লিডিয়া ডেভিসের গল্প: আমার স্বভাবের কয়েকটি অপছন্দের দিক

সমকালীন আমেরিকান গল্প
ভাষান্তর: উৎপল দাশগুপ্ত
বলল আমার স্বভাবের কয়েকটা দিক প্রথম থেকেই পছন্দ নয় ওর। খারাপ করে বলেনি অবশ্য। মানুষটা খারাপ নয়, অন্তত ইচ্ছাকৃতভাবে খারাপ ব্যবহার করার মানুষ ও নয়। হঠাৎ আমার সম্বন্ধে ওর মতবদলের কারণ জানবার জন্য আমি জোরাজুরি করছিলাম বলেই হয়ত কথাটা বলতে ও বাধ্য হয়েছিল।
 
ওর বন্ধুরা এই ব্যাপারটা কি চোখে দেখে সেটা আমি ওদের জিগ্যেস করতেই পারি। হাজার হলেও আমার থেকে ওরাই ওকে অনেক ভাল চেনে। পনেরো বছর ধরে ওকে ওরা দেখছে, আমার তো সবে মাস দশেক হল। ওদেরকে আমি পছন্দ করি, ওরাও আমাকে বেশ পছন্দ করে বলেই মনে হয়। যদিও ওদের কাউকেই তেমন করে চিনি না। আমি যা করতে চাইছি তা হল, ওদের একজন কি দুজনের সাথে খাবার বা পানীয়’র আসরে বসে ওকে নিয়ে আলোচনা করা, যাতে ওর সম্পর্কে একটা পরিস্কার ধারণা করে নিতে পারি।
 
কারুর সম্পর্কে ভুল সিদ্ধান্তে আসাটা খুবই সহজ। এখন তো আমার মনে হচ্ছে, এই গত কয়েক মাসে ওর সম্বন্ধে আমি বারবারই ভুল সিদ্ধান্তে এসে পৌঁছেছি। যেমন ধরুন, আমি যখন যখন ভেবেছি ও আমার সাথে এবার খারাপ ব্যবহার করবে, ও আমার সাথে অত্যন্ত ভাল ব্যবহার করেছে। ভেবেছি টেলিফোনে আমার গলা শুনে বিরক্ত হবে, কিন্তু খুশি
হয়েছে। ওর সাথে নিস্পৃহ ব্যবহার করার পর মনে হয়েছে ও আমার সাথে এবার সম্পর্ক ত্যাগ করবে। কিন্তু তখন ও আমার একটু সঙ্গ পাওয়ার জন্য অন্য সময়ের তুলনায় অনেকটাই বেশি অধীর হয়ে পড়েছে, এমন কি দুজনে যাতে অল্প কিছুটা সময় একসাথে থাকতে পারি তার জন্য হাজারটা ঝামেলা আর খরচের পরোয়া না করেই সেসবের বন্দোবস্ত করেছে। আর যখন আমি ওকে আমার পছন্দের মানুষ বলে মেনে নিলাম, তখনই কি না সম্পর্কটাকে ও ভেঙে দিল!
 
ব্যাপারটা একটু আকস্মিকই লেগেছিল, যদিও গত এক মাস ধরেই বুঝতে পারছিলাম, ও আমার থেকে ক্রমেই দূরে সরে যাচ্ছে। যেমন ধরুন, আগে ও আমাকে যত চিঠি লিখত, ইদানীং তাতে একটু ভাটা পড়েছিল। এবার যখন আমরা একসাথে ছিলাম, তখন ও আমার সাথে বেশ খারাপ ব্যবহার করেছে, যেটা আগে তেমন করে করেনি। তারপর যখন ও চলে গেল, বুঝতে পারলাম যে সম্পর্কটা নিয়ে নতুন কিছু ভাবনাচিন্তা করছে ও। তা সেই ভাবনাচিন্তা করতে করতেই এক মাস কাটিয়ে দিল। মনে হয়েছিল সম্পর্কটা ওর মেনে নেওয়ার আর না নেওয়ার পাল্লা সমান সমান ভারি।
 
ব্যাপারটা আমার কাছে আকস্মিক লেগেছিল কারণ ততদিনে ওকে আর আমাকে ঘিরে আমার কিছু স্বপ্ন গড়ে উঠেছিল – যেমন হয়ে থাকে সেই রকম সাধারণ কিছু স্বপ্ন – আমাদের একটা সুন্দর বাড়ি হবে, ফুটফুটে কয়েকটা বাচ্চা থাকবে আমাদের। সন্ধ্যেবেলা যখন বাচ্চারা ঘুমিয়ে থাকবে, আমরা দুজনে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ঘরের কাজ করব। আরও দু’একটা স্বপ্ন – যেমন একসাথে ঘুরতে যাব, ব্যাঞ্জো কিংবা ম্যান্ডোলিন বাজানো শিখব, ওর গানের তালে তালে বাজানোর জন্য। হ্যাঁ, ওর খুব সুরেলা আর ভরাট গলা। আর এখন ওর সঙ্গে ব্যাঞ্জো কিংবা ম্যান্ডোলিন বাজাবার কথাটা মনে পড়লেই কেমন বোকা বোকা লাগছে।
 
সম্পর্কের ইতি কী ভাবে হল বলি। আমাকে একদিন ফোন করল ও – এমন দিনে ও সাধারণত ফোন করে না – আর বলল, যে ও শেষমেশ একটা সিদ্ধান্তে এসে পৌঁছেছে। আর এই সিদ্ধান্তে পৌঁছোতে ওর এতটাই কষ্ট হয়েছে যে আমাকে কী বলতে চায় সেটা একটা কাগজে লিখে নিয়েছে। ও যদি সেই কাগজটা পড়ে শোনায়, তাহলে কি আমি কিছু মনে করব? বললাম, খুব মনে করব। ও বলল কথা বলার সময় ওকে মাঝে মাঝে কাগজটা দেখতে হবে।
 
তারপর ও কারণ ব্যাখ্যা করে বোঝাতে লাগল যে আমাদের দুজনের যৌথ জীবনে সুখী হবার সুযোগ কত কম। তাই বেশি দেরি হয়ে যাওয়ার আগেই আমাদের সম্পর্কটা বন্ধুত্বের সম্পর্কে বদলে নেওয়াটাই হয়ত সঠিক হবে। জবাবে আমি বললাম, ও হয়ত আমাকে গাড়ির পুরোনো টায়ারের মত মনে করে, যেটা রাস্তায় যে কোনও জায়গাতেই হঠাৎ ফেটে যেতে পারে। বলল, তুলনাটা ওর কাছে খুবই হাস্যকর মনে হয়েছে।
 
আমাকে ওর কখন কেমন লেগেছে, আর ওকে আমার কখন কেমন লেগেছে, সেই নিয়ে আমরা কিছুক্ষণ কথা বলত লাগলাম। বুঝতে পারলাম ওর আর আমার অনুভূতিগুলো পরস্পরের সঙ্গে খাপ খাচ্ছে না। তারপর আমি যখন জানতে চাইলাম শুরু থেকে আমাকে ওর কেমন লেগেছে – আসলে জানতে চাইছিলাম যে আমার সম্বন্ধে ওর সম্যক ধারণাটা ঠিক কী রকম। তখন ও সাদামাটাভাবে বলে ফেলল যে, শুরু থেকেই আমার স্বভাবের কয়েকটা দিক ওর পছন্দ হয়নি। আমাকে আঘাত দেবার জন্য কথাটা ও বলছে না, স্পষ্টতার খাতিরেই বলছে। বললাম, সেই অপছন্দের জিনিসগুলো ঠিক কোনগুলো, সেটা ওর কাছ থেকে জানতে চাইব না, তবে আমাকে এটা নিয়ে যে কিছু ভাবনাচিন্তা করতে হবে, সেটা ঠিক।
 
আমার চরিত্রের কোন কোন দিক ওর ভাল লাগেনি, এটা শুনতে আমার ভাল লাগত না। যে মানুষকে আমি ভালবেসেছিলাম সে আমার স্বভাবের কোন কোন দিক মেনে নিতে পারেনি, কথাটা শোনাই আমার পক্ষে বেদনাদায়ক। ওর চরিত্রের কয়েকটা দিকও আমার পছন্দের ছিল না, যেমন কথার মাঝখানে ঘনঘন বিদেশি শব্দের ব্যবহার। ব্যাপারটা আমার কাছে অস্বস্তিকর লাগলেও এই ভাবে ওকে কখনও বলিনি। সে যাই হোক, পক্ষপাতশূন্য হয়ে যদি ভাবি, আমার মধ্যে কিছু অপছন্দের দিক নিশ্চয়ই আছে। এখন দরকার হল সেগুলো খুঁজে বের করা।
 
আমাদের কথা হয়ে যাবার পর অনেকক্ষণ পর্যন্ত আমি এটা নিয়ে ভাবনাচিন্তা করতে লাগলাম। কয়েকটা সম্ভাবনার কথা আমার মাথায় এল। হয়ত আমি কথা খুব কম বলি। ও নিজে খুব কথা বলতে ভালবাসত, হয়ত চাইত সবাই ওর মত বেশি করে কথা বলুক। আমি সেভাবে বাকপটু নই, অন্তত ও যেভাবে চাইত সেভাবে তো অবশ্যই নই। মাঝে মাঝে আমার মাথায় ভাল ভাল আইডিয়া আসত, কিন্তু প্রয়োজনীয় যুক্তি দিয়ে সাজিয়ে দিতে পারতাম না। আমি একনাগাড়ে কথা বলে গেলে হয়ত ওর ক্লান্তিকর লাগত। হয়ত ওর কী কী খাওয়া উচিত সেই নিয়ে আমি বাড়াবাড়ি রকমের ভাষণ দিতাম। লোকজনের খাদ্যাভ্যাস নিয়ে আমার নিজস্ব কিছু ভাবনাচিন্তা ছিল, আর সেটা আমি সবাইকে শুনিয়ে ছাড়তাম – আমার প্রাক্তন স্বামীও স্বভাবটা খুব পছন্দ করত না। আমার প্রাক্তন স্বামীর প্রসঙ্গ মাঝে মাঝেই ওর কাছে তুলেছি। ও হয়ত ভেবে নিয়েছে যে আমার মন এখনও প্রাক্তন স্বামীতেই মজে আছে, যদিও সেটা মোটেও সত্যি নয়। রাস্তাঘাটে আমাকে চুমু খেতে পারত না বলেও ও হয়ত খুব রেগে যেত। ওর ভয় ছিল আমার চশমায় ওর চোখে খোঁচা লাগবে। এটাও হতে পারে চশমা পরা মেয়েদের ওর ভাল লাগে না অথবা সেই মেয়ের চোখের দিকে তাকাতে হলেও চশমার নীলচে কাঁচের ভেতর দিয়ে পৌঁছোতে হবে। অথবা যে সব মানুষ কথায় কথায় নির্ঘন্ট তৈরি করতে বসে যায়, তাদের ও পছন্দ করে না। খাদ্যতালিকার ছোট ছোট নির্ঘন্ট আবার সারসংক্ষেপ করার জন্য বড় বড় নির্ঘন্ট তৈরি করা। এগুলো তৈরি করতে আমারও যে খুব ভাল লাগে তা নয়, সব সময় করিও না। তবে নিয়মশৃঙ্খলা মেনে চলা জীবনযাপনের জন্য কখনো কখনো করতেই হয়। এরকম কিছু নির্ঘন্ট ওর নজরে পড়ে থাকতে পারে।
 
এছাড়া আর কী কী ব্যাপারে প্রথম থেকেই ওর অস্বস্তি হয়ে থাকতে পারে সেটা আর ভেবে পেলাম না। তখন আমি ধরেই নিলাম যে আমার স্বভাবের যে যে দিকগুলো ওর পছন্দের নয়, সেগুলো খুঁজে বের করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। আমি যে সব জিনিস নিয়ে মনে মনে ভাবব, সেগুলো ওর তালিকার সঙ্গে না মেলার সম্ভাবনাই বেশি। এছাড়া এগুলোকে খুঁজে বার করা পণ্ডশ্রম বই তো নয় – আর জানলেও সেসবের প্রতিকার আমার পক্ষে তো করা সম্ভব নয়।
 
কথাবার্তার একদম শেষে, এবার গ্রীষ্মের সময়ে ওর কি পরিকল্পনা, খুব উত্তেজনা সহকারে সেসব শোনাতে লাগল। আমার সঙ্গে সময় কাটানোর আর দরকার পড়বে না বলে ও ঠিক করে ফেলেছে, কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে ও ভেনেজ়ুয়েলা সফরে যাবে। বন্ধুরা নৃতাত্ত্বিক গবেষণার কাজে জঙ্গলে রয়েছে। বললাম যে, ওসব সাতকাহন আমি শুনতে চাই না।
 
ফোনে কথা বলতে বলতে আমার দেওয়া একটা বড় পার্টির পড়ে থাকা কিছু ওয়াইনে চুমুক দিচ্ছিলাম। ওর সঙ্গে কথা শেষ হয়ে যাবার পরেই, ফোনটা উঠিয়ে আমি বেশ কয়েকজনের সঙ্গে কথা বললাম। কথা বলতে বলতেই আমি একটা বোতলের শেষটুকু নিঃশেষ করে আরেকটা বোতলের অবশেষে চুমুক লাগাতে লাগলাম, যেটা আগের ওয়াইনের থেকেও বেশি মিষ্টি। সেটাও শেষ করে ফেললাম। প্রথমে এই শহরেরই কয়েকজনের সঙ্গে কথা বললাম। তারপর কথা বলতে বলতে অনেকটাই রাত হয়ে গেলে, ক্যালিফোর্নিয়ার কয়েকজনের সঙ্গে কথা বললাম। তারপর ক্যালিফোর্নিয়াতে ফোন করার পক্ষেও যথেষ্ট রাত যখন, আমি ইংল্যান্ডের একজনের সঙ্গেও কথা বললাম, যে সবেমাত্র বিছানা ছেড়ে উঠেছে, আর মেজাজও ঠিকঠাক নেই।
 
একেকবার কথা বলার শেষে, পরের ফোনটা করার আগে আমি মাঝেমাঝে জানলার কাছে গিয়ে চাঁদের দিকে তাকিয়ে আসছিলাম। পূর্ণিমার দেরি থাকলেও বেশ উজ্জ্বল। চাঁদের দিকে তাকিয়ে ওর কথাই মনে পড়ছিল, আর বিস্মিত হয়ে ভাবছিলাম কবে থেকে আর ওর কথা ভাবব না। চাঁদের দিকে তাকালেই ওর কথা মনে পড়ে যাবার একটা কারণ আছে। সেই পাঁচ দিন চার রাত্রি, ও আর আমি যখন প্রথমবার একসাথে ছিলাম, তখন চাঁদটা বড় হতে হতে শেষ পর্যন্ত পূর্ণিমায় গিয়ে পৌঁছল। রাতগুলো ছিল আলোকময়, আর আমরা গিয়েছিলাম গাঁয়ের দিকে, যেখানে আকাশ আরও বড় করে দেখা যায়। প্রতিদিন সন্ধ্যায়, কিংবা একটু রাতের দিকে দুজনে হাত ধরাধরি করে বেরিয়ে পড়তাম। আত্মীয়পরিজনদের কোলাহল এড়িয়ে একটু নিভৃত অবসর পাওয়ার লোভ, আর সঙ্গে ছিল জ্যোৎস্নাস্নাত ঘাস ভূমি আর অরণ্যের রোমাঞ্চকর হাতছানি। যে কাঁচা পথটা বাড়ির থেকে বেরিয়ে পাক খেয়ে গিয়ে অরণ্যে মিশেছে, পাথর ছড়ানো এবড়ো খেবড়ো ছিল সে পথ। হোঁচট খেতে খেতে একে অপরের গায়ে হুমড়ি খেয়ে পড়ে পরস্পরের হাত আরও নিবিড় করে জড়িয়ে ধরতাম। বলাবলি করতাম, এমন জ্যোৎস্না রাতে ঘাস ভূমিতে বিছানা পেতে শুয়ে পড়তে পারলে কী ভালই না হত!
 
পরের বার ষোল কলা পূর্ণ করে চাঁদ যখন আবার দেখা দিল, তত দিনে আমি শহরে ফিরে এসেছি। নতুন অ্যাপার্টমেন্টের জানলা থেকে চাঁদের দিকে তাকিয়ে থাকতাম। ভাবতাম দুজনে একসাথে কাটানোর পর একটা মাস কোথা দিয়ে যেন গড়িয়ে গেল। গড়িয়ে গেল একেবারে ঢিকিয়ে ঢিকিয়ে। এরপর প্রতিবার, চাঁদ যখন আকাশে পূর্ণ মহিমায় লম্বা গাছের ওপর দিয়ে, ডালপালার ভেতর দিয়ে, বাড়ির ছাদে বা পেছনের উঠোনকে আলোকিত করত, অথবা শীতকালে পাতা ঝরে যাওয়া গাছের ফাঁক দিয়ে এসে তুষার ঝরা মাটির ওপর পড়ে চিকচিক করত, তখন বুঝতাম আরও একটা মাস চলে 
গেল। মাস কখনও কেটে যেত চোখের নিমেষে, আবার কখনও শম্বুকগতিতে। এভাবেই মাসের হিসেব রেখে আমি আনন্দ পেতাম।
 
ও আর আমি বোধহয় সর্বদাই কেটে যাওয়া দিনগুলোর হিসেব রাখতে রাখতে সেই দিনটির প্রতীক্ষায় থাকতাম, যেদিন আবার আমরা একসাথে কাটাব। বলেছিল, এটাও একটা কারণ যার জন্য সম্পর্কটা এগিয়ে নিয়ে যাওয়া ওর পক্ষে সম্ভব নয়। হয়ত কথাটা ও খুব ভুল বলেনি। খুব কিছু দেরি হয়ে যায়নি। আমরা সম্পর্কটা বন্ধুত্বে বদলে নিতেই পারি। তাহলে দূরের শহর থেকে ও মাঝেমাঝে আমাকে ফোন করবে, নিজের কাজ-কারবারের কথা বলবে, আমার কাজের কথাও জানতে চাইবে। প্রয়োজনে সদুপদেশ দেবে বা কাজকর্মের পরিকল্পনা ঠিক করে দেবে। তারপর ও নিজেকে আমার বিশিষ্ট পরামর্শদাতা হিসেবে জাহির করবে।
 
ফোন করা শেষ হয়ে যাবার পর মাথাটা ঝিমঝিম করছিল – ওয়াইনের প্রভাবে। ঘুম আসবে না, তাই টিভি চালিয়ে কিছুক্ষণ পুলিশী সিরিয়াল, কিছুক্ষণ পুরোনো দিনের কমেডি আর সব শেষে অস্বাভাবিক মানুষদের নিয়ে একটা অনুষ্ঠান দেখলাম। ভোর পাঁচটার সময় টিভি বন্ধ করে শুতে গেলাম। ততক্ষণে আকাশ ফর্সা হয়ে এসেছে। সঙ্গে সঙ্গেই ঘুমিয়ে পড়লাম। 
 
সত্যি বলতে কি রাত শেষ হতে না হতেই, আমার স্বভাবের দোষের দিকগুলো নিয়ে আর চিন্তা করছিলাম না। ভোরের এই সময়ে আমি সাধারণত হারা-উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়ি, যেমন ধরুন খেয়াঘাটের দিকে, যেখানে শুধু জলরাশি আমাকে চারদিক থেকে ঘিরে রাখবে, যেখানে কোনও দুর্ভাবনাই আমাকে স্পর্শ করতে পারবে না। কিন্তু তবুও এই কঠিন প্রশ্নের জবাবটা বারবার নিজেকে জিগ্যেস করতে থাকব, হয়ত দু’এক ঘন্টা পর থেকেই, হয়ত বা দু’একদিন পর থেকে। প্রশ্নটা অনর্থক, কারণ এর সঠিক জবাব আমার জানা নেই, আবার অন্য কেউ যদি জবাব দেবার চেষ্টাও করে, সেটার সঙ্গে আমার ভাবনার গরমিল থাকবেই। হয়ত দুটো জবাব মেলালে সঠিক জবাব পাওয়া যেতে পারে, যদিও এরকম প্রশ্নের কোনও সঠিক জবাব হয় কী না সে আমার জানা নেই।

লেখক পরিচিতি: লিডিয়া ডেভিস – ( ১৫ জুলাই ১৯৪৭ – ) – জনপ্রিয় আমেরিকান ছোটগল্প রচয়িতা, ঔপন্যাসিক এবং প্রাবন্ধিক। কখনো কখনো ওঁর ছোটগল্পগুলি অত্যন্ত ছোট হয়। বহু পুরস্কারে ভূষিত। বর্তমান গল্পটির মূল নাম – A Few Things Wrong with Me. ১৯৮৬ সালে প্রকাশিত ছোট গল্প সংগ্রহ Break It Down থেকে নেওয়া। 
 

অনুবাদক পরিচিতি:

উৎপল দাশগুপ্ত
অনুবাদক। আলোকচিত্রী
কলকাতায় থাকেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *