ডানিল খারমস’এর গল্প : ঝলমলে এক গ্রীষ্মের দিনের সূচনা

ভাষান্তর : চকোরী মিত্র
মোরগটা তখন সবেমাত্র ডেকেছে বলা যায়, আলো ফুটছিল। এই সময় টিমোফে একটা জানালা দিয়ে সামনের ছাদে লাফ দিয়ে নামল। সেই সময় যারা পথে ছিল, ভয়ে থমকে দাঁড়ালো কয়েক মুহূর্ত । চাষী ক্ষারিতনও দাঁড়িয়ে পড়েছে তা দেখে। সে ক্ষিপ্ত হয়ে একটি পাথর কুড়িয়ে ছুড়ে মারল টিমোফের দিকে। কিন্তু লক্ষ্যভ্রষ্ট হলো, সে পালিয়ে ঠিক-ই গেল। 
“ও এক চতুর-দুর্বৃত্ত!” সমস্বরে চিৎকার করে উঠলো পথের মানুষগুলো।
এই সময় যুবভ নামের এক যুবক দম বন্ধ করে ছুটে গেলো সামনে, এবং দেওয়ালে গিয়ে তার মাথা ঠেকিয়ে থামল। 
“উফঃ”…. নোংরা দাঁত বের করে বিরক্তি প্রকাশ করল এক মহিলা। তবে কোমরভ তার দিকে তেড়ে যেতেই সে আর্তনাদ করে ছুটে পালালো পিছনের অন্ধ গলিতে।
এই রঙ্গ-তামাশা উপভোগ করতে করতেই যাচ্ছিলো ফেটেলিউসিন। কোমরভ তাকে দেখতে পেয়ে এগিয়ে এলো, তাচ্ছিল্যের সুরে ডাকল, “এই যে! থলথলে শুয়োর”, বলতে বলতেই তার পেটে এক ঘুষি মেরে দিল। দম আটকে হাঁপাতে হাঁপাতে ফেটেলিউসিন নুয়ে পড়লো দেওয়ালের দিকে। তখন রোমাসকিন ওপরে জানালা থেকে মুখ বাড়িয়ে থুতু ফেলছে, লক্ষ্য হলো ফেটেলিউসিন।
ঠিক সেই সময়, কাছেই এক বড়সড় নাকের এক মহিলা তার বাচ্চাকে খুন্তি দিয়ে মারতে শুরু করেছে। অন্যদিকে এক সুন্দরী তরুণী মা তার কাঁদুনে শিশু কন্যাটির মুখ দেওয়ালে চেপে ধরেছে। এক দিকে ছোট্ট একটি কুকুর তার লগবগে ভাঙা পা নিয়ে ফুটপাথে শুয়ে আছে। ওদিকেই একটি বাচ্চা ছেলে, কিছু একটা খেয়ে চলেছে পাশের আবর্জনা রাখার ড্রাম থেকে।
রেশনের দোকানে আবার লম্বা লাইন পড়েছে। চিনি কেনার লাইন এটি। যথারীতি লাইনে দাঁড়ানো মহিলারা একে অপরের সঙ্গে বচসা করেই চলেছে। ব্যাগ নিয়ে ঠেলাঠেলি হচ্ছে। বেশ উঁচু গলায় চলছে সেই কোঁদল।
সেই যে চাষী ক্ষারিতন, সকালে দেখা গিয়েছিলো যাকে, এখন আর সে নিজের ভিতর নেই। মদ্যপ অবস্থায় প্যান্টের বোতাম খুলে এক মহিলার উদ্দেশে অশালীন কথা বলেছে। 
এইভাবেই হলো গ্রীষ্মের এক ঝলমলে দিনের সূচনা।
লেখক পরিচিতি
দানিল খারমস
প্রাক সোভিয়েত কবি, নাট্যকার ও গল্পকার। রাশিয়ার সেইন্ট পিটার্সবার্গে জন্ম ১৯০৫ সালে। মৃত্যু সেইন্ট পিটার্স বার্গে ১৯৪২ সালে।

অনুবাদক পরিচিতি :
চকোরী মিত্র
কোলকাতায় জন্ম। থাকেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *