহূর্তে কেউ যদি বাচায় সে হবে ভগবান সমান।।

কিন্তু মানুষ,বিপদ শেষে সম্পূর্ণ যেন ভুলিয়া

যায় এক নিমেষে।।

যেমন ধরুন,নদীর মধ্যে দিয়ে এক ব্যক্তির পচা-গলা দেহ ভাসিয়া যায়, আর এক ব্যক্তি নৌকা পাড়ি দিতে গিয়ে নৌকা উল্টে যায় মাঝনদীতে, হাবু ডুবু খেতে খেতে ওই মৃত দেহটাকে ধরিল জড়াইয়া মৃতদেহের সাহায্যে বহুকষ্টে কিনারায় পৌঁছাইল।

পৌঁছাইবা মাত্র দেহ তাকে ধাক্কা মারিয়া সরাইয়া দিল এবং দুর্গন্ধ, ওয়াক, ওয়াক,

থু থু করিতে লাগিল,কিন্তু ওই দেহটাই যে উহার প্রাণটাকে মৃত্যুর কবল হইতে রক্ষা করিলো সেটা একবারও স্বীকার করিল না, তাহার প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বীকার না করিয়া বরং তাহাকে ধিক্কার জানাইলো। উপকার করিলে আঘাত করাটাই মানবিক ধর্ম?

 

 

5.মনীষীগণের স্মরনে

—————————-

অমূল্য রঞ্জন বিশ্বাস

 

বিশ্বকবি রবি ঠাকুর

স্মরণ করি দিনে দুপুরে

আর কবি নজরুল ইসলাম।

মধুসূদন ছন্দের কবি

দিবারাত্র তারে ভাবি

ছন্দের যুগে তারি তো সুনাম।।

জসীমউদ্দীন, সুকান্ত

লেখক শরৎচন্দ্র

আর কবি সুকুমার রায়।

কবি ছিলেন হেমচন্দ্র

বন্ধ হলো চক্ষু রন্ধ্র

শেষ জীবনে অন্ধ হলেন প্রায়।।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

অনেক কবি ছিলেন ধরায়

বর্তমানে কবির তুলনা নাই।

প্রত্যেক কবির স্মরণে

প্রণাম জানাই তাহাদের চরণে

আমার প্রণাম নিবেন সবাই।।

দেশের লাগিয়া যিনি

প্রাণ দিলেন গুণমণি

তিনি হলেন নেতাজি সুভাষ।

অভি, ক্ষুদিরাম বসু

অতি সে অল্প বয়সে

দেশের লাগি নিলেন গলায় ফাঁস।।

মাস্টারদা সূর্যসেন

বিশ্বজয়ী নরেন

বিবেককে সে করেছিল জয়।

রামকৃষ্ণের পরশে এসে

স্বামী রুপে সাধু সেজে

মাতালেন সারা বিশ্বময়।।

ইশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর

তিনি ছিলে দয়ার সাগর

সতীদাহ বিধবা বিবাহে।

আপ্রাণ চেষ্টার তরে

বিধবাকে পুত্রবধূ করে

কুসংস্কার রয়েছে চাহে।।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *