সাদিক হোসেনের গল্পঃ বুদ্ধপূর্ণিমা

রাত্রি গম্ভীর হল। রাত্রি দীর্ঘ ও মোটা হল। কত্তা গো, এই রাত্রির ভেতর যে মনুষ্যদল নিজ গাঁয়ে ফিরিছে, তাদের পায়ের তলায় বিবাদমান খোয়ার মতো এই রাত্রি উঁচুনিচু হল।

সহসা পা মচকে কাত হল লছিমনের বউ। তার ঘোমটা, ছিন্ন কাপড়মাত্র, কোনো আড়াল দিল না। ললাট ঠুকে গেল ইস্পাতে। তবু ‘ঠুং’ শব্দ হল না।
দলপতি শিবু বেখেয়ালি। খানিক পেছন ফিরে দেখে পিছিয়ে পড়া সহযাত্রীটিকে। তারপর পুনরায় এগোতে থাকে। জন্মভিটে, এইখানে, সুদূরের বস্তু। রাজ্য পেরিয়ে, জেলা পেরিয়ে, টাউনের উন্নাসিকতায় এতটুকু বিচলিত না হলে, তবে সেইখানে পৌঁছুতে পারা যাবে। আহা পুষ্করিণী! ছলছল বাতাসের আদিখ্যেতা, হেই দ্যাখো, ঐখানে চলিছে মানুষের দল – যেমন স্থূল, তেমনি বেঁটে – ধীর গতির একী লীলা! হেই দ্যাখো, শিবু চেঁচিয়ে ওঠে, লছিমন বউকে কোনোমতে তুলতে পেরেছিল, এখন গুরুর আদেশে লাইনে এলো।
লাইন মানে ইস্পাতের পাত। কবেকার পতিত জমিতে ফেলা হয়েছিল। সেইথেকে সরলরেখায় বিস্তৃত। পাশাপাশি কিছুদূর গিয়ে আবার ভাগ হয়ে যায় ভিন্ন প্রান্তে। তার আগে কাঁটাঝোপে ঝিঁঝিঁর ডাক শোনা গেল। ছোটো দল, তবু তো মানুষ, তাই শৃগালেরা কাছেদূরে ঘেঁষেনি। কিংবা ছিল, হয়ত বা, তা না হলে অমন হুক্কাহুয়ার আওয়াজ এলো কোথা থেকে?
আওয়াজে চারিপাশ বিস্মিত হল। এতক্ষণে দলটি চমকিত, লক্ষ করল, অন্ধকার ততটাও আঁধার নয়। কী বা নক্ষত্র, কী বা তারা – আকাশে ফুটিছে যত চকমকি; অর্ধ নিমীলিত – বুদ্ধপূর্ণিমার আলোয় ইতর হয়েছে। ফলত আলো রূপালী – আভায় উদ্ভাসিত হল কালো গা, মাথার গামছাটা দৃশ্যমান হল, পিঠের পুটলিতে যে-কটি শুকনো রুটি ছিল তা এতক্ষণে ঘেয়ো হল, চামড়া হল। গলা শুকিয়ে কাঠ!
রাত্রি তখনো দীর্ঘ।
আকাশে পাখি উড়ল না।
এইটুকু বাকি! এতটুকু! এমনি বোঝানো হয়েছিল ছোটোদের। যাতে ‘এইটুকু’ ‘এইটুকু’ করে অনেক দূরে নিয়ে যাওয়া যেতে পারে। কিংবা হাঁটতে না পারলে ধমকানি দেওয়ার অধিকার পায় বড়োরা। ওদিকে লছিমনের বউ আবার বসে পড়েছে রেলের পাটিতে। তার গোড়ালি ফুলে ঢোল। শিবু বিরক্ত। জানে এখানে তাগাদা দিয়ে লাভ নেই। সে পুটলি থেকে বিস্কুট বার করে ছোটোটাকে দেয়।
ছোটোরা কুরে কুরে বিস্কুট খাবে। গোলাকৃতি, অর্ধগোলাকৃতি, কেউ আবার চৌকো…কতসব আকৃতি বানালো। নৌকো, পেয়ালা, আম। যেন অপটু সভ্যতার ফলক। তাই পাঠোদ্ধার সম্ভব নয়।
ঝোপ থেকে মুখ বাড়াল নেড়ি।
তার মানে অদূরে জনপদ? লছিমনের প্রশ্নে শিবু দেখে জোনাকি। ঐ দূরে আলোর বিন্দু। ঐখানে মানুষেরা আছে। সংসার আছে। আহা, যখন্তখন খাটিয়ায় শুয়ে যখনতখন জল খাওয়া যায়, ঐখানে!
নেড়িটা ভিড়ে গেল। ছোটোদের সঙ্গী হবে সে। তবে জানে না কোথায় চলেছে এই দল। জানলে সঙ্গ দিত না।
হেই দ্যাখো! শিবু আবার চেঁচাল। সে কোথা থেকে একখানা গাছের ডাল ভেঙেছে। ডালটা দলপতির নিশানা।
ভূদেব আর সীতারাম দলপতির পিছু নিল। লছিমনের বউ যাবে কীভাবে? সে গোড়ালির উপর কাপড় বেঁধেছে। তবু যন্ত্রণায় টনটন। পা-খানি একা টানার সাধ্য তার নেই। ছোটো দুটো ভাইবোন। পুটু আর লুটু। আর একখানা আছে চিকু। তারা কেউ কোলে উঠেছে। কেউ ঘাড়ে। গোবিন্দের বয়স ১০। সে টলমল। যেন নাচতে নাচতে ঘরে পৌঁছবে।
রাত্রি খানিক তরল হল কি?
নেড়িটা ল্যাজ নাড়ে মাঝে মাঝে। আর ওদিকে, কত্তা গো, চাঁদটা কেমন সাদা! যেন গোলাকার ঠাকুর। তবু বকেয়া টাকার মত দূরের।
সীতারামের মালিক ছিল ভালো। থাকবার জায়গা দিছিল।
-তাহলে এলি কেন?
দলপতির প্রশ্নে সে জানাল, ঘরে যাব না?
-সে-তো যাবিই। কদিন পরে যেতিস। গাড়ি-বাস চলতে শুরু করলে যেতিস।
– হুঁ, ততদিনে ওদিকে সব শুকিয়ে মরত।
ইস্পাতে ঝলকানি খেলে গেল। সীতারাম যে শুকিয়ে মরছে না – এই তথ্য লাট হল তবে। তার কাঁধে একখানা বড় ব্যাগ রয়েছে। সেটায় জামাকাপড় আর সরঞ্জাম আছে নিশ্চয়। এছাড়া আর একখানা ছোটো-মতো ব্যাগ ঝুলছে গলা থেকে। সেটায়, তবে কি, অর্থকড়ি?
সীতারাম অতি সাবধানী এখন। চোরা চাউনিতে দেখে নিল সহযাত্রীদের। 
গোবিন্দ হাতে খোয়া নিয়েছে। টিপ করে ছুঁড়ছে লোহার পোস্টগুলিতে। বেশিরভাগ নিশানা চ্যুত হল। মাঝখানে, একবার, সে সফল। তখন অন্ধকার কাঁপিয়ে ঢঙ করে বাজনা বাজল।
-আরে, চুপ, চুপ।
যেন টর্চের আলো পড়ল মুখে। তবে কি পুলিশ! কখন পিছু নিয়েছে?
শিবুর ইশারায় সকলে থমকে দাঁড়াল। কেউ বলল, ঢালু জমিতে নেমে গেলেই হয়।
লছিমন আর অপেক্ষা করেনি। নিজেই নামতে গেছিল। পা পিছলে গড়িয়ে পড়ে গেল নিচে।
একটু গোঙানির শব্দ। আর কিছু নয়। টর্চের আলোটা তবে আলেয়া ছিল!
ওদিকে লছিমন ডাকছে। পড়লেও তার বিশেষ লাগেনি। বরঞ্চ রেললাইনের পাশেই যে শান্ত ঝিল রয়েছে তা আবিষ্কার করে সে বেহাদ খুশি। দলপতিকে নকল করে বলল, হেই দেখো!
হায়, কত কালো জল। শান্ত ও শীতল। যেন নিজ গাঁ। পাশেই কি ক্ষেত রয়েছে? শনশনে হাওয়ায় কী এত কাঁপে? এখানে দু-দণ্ড বসে থাকলে হয় না! যেন দূরে, আবছা দেখা গেল, ঘর। রূপাইয়ের ঘর। ঐ ঘরে
নিমগাছের ছাওয়া খেলে। বাসনকোসনের মন কষাকষি চলে। যেন একখণ্ড গ্রাম, তাও অন্যের, তবু পাতলা চাদরটানা ঘুম ঘুরে ঘুরে ফেরে। অতি মন্থর গতি। হস্তিনী স্বরূপ। পদচালনায় চপলতা নেই।
বোতলগুলো ভর্তি করা হল। পুটু আর লুটুর মুখে ঝাপটা দেওয়া হল। তারা ঘুমিয়ে পড়েছিল। জেগে উঠল এই তরল প্রান্তরে।
সীতারাম এখন বিচ্ছিন্ন। তালাবন্দীতে ঘর পেয়েছিল, তাই খানিক উঁচু জাতের, যেন বা। ফিসফিসিয়ে শিবুকে বলল, শুধু থাকবার জায়গাটা কেড়ে নেয়নি। এই যা।
শিবু আড়চোখে তার ছোটো ব্যাগটার দিকে তাকালে সে খানিক আড়ষ্ট হল। বলল, পাওনা পুরো দেয়নি গো। পুরোটা দিয়ে দিলে আর যদি না ফিরি, তাই দেয়নি।
শিবু উত্তর করল না। সে নিজ কাঁধে দলের দায়িত্ব নি্যেছে। এই তীর্থযাত্রার সে কান্ডারি।
সিগন্যালে লাল আলো। লাল আলো কাঁপে। লাল আলো চক্কর দেয়। ঘোরে। মাথার উপর পাখি নেই। সারস নেই। মাথার ভেতর লাল আলো ঘুরপাক খায়। লাল আলো সাপ হল, যখনতখন।
কত্তা গো, জলটুকু উগরে দিল পুটু। জলের সঙ্গে অপাচ্য উঠে এল। পেটে কিছু নেই। শুধু তেঁতো থুতু ওঠে।
খালি পেটে জল খেলে এমনি হয় – শিবুর উত্তর। বাপ তার তবু হাঁটা থামায়নি। মা বাচ্চাটির ঘাড়ে জল ঢালছিল পেছন থেকে।
গোবিন্দ খুঁজছিল নেড়িটাকে। সে কখন বেপাত্তা হয়েছে কেউ খেয়াল করেনি। খেয়ালে এলো পেটফোলা একখানা বাছুর। রেলে কাটা পড়েছিল? ভনভনে মাছি বাসি মাংসে আয়েস জমিয়েছে।
লছিমন বলল, সেইবার হল কী জানো? তখন ত্রিপল খাটিয়ে সাইটের মধ্যেই থাকতুম। একদিন রাতেরবেলা সেকী হুল্লোড়। কেন? বেড়িয়ে দেখি শামু এসেছে। হাতে থলি। তাতে দুই কেজি মাংস।
-মাংস?
-তা আর বলি কী। দুই মেয়ের পর শামুর ছেলে হয়েছে। সেই খুশিতে অত রাতে মাংস নিয়ে হাজির। কিন্তু রাঁধবে কে? সে এক ঝম্প।
মরা পশু দেখে মাংস খাবার লোভ জন্মেছে লছিমনের? তার বউ খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে আসছিল। বরের এ হেন আনাচার সহ্য করতে পারল না। মুখ ঝামটা দিয়ে বলল, থামো, থামো। কী যে বলে মানুষটা।
মানুষটার গোঁসা হয়েছে তখন। তবে অন্যদের ভাবখানা দেখে আর উত্তর দিতে সাহস পেল না।
ভূদেব বলল, শুনলুম গাঁয়ে নাকি গণ্ডগোল। রেশন নিয়ে মারামারি বাঁধছে রোজ। গিয়ে কী দেখব কে জানে!
-খেতে পাবি ঠিক। সীতারাম বলে বসল, তাও নিজের ঘরে তো যাওয়া যাবে। নিজের গাঁয়ে না খেয়ে মরব না।
-তুমি ওসব বলতে পারো। তোমার ব্যবস্থা হয়েছে। ভূদেব ঠেস মারল সীতারামকে।
লছিমন কিছুতেই চুপ থাকতে পারল না, সীতুর তো পাকা বাড়ি।
বাড়ির পাশে পুকুর। ওটাও ওর। জাল ফেললেই মাছ উঠবে।
গোবিন্দ ফুট কাটল, কী মাছ গো কাকা!
-হাঙর, তিমি…সব আছে।
-তা একখানা তিমিতে তো গোটা গ্রাম খেতে পারবে!
-এই চুপ। সীতারাম গোবিন্দকে বকা দিল। শিবুকে অনুযোগ করে বলল, এই দেখো তোমার লোকজন কীরম মস্করা করছে। আমি কী এমন ভুল বলেছি।
শিবু সবথেকে আগে হাঁটছিল। সে হাতের ইশারায় কী যে দেখাল বোঝা গেল না। তবে সীতারাম পুনরায় ছোটো ব্যাগটায় মনযোগী হল।
সিগন্যালের আলো লাল। লাল আলো উপরনিচ ঘুরপাক খেল। মাথার ভেতর চক্কর দিল। পুটু বমি করল আবার। এবার নিস্তেজ। জলের ঝাপটাতেও চোখ খুলল না।
-পুটু? এই পুটু।
পুটু শিথিল। ক্ষীণ কান্নার শব্দ বাজলো।
– দেখি, দেখি। তাকে কোলে নিয়ে বুকে কান রাখা হল। এইতো। এইতো।
হ্যাঁ, পাওয়া গেছে তার বুকের নড়ন। থেমে থেমে চলেছে, তবু চলেছে, এই বা কম কী!
-রেহাই দাও বাবু।
কে, কে বলল এই কথা।
অন্য কেউ নয়। সে পুটুর মা!
রাত্রি গম্ভীর হল।
রাত্রি উঁচুনিচু হল।
গাছের ডাল-টা পাশে রেখে বসে পড়ল শিবু। তার মাথার ভেতর মাছেরা ঘাই মারল। ছলকে উঠল জল। যেন কালো দিঘিটার পাশে বসে রয়েছে। যেন রূপাইয়ের বাড়ি। দাওয়ায় একখানা বাল্ব জ্বলছে। সরষে রঙের। সে পুটলির গিঁট খুলল। তাতে গবাদির চামড়ার মতো রুটি। শুকনো। চিবলে মাড়িতে আঠার মত জাপ্টে যাচ্ছে। তাই জল দিয়ে বার বার গাল ধুয়ে নিচ্ছিল।
কে হেঁচকি তুলল। তার মুখ দেখা গেল না। খানিক মেঘ, বরফির মত, চাঁদের নিচ দিয়ে চলে গেল। পূর্ণিমা কত জাগ্রত এখন। কাহিল শরীরে, কত্তা গো, বেজার আলো পড়িছে। পা আর চলে না। চলে না এতটুকু। চোখ জুড়িয়ে আসে। এই সরল রেলওয়ে যেন মৃতবৎসা – এর শেষ নেই।
লুটু টলে পড়েছে। আর পারি না যে। তার দিকে কেউ ফিরেও তাকায় না।
তাকানো উহ্য রইল। উচ্চারণ বেবাক হল। পুরো দলটাই আচ্ছন্ন হল। যেন মাথার নিচে শস্য রাখা আছে। আহা, সেকী ভাণ্ডার। অফুরন্ত সবুজ। বলয় শ্যামল হয়েছে এমন।
আর কত!
লছিমনের বউ ইস্পাতে মাথা রাখল।
আর কত? শিবু উত্তর জানে না। তার হাত যেন প্রসারিত হল। পায়ের পাতা ফেটে ছিল কখন। তাও প্রসারিত হল। ইস, কত্তা গো, সে দেখল দরজা। গৃহস্থের যাপন। এইসবে কুয়ো থেকে জল তুলিছে রূপাই। তার মুখটাও দেখা গেল।
শিবু, সে দলপতি, গোপনে ছবিওলা হল।
সীতু! সীতু!
উত্তর নেই।
লছিমন। এই লছিমন।
চুপ।
গোবিন্দ?
কী কাকা?
সামনে কী দেখা পাস?
সিগন্যাল!
তারপর?
সিগন্যাল।
আলো দেখিস?
জ্বী কাকা।
কী আলো?
লাল!
শিবু হাসে। ঐটাকেই নিশানা করে এগোতে হবে। পারবি?
কতদূর?
সে-অনেক দূর। পারবি?
গোবিন্দ আর উত্তর দিল না।
শিবু বলল, সরষের ক্ষেত দেখেছিস? গমের? ভুট্টার? আঁখের?
কাকা!
বল।
সিগন্যালটা সারারাত জ্বলবে?
হুঁ, জ্বলবেই।
আবার কান্নার শব্দ এল। এবারও পুটুর মা।
লছিমন! এই লছিমন!
কেউ উত্তর দিল না।
রাত্রি গম্ভীর হল। রাত্রি দীর্ঘ ও মোটা হল। কত্তা গো, এই রাত্রি চাদরের মত নেমে এল সরকারি জমিতে। আর মানুষ কেমন পাগল দেখো, তারা চাউলের স্বপ্ন দেখল। মাথার নিচে ইস্পাত, তবু মনে হল – গমের
দানা। পরিপূর্ণ। যত্নসহকারে বিছিয়েছে। বুঝি মাদুর। কেউ আবার জলকেলির স্বপ্ন দেখল। পুষ্করিণী। তাতে হাঁস ঘুরিছে। চইচই আওয়াজ পেল। ঘাটে রাখা কলসিতে ঢিল পড়ল। চুড়ি ভাঙল লায়েক মানুষ। তাতে কালো হল ঘর।
ঘরে ফিরিছে পুটু। চিকু চেনা দাওয়ায় দৌড় দিয়েছে। এই পা পরিব্রাজকের – শিবুর পা ধুইয়ে দিচ্ছে গাঁয়ের মানুষ। ভুল করলে তোদের বাঘে খাবে – এমনি চটুলতা করল বয়স্ক।
কত্তা গো, সিগন্যালের ওপারে ঘর। লাল বাতির ওপারে ঘর। ঐ লালবাতি নড়ছে। দুলছে। মাথার মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে। সাপ হয়ে যাচ্ছে যখনতখন।
জিভ টাকরায় আটকে গেল।
ভূদেব! ভূদেব!
মাথা রাখতে রাখতে এই হল শিবুর শেষ প্রচেষ্টা।
লুটু!
লছিমন।
গোবিন্দ! এই গোবিন্দ।
উত্তর এল না। শিবু মাথা রেখে দিল। চাউল, গম, ভুট্টার ক্ষেতে…
হাওয়া বইছিল। মাটি কাঁপছিল। রাত্রি নাচছিল।
হাওয়া বইছিল। রাত্রি কাঁপছিল। আলো নাচছিল।
পূর্ণিমা নেমে আসছিল প্রকট শব্দে। হুইসেল বাজছিল। ব্যাকরণ ভেঙে যাচ্ছিল। যুক্তাক্ষরগুলি পুটলির মত দলা পাকিয়ে পড়ে যাচ্ছিল। গোল ঠাকুর যেন, আসলে রুটি, পড়ে রইল। সীতারামের ব্যাগ থেকে পাওয়া গেছিল দুই হাজার চারশ তিরিশ রুপাইয়া!
গোবিন্দ!
পুটু!
লছিমন!
এই, গোবিন্দ!
বুদ্ধ এত প্রকট হল, এত বীভৎস হল, এত বৌদ্ধিক হল – কত্তা গো, কাব্যের অলঙ্কারে তাকে ধরা গেল না!
লেখক পরিচিতিঃ
সাদিক হোসেন
কথাসাহিত্যিক ও গল্পকার
দক্ষিণ ২৪ পরগণায় থাকেন।

One thought on “সাদিক হোসেনের গল্পঃ বুদ্ধপূর্ণিমা

  • May 19, 2021 at 2:08 am
    Permalink

    চমৎকার।
    গল্পের ভাষা এক লহমায় পাঠকে শেষ অব্দি টেনে নিয়েছে।
    অনেকদিন পর একটা ভালো গল্প পড়লুম।

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *