জয়দীপ দে’র গল্প : রক্তশোধ

একটা লাশ নিয়ে এতো গবেষণার কি আছে, যখন লাশটা দেখবার মতো কোন কন্ডিশনে নেই, চাপাতি আর রামদার কোপে কিমা কিমা হয়ে গেছে। বডিটা মানুষের না হয়ে ভেড়া বা ছাগলের হলে বেশ হতো। পিস করার আর ঝামেলা থাকত না। খালি হাড় থেকে মাংস ছাড়িয়ে নিলেই হত। কিন্তু সমস্যা হলো বডিটা মানুষের। আর মানুষটা আমিই।
তাই সেই সকাল থেকে পাহারা দিচ্ছি। এদের রং-ঢঙ দেখছি। দেখে গা জ্বালা করছে। নির্জলা একটা ঘটনা। আঠারো ঊনিশটা কোপ… পার্ট টু পার্ট লুজ হয়ে গেছে। ফলে ওয়াশার পুরনো পানির পাইপের মতো ঝরঝরিয়ে রক্ত পড়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে আর বাঁচানো যাইনি। এইতো ঘটনা। এটাই লিখে দে’না বাপু, ল্যাঠা চুকে যায়। না, তা হবে না। ৫ বছরের পড়া ৭ বছরে ঘষে ঘষে শেষ করেছে। তার একটা ধক দেখাতে হবে না। তাই দুই পণ্ডিত মিলে গবেষণায় বসেছে। পাকস্থলিটা প্রিজার্ভ করা হবে কিনা। হার্ট কিডনি দরকার আছে কিনা। একটা তিতকুটে গালি মুখের মধ্যে কুলোকুচি করছে, দিতে পারলে ভালো লাগত। কিন্তু দেয়া যাবে না। আফটর অল বডিটা আমার। মেজাজ দেখালে ছিড়েখুঁড়ে কি না কি করে ফেলে কে জানে। 
শেষবার যখন মা দেখেছিল, সারা শরীর রক্তে ভেসে যাচ্ছিল, মা দেখেই মূর্ছা যায়। বাবা মাথায় হাত রেখে নারায়ণ নারায়ণ করছিলেন। পরে হেলথ কমপ্লেক্সের ডাক্তাররা এসে ধুয়ে পুছে একটা চেহারা দেয়। এক নার্স দেখলাম ফাঁকে চুলগুলোও আঁচড়ে দিয়েছে। পরে বুঝলাম টিভির ক্যামেরা আসবে। তাই এই সাজগোজ। অবশ্য শেষে আর ক্যামেরা আসেনি; রোড ব্লকের কারণে। এখন মোটামুটি লাশটা একটা ভদ্রস্থ রূপ পেয়েছে। বাবা মা আসলে কাঁদবে জানি, তবে চেহারা দেখে একটু আশ্বস্থ হবে। নাহ, ছেলে আমার চিকিৎসা পেয়েছে। চেষ্টার ত্রুটি হয়নি। কিন্তু ওরা কী করে জানবে মরার আগেই আমাকে চালান করে দিয়েছে মর্গে। এখন আমি দিব্যি আমার লাশ পাহারা দিচ্ছি। স্টেটমেন্টটা বোধহয় ঠিক হলো না। আমি হয়ত মরেই গেছি। মরার পরেও নাকি ঘন্টা দুয়েক দেহে আত্মা থাকে। তখন নামকীর্তন করতে হয়। গীতপাঠ করতে হয়। তাহলে ‘হরি বল হরি বল’ বলে আত্মা নাকি আস্তে আস্তে উপরে চলে যায়। না গেলেও ক্ষতি নেই। পরের একমাস তার ঊর্ধ্বগমনের জন্য নানা আয়োজন চলবে। পুরোহিত ব্রাহ্মণদের ঝোলা ভারী হবে। পদে পদে ধুতি গামছা নৈবদ্য যাবে এদের বাড়ি। ঘরের লোকজন শ্রাদ্ধ শান্তি করতে করতে প্রোটিনের অভাবে আমসী হয়ে যাবে। আর চর্বি চোষ্যে পুরোহিত ব্যাটাদের শরীর থেকে চেকনাই ছড়াবে। কী মজার ব্যাপার, তাই না। 
এই সিরিয়াস মুহূর্তে আমি এসব কী আজেবাজে ভাবছি। ওমা কী বিশ্রি গন্ধ। সারাটা শরীর গুলিয়ে উঠছে। গন্ধটা অদ্ভূত। শুকনো রক্ত পঁচা মাংস আর দেয়ালের ঘাম মিলে কেমন একটা ককটেল। ঘন্টা তিনেক ধরে এই গন্ধে ডুবে থেকে মনে হলো আর বেশিক্ষণ থাকলে আমি ঠিক ঠিকই বাঁচব না। আবারও সন্দেহটা উঁকি মারে। আমি কি বেঁচে আছি? সুবলের হাতে আমার ডেথ সার্টিফিকেট। যদিও নামে সামান্য প্রবলেম আছে। সুরোজ লেখা আছে। হবে সরোজ। আর বাদবাকি সব ঠিকঠাক। আরএস সাহেব তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে এই ভুলটা করে ফেলেছেন। এতে একদিকে লাভই হলো। পত্রপত্রিকা সরোজ না গিয়ে সুরোজ গেলে কেউ খুব একটা আমলে নেবে না। সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগও উঠবে না। অন্তত আমার লাশটা চিতায় যাওয়ার আগে সংখ্যালঘুর স্টিকার নিয়ে যাবে না, খারাপ কি? 
মর্গ থেকে বেরিয়ে মনে হলো বাঁচলাম। চারদিকে ঝকঝকে রোদ। কিন্তু রোদের ভেতরে গা পোড়া ভাবটা নেই। হালকা একটা বাতাস বইছে। আকাশেও মেঘ নেই। প্রবর্তক মোড়ে এসে মনে হলো তাকিয়ে থাকি আকাশের দিকে। একটু পরেই তো ওখানে যেতে হবে। কী জানি কী রহস্য আমার জন্য অপেক্ষা করছে। হে আকাশ আমি আসছি। তুমি ঘর গোছাও। বলতে না বলতে ৩ নম্বর মিনিবাসটা ফুশ করে আমার পাশ দিয়ে চলে গেলো। একটা মানুষ যে দাঁড়িয়ে আছে তার কোন হিসেব নেই। শালার পুতদের পাছার কাপড় তুলে বেতানো দরকার। 
তিন নম্বর বাসটা দেখেই মনে পড়ল দাদার বাসায় যাওয়া যায়। এইতো চট্টেশ্বরী নামলেই একটু পথ ওয়াশা। বাঘঘোনায় দাদার বাসা। বৌদি বাসায় থাকলে একটু দুষ্টামিও করা যাবে। সাংঘাতিক ক্রেজি মহিলা। প্রথমে একটু বাধ সাধবে। একবার দুহাতের গেরোয় নিয়ে আসতে পারলে নিজে থেকে বাড়িয়ে দেবে সব কিছু। সেই তোমাকে হাত ধরে টেনে নিয়ে যাবে বাকিটা পথ। ভারী দুটো বুক আছে। ঝাঁপিয়ে পড়লে মনে হয় বালিশ চাপায় শ্বাস বন্ধ হয়ে মারা যাব। মজা করার জন্য এখনই পারফেক্ট টাইম। কিন্তু আজ ও কী মুডে আছে কে জানে। দাদা কি বাসায় এসেছে ওকে নিয়ে হাসপাতালে আসার জন্য, না সরাসরি অফিস থেকে চলে আসবে এখানে। 
বাঘঘোনায় যাওয়ার চেয়েও একটা গুরুত্বপূর্ণ কাজ আছে। একটু শিক্ষা অপিসে যাওয়া দরকার। নাসিরাবাদ। গ্রামের স্কুলটায় নাইন টেন খোলার চেষ্টা চলছে। ডিইও’র একটা রিপোর্ট দরকার। কমল বাবুর সাথে গত মাসে এসে দেখা করেছিলাম। ডিইও ম্যাডাম নাকি খুব কড়া মেজাজের। তাকে এড়িয়ে যাওয়াই ভালো। নিচ থেকে কাজ করিয়ে নিলে ঝামেলা হয় না। এই তো সেবার রহিমার ট্রান্সফারটা হয় না, নূরুল ভাইয়ের এপিএসকে দিয়ে ফোন করালাম, উঁহু কিছু হয় না। শেষে ডিপিইও অফিসের মেহতাব সাহেবকে ধরলাম। উনি বললেন কিছু খরচপাতি লাগবে। মাস তিনেকের মাথায় কাজটা হয়ে গেলো। রহিমা তো এখন মোহরা স্কুেল। আসলে কাজের একটা সিস্টেম আছে। দীর্ঘদিন ধরে ছোটাছুটি করছি; তাই বুঝি। হেডস্যার তাই ঘুরে ফিরে আমার কাছেই আসে। 
এসব আমার মাকে বলতে যাবেন না। সেকেলে মহিলা। চিন্তাধারায় একটু পিছিয়ে। নগদে কিছু না পেলেই ছ্যাঁৎ ছ্যাঁৎ করে ওঠে। 
ও পুত আঁরে আর কতো জ্বালাবি। আর টিঁয়া পয়সা ন দিছ, তোর বুঝ তুই করি ল। বয়স তো যার গই, বিয়াশাদী কর। সংসার কর। আঁই আর কয়দিন … 
এই শুরু হবে তার ঘ্যানঘ্যানানি। আমেরিকা নাকি কোথায় কোথায় গ্যাস বোমা মেরেছে। ইশ্, ওরা যদি জানত আমার মার ঘ্যানঘ্যানানি দিয়ে একটা বোম বানিয়ে ফেলত। তার একটানা ঘ্যানঘ্যানানি শুনে শত্রুপক্ষের লোকজন রণেভঙ্গ দিয়ে পালাত। 
আরে বাপু আমি কী বেগার খাটার লোক? এটা তো পলিটিক্সের একটা পার্ট। আমি তো ফেয়ার পলিটিক্স করি। এসব করে করেই তো আমার গ্রাউন্ড তৈরি করেত হবে। আরে বঙ্গবন্ধুর জীবনি পড়েননি। ঘরের বউয়ের থেকে টাকা নিয়ে পলিটিক্স করেছেন। এমন ত্যাগ স্বীকার তো আমার পক্ষে সম্ভব না, যতটুকু পারি করি। তার একটা রেজাল্ট নিশ্চয়ই পাবো। 
তাহলে এখন কি করা যায়। বাঘঘোনা যাবো, না নাসিরাবাদ। অবশ্য ডিইও অফিসে গিয়ে করবটা কি? কমল বাবু যদি জেনে থকেন আমি বেঁচে নেই, তাহলে তো আমাকে দেখে জায়গায় ফিট হয়ে যাবেন। কাজের কাজ কিচ্ছু হবে না। তার চেয়ে বরং দাদার বাসায় যাই। হট বেবিটা কি করছে একবার দেখে আসি। নাহ আজ বাসে চড়ব না। একটা রিক্সা নেই। 
বড়–য়া বাবুর বাসার তিন তলা পর্যন্ত উঠে এলাম বিনা বাধায়। গেটটা খোলা ছিল কিনা মনে পড়ছে না। কয়েকবার ডোরবেলের বোতাম টিপালাম। কোন সাড়াশব্দ নেই। হয়ত বেলটা নষ্ট। বা কারেন্ট নেই। দরজায় বাড়ি দিতেই হাতটা ঢুকে গেলো দরজা ভেদ করে। কী সর্বনাশ, আমি তো হরর ফিল্মের ভূত হয়ে গেছি। আরে গাধা, মরার পর তো মানুষ ভূতই হয়। এতে এতো চিন্তার কী? 
ড্রইংরুম ফেলে কিচেনে যেতেই দেখি পেটিকোট আর ব্লাউজ পড়ে বৌদি একমনে রাধছে। বাসায় কেউ নেই, কার জন্যই বা এতো রাখঢাক করবে। ইচ্ছে হচ্ছে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরি। আচ্ছা ও কি আমার মৃত্যু সংবাদ পায়নি? তখনই কর্কশ সুরে বৌদির নকিয়া সেটাটা বেজে উঠল। ও মুখ ফেরাতেই ভয়ে আমি লাফিয়ে ওঠি। একটু হলেই চিৎকার দিয়ে দিতাম, ধরা পড়ে যেতাম। এতো বৌদি নয়। বাসার ভেতরে একটা ভূত রান্নাবান্না করছে। মুখটা তার সাদা প্লাস্টারে ঢাকা। নতুন ভূত হয়েছি বলেই হয়ত ভূত দেখে ভয় পেয়েছি। আশা করি দিন কয়েকে ধাতস্থ হয়ে যাব। সাদা প্লাস্টারের ভূতটাই দৌড়ে গিয়ে ফোন ধরল। 
ভূতটা ফোনে কিছু ভাঙা ভাঙা শব্দ করল। আহারে… ও … আচ্ছা আমি রেডি হচ্ছি … 
চুলোর আগুন কমিয়ে বাথরুমে গিয়ে মুখ পরিষ্কার করল বৌদি। তারপর ঝটপট শরীর থেকে সব কাপড় ফেলে দিয়ে গা গোছল করে নিল। বাথরুমের দরজা খোলা, তাই আমি সব দেখছি। 
¯œানের পর খুব ধীরে ধীরে সাজতে শুরু করল। একটু পরেই দাদা এলো। তখনও শাড়ি পরা হয়নি তার। দরজার ফাঁক দিয়ে দাদাকে দেখে খুব সাবধানে দরজা খুলে দিল। 
দাদা এসেই তাড়া দিতে লাগলো। 
বিয়ে বাড়িতে যাচ্ছো না তো, মড়া দেখতে যাচ্ছো। 
ওই একই কথা… কত লোক আসবে। 
আমাদের বাড়িঘর নাকি সব পুড়িয়ে দিয়েছে। 
ভালোই হয়েছে। ওই বাড়ি থেকে তো এক পয়সার আয় আসে না- 
কিন্তু এখন তো মা বাবা এসে উঠবে আমার ঘাড়ে। 
তোমার ঘাড়ে উঠবে কেন, বড়দি আছে না- 
আরে ছেলে থাকতে মে’র ঘরে কেউ যায়? 
রাখ ত, বড়ো বড়োই … 
এদের কথাবার্তা শুনতে একটুকুও ভালো লাগছে না। শুধু শুধু এখানে এলাম। কি জানি আমার মা কি করছে। যাই না একটু আমার গ্রামে। 
মা কাঁদতে কাঁদতে আধমরা হয়ে গেছে। পূব পাড়ার ছেলেরা ধরে কোনপ্রকারে অটোরিক্সায় তুলেছে তাকে। বাবা ফোঁচ ফোঁচ করে কাঁদছে। আরো দুটো অটোরিক্সা নেয়া হয়েছে। তিনটা গাড়ি লাইন বেধে এগুচ্ছিল। কিন্তু আটকে গেলো একটু পরে। এই তিন গাড়িতে পরিমল ছাড়া আমাদের পাড়ার আর কেউ নেই। সবাই যার যার পুড়ে যাওয়া বাস্তুভিটা নিয়ে ব্যস্ত। পূব পাড়ার মুসলিম ছেলেগুলোই এগিয়ে এসেছে। এদের দুয়েকজন বাদে কেউ আমার পার্টিরও নয়। দেখতে ভালোই লাগছে। এই তো আমার দেশের আসল চেহারা। এরা গিয়ে রোড ব্লকারদের বোঝাচ্ছে। 
আমার মার সবকিছুতেই বাড়াবাড়ি। তিনি ধ্বস্তাধ্বস্তি করে গাড়ি থেকে নেমে পড়ে এক মোল্লার পা জড়িয়ে ধরলেন। 
ও বাপ আজিয়ার লাই আঁরার পথ ছাড়ি দ… আর পুত ইবা হাসপাতালত… না বাঁচিব ফনলার… আঁরা থাইকতান্ন তোঁরা দেশত যাইমু গই … ও পুত আজিয়ার লাই … 
মার ঢং দেখে গা’টা জ্বলছে। এই দেশটা কবে রাজাকার আলবদরদের হলো? ওদের করুণায় কেন বাঁচতে হবে? তার চেয়ে এনড্রিন খেয়ে মরে গেলেই তো হয়। শালার হাশেইম্যারে যদি হাতের কাছে পেতাম… মাথায় রক্ত চড়ে যায় … 
তখনই সেই সন্ধ্যা এসে খাটিয়া টাঙিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ে আমার চোখের সামনে। টিভিতে রাজাকারের পোনাগুলোর লাফালাফি দেখছিলাম। সবাই ভয়ে গর্তবাসী। আমি মনে মনে হাসি। এই ঝড় তো একদিন না একদিন থামবে, কিন্তু ফাঁসির রায় তো থামবে না। তখন কি করবি ছাগলের দল। 
এই সময় দূর থেকে একটা মিছিলের আওয়াজ শোনা গেলো। মা’র বরাবরের মতো ওভার একটিং। 
ও ফুত তুই পালা… রায়েট লাগি গিয়ে গই… আঁরা বাড়িঘর বেগ ফুরাই দিব … 
আমি প্রথমে একটু ভয়ই পেয়ে যায়। তারপর ভাবি কে কি করবে। বেশি হলে তো হাশেম। সে আমার সামনে দাঁড়ানোর সাহস করবে? 
মিছিল শ্লোগান দিতে দিতে আমাদের বাড়ির সামনে দিয়ে চলে গেলো। মা ও বাবা পালাতে চেয়েছিল। কিন্তু আমি অনড় থাকায় আর নড়তে পারল না। পরে মাকে একটা ধমকই দিলাম। সবকিছুতে তোমার বাড়াবাড়ি। 
একটু পরে শুনি মিছিলটা ফিরে আসছে। আসছে তো ভালো কথা, আসুক। 
আমাদের বাড়ির সামনে এসে মিছিলটা থামলো। শ্লোগান যেন আরো চড়া হলো। সঙ্গে খিস্তি খেউড়। ঢিলের বৃষ্টি। আমি একটা হাফ শার্ট পরে বেরুলাম। 
আমাকে দেখেই সবাই উত্তেজিত হয়ে উঠল। কে যেন বলল, ওই মালাউনোর পুত ভাগ। তোরার বাড়িঘর বেগ পুড়াই দিয়ুম … 
কিল্লাই। 
তোরে কয়ন পড়িব না। 
আর বাড়ি পুড়াবি, আরে ন কবি। 
ওদের হাতে হকিস্টিক, রাম দা আর চাপাতি। একটু ভয় ভয় করছিল। কিন্তু ভরসা হাশেম। বন্ধু মানুষ। ও চুপচাপ ছিল একটা রাম দা হাতে। এখন দেখি সেও নড়েচড়ে উঠেছে। 
ওই চুৎমারানির মালাউন, কথা ন কইছ, ভাগ … 
হাশেমের ধমকটা আমার গায়ে লাগল। গত মাসে তার মাকে দুই ব্যাগ রক্ত দিয়ে বাঁচিয়ে এনেছি, সে কিনা … 
ওই হালার পুত … বহুত বড়ো মুসলমান অইছ না … তোর মারে বাচাইবার লাই মালাউনোর রক্ত লাগে কিললাই … 
কথাটা বলতে দেরি হলো, ওর রাম দা’টা আকাশে উঠতে দেরি হলো না। চাঁদ চুয়ানো সামান্য যা কিছু আলো ছিল মুহূর্তে তা মিলিয়ে গেলো। একটার পর একটা কোপ পড়তে লাগলো। রক্তের ঋণ রক্তেই হলো পরিশোধ। 

13 thoughts on “জয়দীপ দে’র গল্প : রক্তশোধ

  • April 2, 2020 at 1:13 pm
    Permalink

    ভাইরে, পড়লাম। গল্প ঠিকঠাক। শেষ মুহূর্তের ওস্তাদি মাইর ভাল্লাগছে।

    Reply
    • April 2, 2020 at 2:41 pm
      Permalink

      ধন্যবাদ

      Reply
  • April 2, 2020 at 2:30 pm
    Permalink

    স্বার্থক লেখ….
    স্পষ্ট মূলভাব…
    অসাধা।।

    Reply
    • April 2, 2020 at 2:41 pm
      Permalink

      ধন্যবাদ

      Reply
  • April 3, 2020 at 4:27 am
    Permalink

    ভালো লাগলো দাদা, সোজাসাপটা

    Reply
    • April 3, 2020 at 4:37 am
      Permalink

      ধন্যবাদ আপা

      Reply
  • April 3, 2020 at 5:21 am
    Permalink

    ভালো লাগল। রক্তের ঋণ রক্তেই পরিশোধ হল। চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষাটা আরো বাস্তবলগ্ন করা যেত। ধন্যবাদ।

    Reply
  • April 3, 2020 at 5:22 am
    Permalink

    যদ্দূর পারি আরকি। ধন্যবাদ পড়ার জন্য।

    Reply
  • April 26, 2020 at 3:15 pm
    Permalink

    অনেক শুভ কামনা.. ভাল হয়েছে

    Reply
  • April 27, 2020 at 10:10 am
    Permalink

    আপনার উপন্যাসের সঙ্গে পরিচয় ছিল….. ছোটগল্পেও তো দেখি আপনি সিদ্ধহস্ত!

    Reply
  • April 27, 2020 at 10:12 am
    Permalink

    আপনার উপন্যাসের সঙ্গে পরিচয় ছিল…. ছোটগল্পেও দেখি আপনি সিদ্ধহস্ত— বাহার লেনিন

    Reply
  • June 13, 2020 at 2:15 pm
    Permalink

    বাহ বেশ লাগলো।

    Reply
  • June 13, 2020 at 2:18 pm
    Permalink

    ভালো লাগলো

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *